সর্বশেষ সংবাদ:
Responsive image

বিশ্বায়ন, বহুজাতিক কোম্পানি এবং বাংলাদেশ

মাহামুদুল হাসান: বিশ্বায়নের এই যুগে পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই বহুজাতিক কোম্পানির অস্তিত্ব দেখতে পাওয়া যায়। বিগত দশকগুলোতে এসকল কোম্পানির কার্যক্রম নিয়ে অর্থনীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানী, রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক সংগঠনের ভেতর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা লক্ষ্য করা গেছে, যা এখনও চলমান। প্রায় সময়ই এসব সংগঠনের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদ, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, দেশিয় শিল্প ধ্বংসের পায়তারা করার মত অভিযোগ আনা হয়।
উপনিবেশিকরনের ইতিহাসে বহুজাতিক কোম্পানির বেশ বড় ধরনের ভুমিকা পালন করতে দেখা যায়। ষোড়শ শতাব্দীর দিকে বহুজাতিক কোম্পানি গুলো বানিজ্যের অজুহাতে বিভিন্ন দেশে প্রবেশ করে এবং পরবর্তীতে অনেক দেশের রাজনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা শুরু করে।  British East India Company, the Swedish Africa Company, and the Hudson’s Bay Company ইত্যাদি বানিজ্যিক কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে উপনিবেশ স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করে। কিছু কোম্পানি আবার settler colony স্থাপনের মাধ্যমে সরাসরি উপনিবেশ স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করে। তখনকার সময়ের বহুজাতিক কোম্পানি গুলো ছিল খুব প্রভাবশালী। উপনিবেশ অঞ্চলের সম্পদ এবং শ্রমের লুণ্ঠন করে এসব কোম্পানি তাদের home countryতে নিয়ে যেত, যার কারনে colony দিন দিন গরীব হত আর home country হতো ধনী।

আমাদের উপমহাদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভুমিকা ছিল পুরোপুরি এরকম এবং এই কোম্পানির কার্যকলাপ থেকেই সেসময়কার বহুজাতিক কোম্পানির প্রভাবপ্রতিপত্তি এবং কুট ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে স্পষ্ট ধারনা পাওয়া যায়। কালক্রমে এসকল বহুজাতিক কোম্পানির প্রভাব দিন দিন কমতে থাকে। কিন্তু তারপরও বিভিন্ন নেতিবাচক ঘটনার কারনে বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানি বারবার সমালোচনার মুখে পড়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর পরিবেশ দূষণ, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন এবং রাজনীতিতে গোপনে হস্তক্ষেপ করার মত অভিযোগ আছে এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে। উদাহরণস্বরূপঃ ভারতে Union Carbaide  এর গ্যাস দুর্ঘটনা , চিলিতে গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আলেন্দের অপসারণে কয়েকটি শক্তিশালী বহুজাতিক কোম্পানির হস্তক্ষেপ , আফ্রিকাতে নেসলের বিতর্কিত বেবি ফুড ফর্মুলা ইত্যাদি।

বাংলাদেশ আয়তনে ছোট দেশ হলেও এর জনসংখ্যা অনেক বেশি বলে পণ্যের চাহিদাও অনেক বেশি। তাই বহুজাতিক কোম্পানিগুলো ব্যবসার জন্য বাংলাদেশের প্রতি সহজেই আকৃষ্ট হয়। তাছাড়া আফ্রিকা এবং লাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের মত বাংলাদেশে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ব্যবসায় করার জন্য প্রতিকুল আইনি জটিলতা অনেক কম মোকাবিলা করতে হয়, আর তাই বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এদেশে বিনিয়োগে বেশ আগ্রহী। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর অনেক শাখা কোম্পানি বাংলাদেশে আছে এবং নতুন করে তারা শাখা কোম্পানি খুলছে। দেশের টেলিকম, জ্বালানি, ওষুধ, প্রসাধনসামগ্রী ও খাদ্যজাত পণ্যবাজারের বড় অংশ দখল করে আছে বহুজাতিক কোম্পানি। দ্য রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসে (আরজেএসসি) নিবন্ধিত বহুজাতিক কোম্পানি রয়েছে ৩৫৫টি। দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে মুনাফার দিক দিয়ে সবার উপরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শেভরন। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৫০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে কোম্পানিটি। ২ নম্বরে থাকা গ্রামীণফোন লিমিটেড দেশের টেলিকম খাতের সবচেয়ে বড় কোম্পানি। তাদের গ্রাহক সংখ্যা ৪ কোটি ৩৯ লাখ ৭০ হাজার। ৩ নম্বরে থাকা ইউনিলিভার লিমিটেড ১৯৬৪ সালে চট্টগ্রামে কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে স্থায়ী ব্যবসা শুরু করে। দেশের প্রসাধনসামগ্রীর বাজারে শীর্ষে রয়েছে তারা। ব্যাংকিং খাতে বহুজাতিক কোম্পানির নেতৃত্ব দিচ্ছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন(এইচএসবিসি) লিমিটেড ও সিটিব্যাংক এনএ। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে মুনাফায় শীর্ষ তালিকায় থাকলেও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নেই তারা।

বাংলাদেশের এমন অনেক সেক্টরে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর শক্ত অবস্থান দেখা যায়। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর দেশের অর্থনীতিতে তাই বেশ গুরুত্বপূর্ণ অবদান স্বাভাবিক ভাবেই রাখার কথা। কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশের মত আমাদের দেশে বহুজাতিক কোম্পানি গুলোর কার্যকলাপ এবং ভুমিকা খুব গভীরভাবে বিশ্লেষণ এবং জনগণকে জানার সুযোগ করে দেওয়া হয় না। তাই আসলে এসব কোম্পানি আমাদের দেশের অর্থনীতির জন্য কতটা দরকারি অথবা ক্ষতিকর সে ব্যাপারে আমাদের সাধারন জনগণের তেমন কোন ধারনা নেই।

সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের অনেক বহুজাতিক কোম্পানির ব্যাপারে আমরা ভয়াবহ নেতিবাচক তথ্য পাচ্ছি।

আন্তর্জাতিক কয়েকটি গবেষণা সংস্থার মতে, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ট্রান্সফার প্রাইসিংয়ের মাধ্যমে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলার (১৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা) পাচার করে নিয়ে যায়। ওয়াশিংটনভিত্তিক সংগঠন ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট এক গবেষণায় জানিয়েছে, অবৈধভাবে বিদেশে অর্থপাচার হয়—এমন প্রধান ১০টি দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ।

সংস্থাটি ৪৮টি উন্নয়নশীল দেশের ট্রান্সফার প্রাইসিংয়ের ওপর গবেষণা করে এ তথ্য দিয়েছে।

বাংলাদেশের কৃষি খাতেও শক্তিশালী কিছু বহুজাতিক কোম্পানি বিপদজনক কার্যকলাপ চালাচ্ছে যা কিনা ক্রমাগত আমাদের কৃষি খাতকে পরনির্ভরশীল করে তুলছে এবং আমাদের কৃষি ও জৈব চিত্রকে ধ্বংসের মুখোমুখি করে তুলছে। জিএম প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের নিজস্ব বেগুনের নয়টি জাতকে জেনেটিকালি পরিবর্তিত করে এসব বীজের মালিকানাও নিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মনসান্তো কোম্পানি। জেনেটিক্যালি মডিফাইড (জিএম) আলুর ফিল্ড ট্রায়াল চলছে বাংলাদেশে, এই জিএম আলু প্রকল্প হচ্ছে মার্কিন সংস্থা USAID এর অর্থায়নে, উদ্দেশ্য এদেশের শস্যবীজের উপর মার্কিন কোম্পানির মনোপলি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। জেনেটিক্যালি মডিফাইড (জিএম) ধান গোল্ডেন রাইস, জিএম টমেটো, জিএম তুলাও আনার প্রক্রিয়া চলছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ এখন বহুজাতিক এগ্রো করপোরেশনের জিএম বাণিজ্যের উর্বর ভূমিতে পরিণত হচ্ছে। বহুজাতিক তামাক কোম্পানির প্রলোভনে পড়ে উত্তরবঙ্গের অনেক কৃষিভূমিতে এখন আবাদ করা হচ্ছে তামাক যা কিনা পরিবেশ, কৃষকের স্বাস্থ্য এবং জমির উর্বরতার জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর। কয়েকবছর আগেও জেসব জমিতে আবাদ করা হত রবি শস্য এখন সেসব জমিতে আবাদ করা হচ্ছে ক্ষতিকর তামাক। বহুজাতিক তামাক কোম্পানিরা কৃষকদের নামমাত্র মুল্যে সার, বীজ সহ সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করে; তাছাড়া প্রতি বিঘাতে অন্যান্য শস্যের তুলনায় তামাক চাষে কৃষক রা ৪০-৫০ হাজার টাকা বেশি লাভ করেন।এসকল কারনে উত্তরবঙ্গের কৃষকরা তামাক চাষের দিকে ক্রমাগত ঝুকে পড়ছে যা এসব অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য এবং পরিবেশকে হুমকির সম্মুখীন করে তুলছে প্রতিনিয়ত।

দেশের বাজারের বড় অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রনে থাকার পরও হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানি ছাড়া বেশিরভাগ বহুজাতিক কোম্পানি এখনও শেয়ারবাজারে প্রবেশ করে নি। যার কারনে এসব কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে বড় অংকের মুনাফা করলেও দেশের মানুষ এই মুনাফায় অংশীদার হতে পারছে না। সর্বশেষ ২০০৯ সালের নভেম্বরে গ্রামীণফোনের তালিকাভুক্তির পর ছয় বছরেও নতুন করে আর কোনো বহুজাতিক কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসেনি।

দেশীয় কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে তালিকাভুক্তির জন্য নানা শর্ত থাকলেও বিদেশী কোম্পানির ক্ষেত্রে নেই। অথচ বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রসাধনসামগ্রী, গ্যাস, ইন্স্যুরেন্স, ব্যাংকসহ অনেক বহুজাতিক কোম্পানিই অন্যান্য দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত। সরকারের যথাযথ উদ্যোগ ও আইনি দুর্বলতার কারণেই বহুজাতিক কোম্পানি বাজারে আসছে না।

বহুজাতিক এসকল কোম্পানি যে শুধু মাত্র দেশের জন্য নেতিবাচক ভুমিকা পালন করছে তা কিন্তু নয়। দেশের অর্থনীতি এবং সমাজে এসকল বহুজাতিক কোম্পানি অনেক ইতিবাচক ভুমিকাও পালন করে চলেছে। আমাদের দেশের ভোক্তাদের জীবন মান উন্নত করার পেছনে এসকল কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রয়েছে। এদেশের ভোক্তারা প্রযুক্তিগত অনেক পণ্য শুধু বহুজাতিক কোম্পানির কারনেই ব্যবহার করতে পারছে। বহুজাতিক কোম্পানির পণ্যের মানও সাধারণত বেশ ভাল হয়। দেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর জন্য আকর্ষণীয় কর্মসংস্থানের উৎস এসব বহুজাতিক কোম্পানি। দেশীয় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বহুজাতিক কোম্পানি তাদের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সুযোগ সুবিধা অনেক বেশি দেয়। অনেক বহুজাতিক কোম্পানি এদেশে উৎপাদন কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে দেশের জিডিপি তে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে। ব্যবস্থাপনা কলাকৌশল এবং প্রযুক্তি উন্নত দেশ থেকে আমাদের দেশে স্থানান্তরের ব্যাপারে বহুজাতিক কোম্পানি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে।

বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে এটা পরিষ্কার যে বিশ্বায়নের এই যুগে বহুজাতিক কোম্পানির অবস্থান আমাদের দেশে থাকবেই। কিন্তু এ বিষয়ে আমাদের সজাগ থাকতে হবে যেন এসকল কোম্পানি থেকে আমাদের সমাজ এবং অর্থনীতি সর্বোচ্চ  উপকৃত হয়। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো যেন কোন উপায়েই কর ফাকি দিতে না পারে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

বেসরকারি সংস্থা অ্যাকশন এইড কর্তৃক ২৪ শে ফেব্রুয়ারি ২০১৬তে প্রকাশিত ‘অপচুক্তি’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮ টি নিয়ন্ত্রমূলক চুক্তির কারনে বহুজাতিক কোম্পানির উপর করারোপের অধিকার হারাচ্ছে বাংলাদেশ। এসকল চুক্তি সরকারের পুনর্বিবেচনা করা দরকার। অর্থবিল-২০১২ র নির্দেশনা অনুযায়ী ট্রন্সফার প্রাইসিং এর মাধ্যমে বহুজাতিক কোম্পানির অর্থ পাচার রোধের জন্য ট্রান্সফার প্রাইসিং সেল গঠন করা হয়েছে। এ সেল যেন তার কাজ সুচারুভাবে করে সেদিকে নজর রাখতে হবে। ভবিষ্যতে কোন বহুজাতিক কোম্পানিকে দেশে প্রবেশ করতে দেয়ার সময় এবিষয়টি দেখা দরকার যে, আদৌ আমাদের সমাজ এবং অর্থনীতির জন্য কোম্পানিটির প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা। যে সকল খাতে দেশীয় কোম্পানিগুলো ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী সফলতার সাথে পণ্য এবং সেবা সরবরাহ করছে সে সকল খাতে বহুজাতিক কোম্পানির প্রবেশ করতে দেয়াটা কতটা যুক্তিযুক্ত তা চিন্তা করতে হবে। দেশের কৃষি খাতে যে সকল বহুজাতিক কোম্পানি ভয়াবহ নেতিবাচক কার্যকলাপ চালাচ্ছে সরকারের উচিত কঠোর ভাবে তা বন্ধ করা।

অনেক আগে থেকেই দেশের অর্থনীতিবিদরা শেয়ারবাজারে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে নিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে এসকল কোম্পানি অনেক আগেই তাদের শেয়ারবাজারে প্রবেশ করেছে। আমাদের দেশে দেশীয় কোম্পানিগুলোর শেয়ার বাজারে আসার জন্য অনেক বাধ্যবাধকতা থাকলেও বহুজাতিক কোম্পানির জন্য তেমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো যেন শেয়ারবাজারে আসতে উৎসাহিত হয় সেদিকে নজর দেয়া দরকার। উন্নত দেশগুলোতে সমাজে যদি কোন কোম্পানি ক্ষতিকর প্রভাব তৈরি করে তখন তার বিরুদ্ধে প্রচার প্রচারনার মাধ্যমে জনমত গড়ে তোলা হয়। আমাদের দেশে ভোক্তা অধিকার এবং সমাজ সেবামুলক সংগঠন গুলোকে এদিকে নজর দিতে হবে। দেশের জন্য কোন বহুজাতিক কোম্পানি যদি ক্ষতিকর কাজ করে তখন তার বিরুদ্ধে প্রবল প্রচারনা চালিয়ে তার পণ্যের চাহিদা কমিয়ে দিতে হবে।

লেখকঃ শিক্ষক, মার্কেটিং বিভাগ,
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
tuhinjobs46@gmail.com

Short URL: http://biniyougbarta.com/?p=1099

সর্বশেষ খবর