সর্বশেষ সংবাদ:
Responsive image

দক্ষ জ্বালানী ব্যবহারের মাধ্যমে ইস্পাত খাতের দুষনমুক্ত উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে

প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: “ইস্পাত খাতে দক্ষ জ্বালানী ব্যবহারের মাধ্যমে দূষণমুক্ত উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরন” এর উপর জোর দিয়েছেন এ খাতের সঙ্গে জড়িতরা।

গতকাল শনিবার রাজধানীর ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত “ইস্পাত খাতে দক্ষ জ্বালানী ব্যবহারের মাধ্যমে দূষণমুক্ত উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ” বিষয়ক আলোচনা সভায় এ বিষয়ে জোর দেন তারা।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এর যৌথ অর্থায়নে মেটাবিল্ড প্রকল্প এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মেটাবিল্ড প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশে ধাতব শিল্পগুলোকে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সহায়তা করা, রিসোর্স এফিশিয়েন্ট ক্লিনার প্রোডাকশন (আরইসিপি) নীতির সুবিধা লাভ করা এবং এর দ্বারা উপযুক্ত কাঁচামাল ব্যবহার প্রচলন করা এবং কারখানায় অপচয় রোধ করা।

ঢাকা চেম্বারের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আকবর হাকিম অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন।

ইঞ্জিনিয়ার আকবর হাকিম বলেন, শিল্পখাতের উন্নয়ন ও উৎপাদনকে অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে জ্বালানী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যদিও আমাদের দেশের শিল্পখাত বিশেষ করে তৈরি পোষাক, টেক্সটাইল, সিমেন্ট, প্লাস্টিক পণ্য, সিরামিক, সার এবং ইস্পাত প্রভৃতি খাত সমূহে এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় জ্বালানী সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়নি।

তিনি বলেন, এ শিল্পখাত সমূহে চাহিদা মাফিক জ্বালানী সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হলে, আমাদের শিল্প খাতের উন্নয়ন আরো বৃদ্ধি পাবে, ফলে দেশের অর্থনীতির ধারা বেগবান হবে। তবে জ্বালানী আমাদের জন্য অফুরন্ত নয়, বরং ভবিষ্যতে জ্বালানীর উচ্চ মূল্যের কারণে শিল্প উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের সক্ষমতা হারানোর শংকা রয়েছে। এ বাস্তবতার আলোকে আমাদের শিল্পখাতে জ্বালানী, কেমিক্যাল এবং পানি সম্পদ ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানো ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের উপর তিনি জোরারোপ করেন। তিনি আরোও বলেন, এর মাধ্যমে ব্যবসায় ব্যয় হ্রাস পাবে ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। তিনি বলেন, সম্পদের টেকসই ব্যবহারের মাধ্যমে স্বচ্ছ উৎপদান অথবা রিসোর্স এফিশিয়েন্ট ক্লিনার প্রোডাকশন (আরইসিপি) কাঁচামালের কার্যকারিতার ধারণা এবং পরিচ্ছন্ন দ্রব্যের ধারণাকে একত্রিত করে।

তিনি আরও বলেন, আরইসিপি উৎসে কাঁচামালের অপচয় কমিয়ে শিল্প প্রতিষ্ঠানে প্রাকৃতিক/পরিবেশ বান্ধব কার্যক্রম বৃদ্ধি করার জন্য আরইসিপি একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া তত্বাবধান কওে সামগ্রিক উৎপাদন প্রক্রিয়ার উপর এবং কাঁচামালের আহরণ থেকে শুরু করে চূড়ান্ত উৎপাদন পর্যন্ত উৎপাদিত অপচয়ের উৎস শনাক্ত করতে এবং এগুলো দূর করতে বা কমাতে সহায়তা করে।

মেটাবিল্ড প্রকল্পের ম্যানেজার ও ঢাকা চেম্বারের যুগ্ম-সচিব এএসএম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, জ্বালানী নিরাপত্তা ও জ্বালানী ব্যবহারের দক্ষতা অর্থনীতির ক্রমবিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা শিল্পখাতে নিরবিচ্ছিন্ন জ্বালানী সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে, দ্রুত শিল্পায়ন সম্ভব হবে না।

তিনি আরোও বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানী সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনা করে, আমাদেরকে অবশ্যই দক্ষ জ্বালানী ব্যবহারের মাধ্যমে ইস্পাত খাতের দুষনমুক্ত উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল মার্চেনডাইজ ম্যানুফেকচার্স এসোসিয়েশন-এর সভাপতি মোহাম্মদ আফতাব জাভেদ, বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল ক্যাবল ম্যানুফেকচার্স এসোসিয়েশন-এর ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন, বাংলাদেশ অটো রি রোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলস এসোসিয়েশন-এর মহাসচিব মোঃ শহীদুল্লাহ বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এর সুইচ এশিয়া প্রোগ্রাম এর কমিউনিকেশনস অ্যান্ড নেটওয়ার্ক এক্সপার্ট ড. উই উইবার এবং সিলভিয়া সারটোরি এসময় উপস্থিত ছিলেন এবং সুইচ এশিয়া প্রোগ্রাম সম্পর্কে ধারণ প্রদান করেন।

আলোচনা সভায় ডিসিসিআই মহাসচিব এএইএম রেজাউল কবির বলেন, ক্রেতাসাধারণের সুলভ মূল্য নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে জালানী অপচয় রোধ করার এ ধরণের উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকরী। তিনি ধাতব শিল্প খাতের উদ্যোক্তাদের এ প্রকল্পে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান। ইস্পাত ও ধাতব শিল্প খাতের প্রায় ২০টি প্রতিষ্ঠানের ৪০ জন প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

(এসএএম/ ২৭ আগস্ট ২০১৭)

Short URL: http://biniyougbarta.com/?p=23729

সর্বশেষ খবর