মিহির

বিশ্ব খাদ্য দিবস ও বৈশ্বিক সংকট

ড: মিহির কুমার রায়: বিশ্বব্যাপী খাদ্য শস্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, উৎপাদিত শস্যের সরবরাহ ব্যবস্থাকে সহজতর করা এবং বণ্টনের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গড়ে ওঠে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বা এফএও যার প্রতিষ্ঠাকাল  ১৯৪৫ সালের ১৬ অক্টোবর এবং এ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ১৯৭৯ সালে এই দিনটিতেই ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো একযোগে এ দিবসটি পালন করে থাকে। প্রতি বছরই এ দিবসটিকে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতায় ভরপুর করে রাখে এফএও এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলো। বিশ্বব্যাপী খাদ্য জোগান ও ক্ষুধা সংক্রান্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে অধিকতর সচেতন করাই দিবসটি পালনের প্রধান উদ্দেশ্য। এই দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘কাউকে পশ্চাতে রেখে নয়, ভালো উৎপাদনে উত্তম পুষ্টি, সুরক্ষিত পরিবেশ এবং উন্নত জীবন।

সম্প্রতি ব্যাপক খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কায় পড়েছে এশিয়া ও আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশ, বাইরে থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে আগামী বছর দেশগুলোয় খাদ্য ঘাটতি বড় সংকটের আকার নেবে বলে আশঙ্কা করছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিসংস্থা (এফএও)। মারাত্মক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার হুমকিতে থাকা এসব দেশের  তালিকায় নাম রয়েছে বাংলাদেশেরও। বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করছে এফএও। গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত সংস্থাটির ক্রপ  প্রসপেক্টস অ্যান্ড ফুড সিচুয়েশন শীর্ষক প্রান্তিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৪৫টি দেশে ঘাটতিজনিত মারাত্মক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা এখন সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে এশিয়া মহাদেশভুক্ত দেশ আছে নয়টি, বাংলাদেশসহ যার তিনটিই আবার দক্ষিণ এশিয়ার। জলবায়ু পরিবর্তন ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অভিঘাতে চাপে পড়েছে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা। জ্বালানি সংকট ও আন্তর্জাতিক পণ্য বাজারের অস্থিরতায় ক্রমেই জটিল রূপ নিচ্ছে পরিস্থিতি। বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেছে সার ও কৃষি পণ্যের সরবরাহ চেইনেও। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোয় অভ্যন্তরীণ নানা প্রভাবক এ সংকটকে স্থানীয় পর্যায়ে আরো মারাত্মক করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন এক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীদিনের সম্ভাব্য মহামন্দা ও দুর্ভিক্ষের জন্য সবাইকে সতর্ক করেছেন এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে তিনি বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের দেশের বাড়িতে খরচ পাঠাতে বলেছেন, যেন এক ইঞ্চি জমিও পতিত রাখা না হয়। এর আগেও তিনি বিভিন্ন ভাষণে কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি ও জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন যা গত ১২ অক্টোবরের ‘বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কার’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রদত্ত ভাষণেও তিনি এ বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেছেন। অর্থনৈতিক এ সংকটকেই বাংলাদেশে সম্ভাব্য মারাত্মক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার প্রথম অনুঘটক হিসেবে চিহ্নিত করেছে এফএও। সংস্থাটির বক্তব্য হলো কভিডের অভিঘাতে অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন। সে সময় দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও দারিদ্র্যে যে প্রভাব তৈরি হয়েছিল, তা এখনো কাটিয়ে ওঠা যায়নি। এর মধ্যেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা আরো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পণ্য বাজারেও অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে মূল্য পরিস্থিতি। সব মিলিয়ে খাদ্যের প্রাপ্যতা ও প্রবেশাধিকার-সংক্রান্ত আগেকার যাবতীয় পূর্বাভাসের চেয়েও পরিস্থিতি এখন অনেক বেশি খারাপ। বিশেষ করে খাদ্য ঘাটতি পূরণে আমদানি নির্ভর দেশগুলো এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বিপদে রয়েছে। এসব দেশে একদিকে যেমন খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়ছে অন্যদিকে স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়নও হচ্ছে ব্যাপকহারে।

বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেইজ ক্ল্যাসিফিকেশন (আইপিসি)। ২০০৯-১৯ পর্যন্ত ১০ বছর সময় নিয়ে দেশের সব জেলার খাদ্য নিরাপত্তার চিত্র বিশ্লেষণ করেছে সংস্থাটি। গবেষণায় পাওয়া ফল সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ আইপিসি ক্রনিক ফুড ইনসিকিউরিটি রিপোর্ট’ শিরোনামে প্রকাশ হয়েছে। এতে  খাদ্য নিরাপত্তাহীনতাকে চারটি স্তরে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে বছরে দু-চার মাস দিনে গড়ে এক বেলা পর্যাপ্ত ও মানসম্মত খাদ্যের অভাবকে তৃতীয় স্তরের বা মধ্যম মাত্রার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। বছরে চার মাস বা তার বেশি সময় দিনে এক বেলা পর্যাপ্ত ও মানসম্মত খাদ্যের অভাবকে বর্ণনা করা হয়েছে চতুর্থ স্তরের বা গুরুতর খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা হিসেবে। আইপিসির হিসাব অনুযায়ী, দেশের প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ এখন মধ্যম ও গুরুতর মাত্রার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, যা মোট জনসংখ্যার ২১ শতাংশ। এফএওর প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এ হার আরো বেড়ে মারাত্মক আকার ধারণের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটও (আইএফপিআরআই) মনে করছে, কভিডের অভিঘাত কাটিয়ে ওঠার আগেই ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব দেশেরখাদ্য নিরাপত্তায় বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছে। সংস্থাটির এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী খাদ্য, জ্বালানি ও সারের দামে এক ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এ ভারসাম্যহীনতায় আরো প্রভাব ফেলেছে। এতে উন্নয়নশীল দেশ ও তাদের উন্নয়ন সহযোগীরা  অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, খাদ্য নিরাপত্তা ও দারিদ্র্যের হারে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছে। বাংলাদেশেও খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টিকর খাদ্যের সমতা নষ্টের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে গ্রামীণ খানাগুলোয় খাদ্যের পেছনে ব্যয় কমিয়ে পুষ্টির ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

এই ধরনের একটি পরিস্থিতিতে বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে  বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচী পালিত হয়েছে এবং আয়োজকগন বিগত সময়ে কৃষি খাতে সরকারের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে দেখিয়েছেন কৃষিমুখী নীতির কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ সত্যেও গত এক দশকে দেশে ধারাবাহিকভাবেই কৃষি খাতে উৎপাদন বেড়েছে। এই উৎপাদন বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখছে  কৃষি খাতে নানামুখী সংস্কার এবং যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ফলে দেশের কৃষি ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। এটি সম্ভব হয়েছে কৃষি খাতের প্রতি প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার বিশেষ নজর দেয়ার কারণেই। তাছাড়াও উচ্চ ফলনশীল ও প্রতিকূলতাসহিষ্ণু নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন বিশেষ করে, খাদ্যশস্য, সবজি ও ফল উৎপাদনে এসেছে  বৈচিত্র্য। কোভিড-১৯ অভিঘাত সত্ত্বেও দেশে কৃষির উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত থাকায়, শুধু খাদ্য নিরাপত্তাই নিশ্চিত হয়নি, অর্থনীতির ভিত্তিও শক্তিশালী থেকেছে। তিন দফা বন্যা  ও বর্ষায় বৃষ্টিহীনতার ধকল কাটিয়ে দেশের কৃষি খাত ঘুরে দাঁড়াতে গিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের কৃষিও নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, কৃষি খাতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে বিশেষত: আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম দুই থেকে তিন গুণ বেড়ে যাওয়ার কারনে। তারপরও খাদ্য শস্য   উৎপাদন বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে যেমন ২০০৮-০৯ সালে যেখানে মোট খাদ্য শস্য উৎপাদন ছিল ৩ কোটি ২৮ লাখ ৯৬ হাজার মেট্রিক টন, সেখানে ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে  দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ৮৮ হাজার মেট্রিক টন। এ সময়ে চাল উৎপাদন বেড়েছে ২৯ শতাংশ, গম উৎপাদন বেড়েছে ৩৭ শতাংশ এবং ভুট্টা উৎপাদন বেড়েছে ৬৭১ শতাংশ। চাল উৎপাদন ৩ কোটি ১৩ লাখ ১৭ হাজার টন থেকে বেড়ে ৪ কোটি ৪ লাখ ৯১ হাজার টন হয়েছে, গম উৎপাদন ৮ লাখ ৪৯ হাজার টন থেকে বেড়ে হয়েছে ১১ লাখ ৬৭ হাজার টন এবং ভুট্টা উৎপাদন বেড়ে হয়েছে ৭ লাখ ৩০ হাজার টন থেকে ৫৬ লাখ ৩০ হাজার টন, আলু উৎপাদন বেড়েছে ১১০ শতাংশ, ডাল উৎপাদন বেড়েছে ৩২৮ শতাংশ,  তেল বীজ উৎপাদন বেড়েছে ৮৬ শতাংশ, সবজি উৎপাদন বেড়েছে ৬৪৫ শতাংশ এবং পেঁয়াজ উৎপাদন বেড়েছে ৩৯৫ শতাংশ।

এখানে উল্লেখ্য বাংলাদেশ বিশ্বে ধান উৎপাদনে  ৩য়, সবজি ও পেঁয়াজ উৎপাদনে ৩য়, পাট উৎপাদনে ২য়,  চা উৎপাদনে ৪র্থ এবং আলু ও আম উৎপাদনে ৭ম স্থানে ও ইলিশ মাছ উৎপাদনে ১ম স্থানে উঠে এসেছে। এই  সাফল্যের পিছনে রয়েছে উচ্চ ফলনশীল ও প্রতিকূলতা সহিষ্ণু নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন ও প্রবর্তন, সার ব্যবস্থাপনায় সংস্কার, কৃষকবান্ধব সরকার সারের আমদানি  মূল্যের ওপর উন্নয়ন সহায়তা (ভর্তুকি) প্রদান, খামার যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে সরকার কৃষিকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ গ্রহণ, সরকার সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের জন্য দেশের  বিভিন্ন এলাকায় নানামুখী প্রকল্প বাস্তবায়ন, চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলায় ভরাশঙ্খ খালে এবং কক্সবাজার জেলার চকোরিয়ায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর  দুইটি হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম নির্মাণ কাজ সমাপ্তকরন, সরকার কৃষককে পণ্য উৎপাদনে উৎসাহ প্রদানের পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণের জন্য কৃষি বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়নেও জোরদার, উৎপাদিত কৃষিজাত পণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারজাতকরণ ও সংরক্ষণে বেসরকারি উদ্যোগকে উৎসাহিত করার জন্য  মডেল হিসেবে বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো সুবিধা নির্মাণ করা, কীটনাশকমুক্ত শাক-সবজির যোগান দিতে চালু করা হয়েছে ‘কৃষকের বাজার।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩০ হাজার ৯১১ কোটি টাকার ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২২ লক্ষ ৪৫ হাজার ৫ শত ১২ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষী বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ১৭ হাজার ৬ শত ৪০ কোটি টাকা কৃষি ঋণ প্রদান, করোনা মোকাবিলায় কৃষি ঋণের সুদের হার হ্রাস করে ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদে ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা কৃষি ঋণ প্রদানের জন্য তহবিলের ব্যবস্থা করা, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকার কৃষকদের প্রণোদনা ও কৃষি পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা,  কৃষকের উৎপাদন খরচ নিম্ন পর্যায়ে রাখতে সরকার সার, সেচ কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ ও ইক্ষু চাষে উন্নয়ন সহায়তা (ভর্তুকি) প্রদান করা, পুরনো কম উৎপাদনশীল ধানের জাত  ব্রি ২৮ ও ২৯ এর পরিবর্তে উচ্চ উৎপাদনশীল নতুন জাত ব্রি ৮৮, ৮৯, ৯২ ও বঙ্গবন্ধু ধান ১০০ এর চাষ দ্রুত সম্প্রসারণ, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে দরিদ্রের জন্য  খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিও জোরদারকরন ইত্যাদি। 

বিশ্বের অর্থনীতি ক্রমেই সংকটের দিকে এগোচ্ছে এবং নিকট ভবিষ্যতে একটি অর্থনৈতিক মন্দা ও দূর্ভিক্ষের আশঙ্কা করছে অনেকে। গত ১০ অক্টোবর ওয়াশিংটনে শুরু হওয়া বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভায় এ শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। আবার গত ১১ অক্টোবর প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে একটি মারাত্মক অর্থনৈতিক মন্দার মুখোমুখি হতে পারে বিশ্ব অর্থনীতি। আর্থিক প্রবৃদ্ধির হার নেমে যেতে পারে ২ দশমিক ৭ শতাংশে। ২০২২ সালের প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপির পতন, দ্বিতীয়ার্ধে ইউরো এলাকায় সংকোচন এবং চীনে মন্দা এই প্রবৃদ্ধি হ্রাসের প্রধান কারণ। এর আগে গত ২০-২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এ সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তাছাড়া বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থাও আগামীতে একটি মন্দা ও খাদ্য সংকটের পূর্বাভাস দিয়ে আসন্ন দূর্ভিক্ষের জন্য সবাইকে সতর্ক হতে বলেছে। বিশ্ব ব্যাংক জানাচ্ছে, গত অর্ধ শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে বড় মন্দা অতিক্রম করছে বিশ্ব অর্থনীতি। আগামী বছর তা আরও ঘনীভূত হতে পারে। ক্রমবর্ধমান খাদ্য, জ্বালানি ও আর্থিক সংকট দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিকে আরও উসকে দিতে পারে। বৃদ্ধি পেতে পারে ক্ষুধা, কর্মহীনতা ও দারিদ্র্। এর মধ্যে সবচেয়ে শঙ্কা তৈরি করছে খাদ্য সংকট। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির প্রতিবেদনে  উদ্বেগ প্রকাশ করে এই পরিস্থিতি সামলানোর তাগিদ দেয়া হয়েছে। 

এই ধরনের একটি পরিস্থিতিতে সরকার সাহসিকতার সাথে এগুচ্ছে এবং দেশের অভ্যন্তরে কৃষি পণ্যের মূল্য নির্ধারণ, রপ্তানি উৎসাহিতকরণ, আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও শুল্ক হার  যৌক্তিকীকরণ এবং অভ্যন্তরীন কৃষি পণ্যের বাজারে হস্থক্ষেপের নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাবে এ প্রত্যাশা রইল।

লেখক: গবেষক ও কৃষি অর্থনীতিবিদ।
 


Comment As:

Comment (0)