নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তাঃ ডোমেইন বরাদ্দ নিয়ে বাংলাদেশ টেলি কমিউনিকেশন রেগুলেটরিকে কমিশনকে (বিটিআরসি) আরও সতর্ক হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
তিনি বলেন, আইপি টিভি রেজিস্ট্রেশন দেয়ার দায়িত্ব হচ্ছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু তারা ডোমেইন বরাদ্দ পায় বিটিআরসি থেকে। ডোমেইন বরাদ্দ দেয়ার আগে এখন থেকে অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর আমরা টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিটিআরসির সাথে ত্রিপক্ষীয় একটি বৈঠক করবো। তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে এ বিষয়ে আমরা কাজ করবো।
সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) ‘বিএসআরএফ বার্তা’র মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা বলেন।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচন সরকার করে না। এটি নিরআচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়। আগামী নির্বাচনও সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার ভয়ে খালেদা জিয়াকে স্থায়ীভাবে মুক্ত করছে না- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারকে বহু আগেই ধন্যবাদ দেয়া প্রয়োজন ছিল বিএনপির। কারণ বিএনপি নেত্রী খালদা জিয়া জামিনে মুক্তি পাননি কিংবা আদালত কর্তৃক খালাসও পাননি। প্রধানমন্ত্রী আইনে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে সাজা স্থগিত করেছেন। সেই কারণে তিনি কারাগারের বাইরে আছেন। এজন্য তো বিএনপির শুকরিয়া আদায় করা উচিত, সরকারকে ধন্যবাদ দেয়া উচিত। এসময় সরকার চাইলে যে কোনো সময় খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিতের আদেশ বাতিল করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে, কিন্তু সরকার যে কোনো সময় চাইলে সেই আদেশ বাতিল করতে পারে। সেই আদেশ যদি আগামীকাল বাতিল হয়, আগামীকালই খালেদা জিয়াকে কারাগারে ফেরত যেতে হবে। এটিও বিএনপির মনে রাখা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন- এ বিষয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপির নেতারা সাড়ে ১২ বছর ধরে এ দাবি করে আসছেন এবং জনগণকে আহ্বান জানিয়ে আসছেন। কিন্তু জনগণ তো তাদের আহ্বান সাড়া দেয়নি। সাড়া দেয়ার কোনো কারণও নেই। বাংলাদেশে সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারই নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচন কখনও সরকারের অধীনে হয় না, নির্বাচন হয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে। যখন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় তখন সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাদের চাকরি নির্বাচন কমিশনের হাতে ন্যস্ত হয়। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সরকার একজন পুলিশ কনস্টেবলও বদলি করতে পারে না। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ইতোপূর্বে বহু নির্বাচন অত্যন্ত সফলভাবে করেছে।’
তিনি বলেন, ‘সেজন্য বিএনপিকে বলব, এই ধরনের ফাঁকা বুলি আউরিয়ে কোনো লাভ হবে না। সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন হবে।’
অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও আইপি টিভি বন্ধে হাইকোর্টের রায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা রায় বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে দিয়েছি। তবে ঢালাওভাবে নয়; আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যাচাই-বাছাই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এটি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু আইপি টিভি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলব বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কোনো সংস্থা চাইলে যে কারো ব্যাংক হিসাব তলব করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে সংগঠনের নাম উল্লেখ করে কেন তলব করা হয়েছে এবং কেনইবা মিডিয়ায় প্রচার করা হয়েছে- তা অনেকের মতো আমারও প্রশ্ন।
এ সময় বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি তপন বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হকসহ ফোরামের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিনিয়োগবার্তা/এসএএম