মাহাবুবুল আলম সিদ্দিকী: বাংলাদেশের পূঁজিবাজারে কিছু কোম্পানির দুস্ট পরিচালনা পর্ষদ আর দূর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগকারীরা অনেকেটা-ই অসহায়। কোম্পানির প্রফিট থেকে ডিভিডেন্ড প্রদানের কোন নিয়ম-নীতি না থাকায় কোম্পানিগুলো ভাল প্রফিট করার পরও ডিভিডেন্ড দেয়না, আবার কিছু কোম্পানি নামমাত্র ডিভিডেন্ড দেয়- যা প্রফিটের তুলনায় খুবই সামান্য।
কোম্পানির এমন স্বেচ্ছাচারিতায় ‘নো ডিভিডেন্ড’ ঘোষিত কোম্পানিগুলোর দর এমনভাবে পড়ে যাচ্ছে যে, লাখ লাখ বিনিয়োগকারী পূঁজি হাড়িয়ে পথে বসছে। কিন্তু দেখার যেন কেউ নেই। আমি একটা বিষয় মনে করিয়ে দেই, যে শেয়ারগুলো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করবে বা ইপিএস ঘোষণা করবে সেগুলো ঘোষণা দেখার পর এবং ভাল ডিভিডেন্ডের পরেও ১ম প্রান্তিকের ভাল ইপিএস দেখে যেকোনো শেয়ারে পজিশন নিলে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হবে।
অনেক সচেতনতার সাথে আমরা কিছু শেয়ারের পূর্বের আর্থিক প্রতিবেদনের ধারাবাহিকতা পর্যালোচনা করে ধরেই নেই- ডিভিডেন্ড এবং ইপিএস অনেক ভাল আসবে। কিন্ত আমাদের হিসাব ও ধারণা ভুল প্রমান করে দিচ্ছে কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদের হঠকারী এবং স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত।
তাই এই বাজারে বিনিয়োগে রিস্ক কমিয়ে আনতে বিনিয়োগকারীদের আরও সতর্ক থাকতে হবে। সামনে ডিভিডেন্ড এবং ইপিএস ঘোষণা আসবে এমন শেয়ারহোল্ডিংসে না রেখে যেগুলো ইতিমধ্যে ভাল ইপিএস এবং ডিভিডেন্ড ঘোষণা হয়ে গেছে সেগুলোতে ঝুকি কমিয়ে বিনিয়োগ সুইচ করা যেতে পারে।
বর্তমান সময়ে বিভিন্ন কোম্পানির ডিভিডেন্ড প্রদানের ক্ষেত্রে এমন সংকীর্ণ এবং হীন মানষিকতা, এমন প্রতারণা সবার জন্যই একটা বাজে অভিজ্ঞতা। সামনের দিনগুলোতে এই=সব অভিজ্ঞতা যেন সবার জন্য অধিক সতর্কতা অবলম্বনে এবং সঠিক পথে চলতে সহায়ক হয়।
লেখক: মাহবুবুল আলম সিদ্দিকী, পুঁজিবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী।