পলাশ

সজনে গাছ হয়ে উঠুক মৌমাছির নতুন পর্যটন গন্তব্য

শামসুল মোমেন পলাশ: আমরা জানি যে, আমার আপনার খাবারের প্রতি ৩ লুকমার ১ লুকমা খাবার যোগান দেয় মৌমাছি পরাগায়নের মাধ্যমে? গড়ে পৃথিবীতে মানুষপ্রতি ২৭০টি মৌমাছি রয়েছে। এরা মানুষ থেকে শুরু করে উদ্ভিজ্জ খাবারের উপরে নির্ভরশীল সকল প্রাণীর খাদ্য উৎপাদনকে ত্বরান্বিত ও সফল করে তুলে। বলতে গেলে এরাই আমাদের খাদ্য শিল্প ব্যাবস্থার সবচেয়ে বড় নিয়ামক, যাদের কাছে আমাদের ঋণের পরিমান এতো বেশি যে আমরা তা কখনই শোধ দিতে পারব না। অযথা সময় নষ্ট না করা এই ক্ষুদ্র প্রাণীগুলো প্রতিটা সেকেন্ডে দিয়ে যাচ্ছে আমাদেরকে সেবা। আমরা শুধু সেবাই নিচ্ছি একবারও কি ভেবেছি কিভাবে পাচ্ছি এই সেবা।

যুক্তরাষ্ট্রে দেখেছি, বা দেশেও এমন বিরল মানুষ দেখেছি যারা প্রসেসড চিকেন চিনে কিন্তু জীবন্ত মুরগী দেখেনি কখনো। এভাবেই শুরু হয় প্রকৃতির সাথে দূরত্ব, ধিরে ধিরে অজান্তেই আচরণগত বৈরিতা। আমাদের দরকার আবার নিজেকে প্রকৃতির কোলে আবিস্কার করা। আমরা কোলে থেকেও অনুভব করতে পারছি না যে প্রকৃতির কোলে আশ্রয় নেয়া ছাড়া আমাদের গতি নাই কোন।

আমার আপনার জন্য সে কত বন্ধুর ভুমিবৈচিত্র্য অতিক্রম করে যোগার করে নিয়ে আসে ফুলে সঞ্চিত অমৃত কণা। কনায় কনায় সঞ্চিত অমৃত মৌমাছির মুখ নিঃসৃত লালা-ভালবাসার মিশ্রণে পরিণত হয় তীব্র মিষ্ট সান্দ্রতার অতুলনীয় মধুতে। একটি মৌমাছি সারা জীবনে গড়ে এক চা চামচের ১২ ভাগের ১ ভাগ মধু সংগ্রহ করে। কত ক্ষুদ্র পরিমান, কিন্তু এদের সংখ্যাটা বিশাল। বিশাল মৌমাছি বাহিনীর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রয়াসে ফলে ফসল, জুটে মধু, মিটে ক্ষুধা এবং বাড়ে সুস্থতা।

পৃথিবীতে আনুমানিক ২০০০০০০০০০০০০ (২ ট্রিলিয়ন) সংখার মৌমাছি বিরাজমান, যারা দূষণের তাণ্ডবে বিলুপ্তির শঙ্কায় পর্যবসিত। আইনস্টাইন বলেছিলেন যে, পৃথিবীতে মৌমাছি বিলুপ্তির ৪ বছরের ভেতর মনুষ্য প্রজাতিও বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এমন যেন না হয়, আমরা যেন বুঝতে পারি আমাদের ত্রুটিযুক্ত আচরন! 

মাটি পানি বাতাস দুষিত কিনা তা পরীক্ষার সবচাইতে সহজ উপায় বলতে আমি বুঝি যে, নিজের এলাকার মধু পরীক্ষা করলেই বেরিয়ে আসবে আমার আশপাশে কতটা দূষণ সহ্য করে চলছি আমি।

উগান্ডা, কাশ্মীরে চলছে সজনে বাগানে মধু চাষ, ওখানকার কৃষকরা বলছে এই মধুতে রয়েছে এমন প্রতিরোধ ক্ষমতা যা অন্য কোন ফুলের মধুতে নাই। কথাটা তাত্ত্বিকভাবে সত্য। সজনে চাষ করলে কার্বন মুক্ত বাতাস মিলে, মাটিতে মিলে সুস্থতা ও উৎপাদনশীলতা, পানি হয়ে উঠে পঙ্কিলতা মুক্ত।

তাই আসুন বেশি বেশি সজনে লাগাই। গড়ে উঠুক মৌমাছির নতুন নতুন পর্যটন গন্তব্য।

৫০০ কোটি সজনের স্পর্শে পৃথিবী আবার সজীব হয়ে উঠুক! আমার আপনার প্রজন্ম নিশ্বাসে নিক সীসা-পারদ-কার্বন-সালফার মুক্ত জীবন সঞ্জীবনী নির্মল বাতাস!

লেথক: আহ্বায়ক, গ্রীণবাংলা কোয়ালিশন, ইনডেপেন্ডেট গ্লোবাল ক্লাইমেট একটিভিস্ট।


Comment As:

Comment (0)