Responsive image

দেশে অনলাইনে পণ্য বিক্রির ধুম

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা: দেশে অনলাইনে পণ্য কেনাবেচা বা ই-কমার্স ব্যবসা এমনিতেই দিন দিন বাড়ছিল। করোনার আতঙ্ক সেই গতি অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দে থাকার জন্য মানুষ ঘরে বসে অনলাইনে পণ্য কেনাকাটায় ঝুঁকছেন। মানুষের অনলাইননির্ভর কেনাকাটায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে পয়লা ফাল্গুন বা বসন্ত উৎসব ও ভ্যালেন্টাইনস ডে বা বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। করোনায় ফিকে হয়ে যাওয়া জীবনে উৎসবের রং যেন আবার ঝলমল করছে। উৎসবের এ সুবাতাস বইছে অনলাইন কেনাকাটায়। তাতে বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান এবং ফেসবুকভিত্তিক উদ্যোক্তারাও উৎসবে ব্যবহার্য পণ্যের পসরা সাজিয়ে রেখেছেন।

অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন ই–কমার্স প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও পণ্য বিক্রেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, এবার একক কোনো কোম্পানির বিক্রি বাড়ছে, এমনটা নয়। সবারই কমবেশি বিক্রি বেড়েছে।
অনলাইনভিত্তিক দেড় হাজার উদ্যোক্তার সংগঠন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহেদ বলেন, গত বছর করোনার কারণে অনলাইনে কেনাকাটা ব্যাপক হারে বেড়েছিল। পয়লা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষেও কেনাবেচা বেড়েছে অনলাইনে।

ই-ক্যাবের হিসাবে, বিদায়ী ২০২০ সালে অনলাইনে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে, যা ২০১৯ সালে ছিল ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে অনলাইনে পণ্য বিক্রি বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২০ সালে করোনার সময়ই ফেসবুকভিত্তিক উদ্যোক্তা বেড়েছে কয়েক হাজার। তাঁরাও নানা ধরনের বসন্তকে সামনে রেখে নানা পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন। আবার প্রতিষ্ঠিত অনেক ফ্যাশন হাউসও অনলাইনে পণ্য বিক্রিতে ঝুঁকেছে।

নারী ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের ফেসবুক প্ল্যাটফর্ম উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ফোরাম (উই)। বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলার ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তার বড় প্ল্যাটফর্ম এটি, যার সদস্য সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ। এই প্ল্যাটফর্মের উপদেষ্টা ও ই-ক্যাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাজীব আহমেদ জানান, বসন্ত উপলক্ষে এবার গত ১৫ জানুয়ারি থেকে বসন্ত ওয়েভ ক্যাম্পেইন শুরু করেন নারী উদ্যোক্তারা। এতে মানুষ খুব ভালো সাড়া দিয়েছেন। ইতিমধ্যে তিন থেকে চার কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে। প্ল্যাটফর্মটিতে পোশাকের পাশাপাশি নানা ধরনের গয়নার চাহিদা বেশি।
জানতে চাইলে বৃহৎ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান দারাজ বাংলাদেশের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান সায়ন্তনী তিশা বলেন, বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে গ্রাহকেরা উপহারসামগ্রী ও ফ্যাশন আইটেমগুলোকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। উৎসব উপলক্ষে দারাজের এবারের ক্যাম্পেইনে প্রতিদিন যে পরিমাণ অর্ডার এসেছে, তা আগের ক্যাম্পেইনগুলোর চেয়ে দ্বিগুণ।

এই খাতের উদ্যোক্তারা আশা করেন, অনলাইনে পণ্য কেনাবেচার যে প্রবণতা ও অভ্যস্ততা তৈরি হয়েছে, তার একটি বড় অংশ ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে। ই-কমার্সভিত্তিক অনলাইন কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান ই-কুরিয়ার লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী বিপ্লব ঘোষ বলেন, দুটি উৎসব ঘিরে গত দুই-তিন মাসের তুলনায় চলতি মাসে বিক্রি বেড়েছে। সব মিলিয়ে গত বছরের তুলনায় দৈনিক পার্সেল পাঠানোর পরিমাণ ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

(ডিএফই/১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১)

Short URL: https://biniyougbarta.com/?p=137408

সর্বশেষ খবর