Responsive image

বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও প্রাকটিক্যাল করতে হবে: সৈয়দ শাফকাত আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা: বিনিয়োগ শিক্ষার সম্প্রসারণে শুধু থিউরিটিক্যাল জ্ঞান নয়. বরং প্রাকটিক্যালভাবে এ শিক্ষা দিয়ে আরও বেশি মানুষকে পুঁজিবাজরে আসতে উৎসাহিত করতে হবে মনে করেন এ বি সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শাফকাত হায়দার।

তিনি বলেন, বিনিয়োগ শিক্ষার মাধ্যমে পুঁজিবাজারের ভাল-মন্দ দিক সম্পর্কে মানুষকে ধারণা দিতে হবে। বাজারের নতুন নতুন প্রোডাক্ট, নতুন নতুন সেবা সম্পর্কে জানান দিতে হবে। এসব বিষয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে মার্কেটিং, ক্যাম্পেইন ও সভা-সেমিনার করতে হবে।

‘বিনিয়োগ শিক্ষার গুরুত্ব’ সম্পর্কে নিজের দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বলেন, রাজধানীর মতিঝিলে প্রধান কার্যালয় ছাড়াও চট্টগ্রাম ও সিলেটে আমাদের দুটো ব্র্যাঞ্চ রয়েছে। ব্র্যাঞ্চগুলোতে সারাবছরই কাস্টমারদের বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হয়। এসবের মধ্যে বিনিয়োগ শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়াদি অন্যতম। আমাদের কর্মকর্তারা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পুঁজিবাজার সংক্রান্ত নানা বিষয়াদি নিয়ে কাউন্সিলিং করে থাকেন। তাদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসার সঠিক উত্তর দেওয়ার চেষ্ঠা করেন। এছাড়া আমাদের নিজস্ব রিসার্স ডিপার্টমেন্ট রয়েছে। এ টিমের মাধ্যমে আমাদের কাস্টমারদের সারাবছরই বিভিন্ন বেসিক বিষয়াদি সম্পর্কে জ্ঞান দিয়ে থাকি।

বিনিয়োগ শিক্ষার সম্প্রসারণে সামনে আমাদের বেশ কিছূ প্ল্যান রয়েছে। আমাদের ঢাকা অফিস ও ব্র্যাঞ্চগুলোতে আনুষ্ঠানিক ও নিয়মিতভাবে বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবো। এছাড়া সরকারি গাইডলাইন অনুসরণ করে দেশের বড় জেলাগুলোতে বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসারে আমরা কাজ করবো। এসব কাজে বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষদের শুধু থিউরিটিক্যাল জ্ঞান নয়; প্র্যাকটিক্যাল্লি পুঁজিবাজারের বিভিন্ন বিষয়াদি উপস্থাপন করা হবে। লাইভ দেখানো হবে। তাতে মানুষ আরও সহজভাবে বাজার সম্পর্কে জানতে পারবেন। প্রয়োজনে ভিডিওগ্রাফি উপস্থাপন করে হলেও তাদেরকে এসব বিষয় বুঝানোর চেষ্ঠা করতে হবে।

‘‘পৃথিবীর সব উন্নত দেশেই আর্থিক খাত সম্পর্কে সরকারি-বেসরকারিভাবে শিক্ষা দেওয়া হয় আমাদের এখনে বিষয়টি নতুন তাই এ বিষয়ে নীতি নির্ধারকসহ সংশ্লিস্ট সকলকে আরও বেশি পদক্ষেপ নিতে হবে।’’

মানুষ এখন সহজভাবে সবকিছু পেতে চায়। তাই বিনিয়োগ শিক্ষাকে এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে যেনো এতে মানুষের আকর্ষণ বাড়ে। ধরুন- আমরা মানুষকে বললাম মোবাইল বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘরে বসে ট্রেড করা যায়। কিন্তু কিভাবে এই ট্রেডটি করতে হবে তা তাদেরকে প্রাকটিক্যাল দেখানো হলো না। তাতে মানুষ শুধু বিষয়টি জানলো। কিন্তু কিভাবে মোবাইল বা ইন্টারনেটের ব্যবহার করে ট্রেড করা যায় তা যদি বাস্তবিকভাবে তাদেরকে দেখানো হতো তাহলে তারা আরও বেশি উপকৃত হতেন এবং এ ধরনের ট্রেডে উৎসাহী হয়ে উঠতেন। এরফলে একজন বিনিয়োগকারী তার পরিবারে কিংবা হাতের কাছে অবস্থান করা আরও কয়েকজনকে এটি শিখাতে পারবেন। আর এতে বাজারে নতুন বিনিয়োগকারী সৃষ্টি হবে। তাই আমি বলবো শুধু থিউরিটিক্যাল নয়; বরং প্রাকটিক্যালভাবে বিনিয়োগ শিক্ষার সম্প্রসারণ করতে হবে।

‘‘বিনিয়োগ শিক্ষার মাধ্যমে পুঁজিবাজারের ভাল-মন্দ দিক সম্পর্কে মানুষকে ধারণা দিতে হবে বাজারের নতুন নতুন প্রোডাক্ট, নতুন নতুন সেবা সম্পর্কে জানান দিতে হবে এসব বিষয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে মার্কেটিং, ক্যাম্পেইন ও সভা-সেমিনার করতে হবে।’’

বিশেষকরে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এদেশের মানুষজন আর্থিক স্বাক্ষরতা সম্পর্কে এত বেশি সচেতন নয়। এখানো এখনো বেশিরভাগ মানুষ হুজুকে বিনিয়োগ করে থাকে। তাই বিনিয়োগের ভাল-মন্দ দিক সম্পর্কে তাদেরকে জ্ঞান দিতে হবে। পুথিবীর সব উন্নত দেশেই আর্থিক খাত সম্পর্কে সরকারি-বেসরকারিভাবে শিক্ষা দেওয়া হয়। আমাদের এখনে বিষয়টি নতুন। তাই এ বিষয়ে নীতি নির্ধারকসহ সংশ্লিস্ট সকলকে আরও বেশি পদক্ষেপ নিতে হবে।

আরেকটি কথা হলো- দেশের সকল মানুষকেতো আর একসঙ্গে শিক্ষিত করা যাবে না। তাই এমনভাবে একজনকে গড়ে তোলতে হবে যেনো তিনি আরও পাঁচজনকে তা শিখাতে পারেন। বিনিয়োগকারীরা এসব প্রাকটিক্যাল বিষয়াদি থেকে পুঁজিবাজারের কার্যক্রম সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে ও শিখতে পারবেন। এসবের মাধ্যমে বাজারে আরও বেশি নতুন বিনিয়োগকারী আসতে উৎসাহিত হবে এবং শিক্ষিত ও সচেতন বিনিয়োগকারী তৈরী হবে।

‘‘বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসারে আগামী দিনে সরকারি গাইডলাইন অনুসরণ করে দেশের বড় জেলাগুলোতে আমরা কাজ করবো এসব কাজে বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষদের শুধু থিউরিটিক্যাল জ্ঞান নয়; প্র্যাকটিক্যাল্লি পুঁজিবাজারের বিভিন্ন বিষয়াদি উপস্থাপন করা হবে।’’

আর বিনিয়োগ শিক্ষা শুধু সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্যই যে করতে হবে তা কিন্তু নয়। এ ধরনের শিক্ষা সকল অংশীজনের জন্য প্রয়োজনীয়। বাজারে তালিকাভূক্ত কোম্পানিসমূহের উদ্যোক্তা বা তাদের প্রতিনিধি, ব্রোকারেজ হাউজ বা মাচেন্ট ব্যাংক কিংবা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধি, স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য বিনিয়োগ শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। এরফলে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সকলেই উয়াকিবহাল হতে পারবেন। এছাড়া বিনিয়োগকারীদেরও বঞ্চিত বা প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা কমে আসবে।

তবে এসব কাজে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জসহ সংশ্লিষ্ট মহলের সহযোগিতা লাগবে। পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। একইসঙ্গে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পৃথক টিম গঠন করে মনিটরিং করতে হবে।

প্রসঙ্গত, সৈয়দ শাফকাত আহমেদ পুঁজিবাজারের দীর্ঘদিন যাবত সাথে যুক্ত রয়েছেন। তার রয়েছে রিসার্চ, পোর্টফলিও, মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজে কাজ করার অভিজ্ঞতা। এবি সিকিউরিটিজের সিইও হিসেবে যোগদানের আগে পুঁজিবাজারের আরেক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান এমটিবি সিকিউরিটিজে ডেপুটি সিইও হিসেবে কাজ করেছেন। পুঁজিবাজারে তার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছে ইপিএল (বর্তমানে ব্র্যাক ইপিএল) বিনিয়োগ বিশ্লেষক হিসেবে। এরপর কাজ করেছেন এবি ব্যাংকের ইনভেস্টমেন্ট শাখার রিসার্চ ডিপার্টমেন্টে, এরপর এবি ব্যাংক ইনভেস্টমেন্টের হেড অব বিজনেস, কাজ করেছেন ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের হেড অব পোর্টফলিও হিসেবে। গত বছরের ২৬ আগস্ট এবি সিকিউরিটিজে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়েছেন তিনি। যোগ দেওয়ার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটিকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছেন। ফিরিয়ে আনতে চান হারানো গৌরব। তার কিছু নজিরও ইতোমধ্যে স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটিকে ৩৬তম থেকে নিয়ে এসেছেন শীর্ষ দশে।

(এসআর/ডিএফই/এসএএম/ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০)

Short URL: https://biniyougbarta.com/?p=122275

সর্বশেষ খবর