Responsive image

রানার অটোমোবাইলসের খুঁটিনাটি

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: পুঁজিবাজারের লেনদেন শুরু করেছে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া রানার অটোমোবাইলস লিমিটেড।

মঙ্গলবার (২১ মে) থেকে দেশের উভয় পুঁজিবাজারে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন শুরু হয়।

বিনিয়োগবার্তার পাঠক ও পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে কোম্পানিটির বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।

কোম্পানির নাম: 

রানার অটোমোবাইলস লিমিটেড।

কাট-অফ প্রাইস নির্ধারণ:

যোগ্য বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে বিডিংয়ে কোম্পানিটির শেয়ারের কাট-অফ প্রাইস নির্ধারণ হয়েছিল ৭৫ টাকা। যা ১০ শতাংশ কমে বা ৬৭ টাকায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নিকট ইস্যু করা হয়।

কোম্পানিটির ক্যাটাগরি ও ট্রেডিং কোড:

“এন” ক্যাটাগরির এ কোম্পানিটি RUNNERAUTO’ ও ডিএসইতে কোম্পানি কোড-১৩২৪৬।

ব্যবসার ধরণ:

কোম্পানিটি বিভিন্ন ধরনের অটোমোবাইল উৎপাদন ও বাজারজাত করে থাকে। বিক্রয় মুনাফার শতভাগ দেশীয় বাজার থেকে আসে।

কারখানার অবস্থান:

পারগাঁও, বারচালা, ভালুক, ময়মনসিংহ।

সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান:

রানার অটোমোবাইলসের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান রানার মোটরস লিমিটেড। কোম্পানিটির ৬১.৬৭ শতাংশের মালিকানায় রানার অটোমোবাইলস।

প্রধান প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান:

ইফাদ অটোস, গাজী অটোস, যমুনা গ্রুপ ও ওয়ালটন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা:

কোম্পানির প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী, রানার অটোমোবাইলসের প্রধান কার্যালয়ে ২৬৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে। পাশাপাশি, ফ্যাক্টরিতে ৪২৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটির সর্বমোট ফুল-টাইম কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন ৬৯১ জন। যাদের কারো বেতনই মাসিক সর্বনিম্ন ৩ হাজার টাকার নীচে নয়।

দেশের অটোমোবাইলস খাতের হালচাল:

প্রতিবছর ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৩৮ ইউনিট ২ চাকা যান তৈরি ক্ষমতা রয়েছে অটোমোইলস খাতের। বছর শেষে এ খাতে গড়ে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। দেশে বর্তমানে ৫০ সিসি থেকে ১৬৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল উৎপাদন হয়। দেশে খ্যাতনামা মোটরসাইকেল ব্যান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে ইয়ামাহা, বাজাজ ও টিবিএস। মূলত, এ খাতের বাজার দখল করে রয়েছে চায়না ও ভারত।

অটোমোবাইল খাতের রেগুলেটর হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

বিক্রয়লব্ধ আয়ে শতাংশ হার:

রানার অটোমোবাইল মূলত ২ চাকা যান ও ৩ চাকার যান বাজারজাত করে। ৩০ জুন ২০১৭ সমাপ্ত অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী, ২ চাকার যান থেকে কোম্পানিটির বিক্রয়লব্ধ আয় (রেভিনিউ) হয়েছে ৯১.৮০ শতাংশ বা ২২১ কোটি ২৩ লাখ ৯৫ হাজার ৫০০ টাকা। ওই সময় ৩ চাকার যান থেকে কোম্পানিটির রেভিনিউ হয়েছে ৮.২০ শতাংশ বা ১৯ কোটি ৭৬ লাখ ৪০ হাজার ৬৯১ টাকা।

এদিকে ৩০ জুন ২০১৭ সমাপ্ত অর্থবছরে রানার অটোমোবাইল ৪০৮ কোটি ৪৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬৩৯ টাকার ট্রাক বিক্রি করেছে।

আইপিও’মাধ্যমে মূলধন উত্তোলনের তথ্যাদি:

গত বছরের ১০ জুলাই বিএসইসির ৬৫০তম সভায় রানার অটোমোবাইলকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) এর মাধ্যমে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রি বা বিডিংয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

বুক বিল্ডিং প্রক্রিায় পুঁজিবাজারে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৩০ হাজার ৩৪৮টি শেয়ার ছেড়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে কোম্পানিটি। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ বা ৮৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৩টি শেয়ার ৭৫টাকা করে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে ইস্যু করে কোম্পানিটি। অবশিষ্ট ৫৫ লাখ ৯৭ হাজার ১৫টি শেয়ার ৬৭ টাকা করে (৭৫ টাকা থেকে ১০ শতাংশ কমে) সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নিকট ইস্যু করা হয়।

উত্তোলিত অর্থের ব্যবহার:

কোম্পানিটির প্রসপেক্টাস সূত্রে জানা যায়, কোম্পানিটি উত্তোলিত অর্থের ৩৩ শতাংশ বা ৩৩ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধের কাজে ব্যয় করা হবে। বাদবাকি টাকার আরঅ্যান্ডডি, ডিজাইন ও বিবিধ খাতে ৩৭ শতাংশ, মেশিনারিজ আমদানির জন্য ২৫ শতাংশ ও আইপিও সংক্রান্ত ব্যয় বাবদ ৪ শতাংশ অর্থ ব্যয় হবে।

লেনদেনযোগ্য শেয়ার:

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৩০ হাজার ৩৪৮টি শেয়ার ছেড়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে রানার অটোমোবাইলস। লেনদেন শুরুর প্রথম দিনে অর্থাৎ মঙ্গলবার কোম্পানিটির ৯৭ লাখ ৬৩ হাজার ৬৮২টি শেয়ার বিক্রির উপযোগী হয়।

এর মধ্যে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) শেয়ার বিজয়ী সাধারণ বিনিয়োগকারী, এনআরবি এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ৫৫ লাখ ৯৭ হাজার ১৫টি শেয়ার রয়েছে।

এছাড়া আইপিও বিজয়ী যোগ্য বিনিয়োগকারীদের সর্বমোট শেয়ারের ৫০ শতাংশ বা ৪১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৭টি শেয়ার রয়েছে।

আইপিও বিজয়ীযোগ্য বিনিয়োগকারীদের বাদবাকি ৫০ শতাংশ শেয়ারের ৫০ শতাংশ বা ২০ লাখ ৮৩ হাজার ৩৩৩টি শেয়ার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জের (বিএসইসি) নতুন নিয়ম অনুযায়ী গণনা করা হবে।

নতুন নিয়মানুয়ী, ট্রেডিং শুরুর দিন থেকে তালিভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ার লক-ইন গণনা করা হবে। সেই হিসাবে আইপিও বিজয়ী যোগ্য বিনিয়োগকারীদের লকইন উঠবে চলতি বছরের ২১ নভেম্বর।

প্লেসমেন্ট শেয়ারের লকইন:

আগামী ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত লকইন থাকবে প্লেসমেন্ট হোল্ডারদের ১ কোটি ৯২ লাখ ৩৩ হাজার ৪০০ শেয়ার। যা ট্রেডিং ডে হতে গণনা শুরু হবে। উদ্যোক্তা বা পরিচলকাদের শেয়ার আগামী ২০২২ সাল পর্যন্ত লকইন থাকবে।

মুনাফার হালচাল:

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ’১৯) শেষে কোম্পানিটির কর পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৭ কোটি ২১ লাখ ৯০ হাজার টাকা ও শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৭৭ টাকা। আগের বছরের একই সময় কোম্পানিটির কর পরবর্তী মুনাফা হয়েছিল ১১ কোটি ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছিল ১.১৮ টাকা।

অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কোম্পানিটির কর পরবর্তী মুনাফা কমেছে ৩ কোটি ৮৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও ইপিএস কমেছে ০.৪১ টাকা।

এদিকে ৩১ মার্চ ২০১৯ শেষে আইপিও পরবর্তী বেসিক ইপিএস হয়েছে ০.৬৭ টাকা।

তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই’১৮ থেকে মার্চ’১৯) নয় মাসে কোম্পানিটির কর পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৩৩ কোটি ৭৫ লাখ ১০ হাজার টাকা ও ইপিএস হয়েছে ৩.৫৮ টাকা। আগের বছর একই সময় কোম্পানিটির কর পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৩৪ কোটি ৯৮ লাখ ২০ হাজার টাকা ও ইপিএস হয়েছে ৩.৭১ টাকা।

অর্থাৎ তৃতীয় প্রান্তিক (জুলাই’১৮-মার্চ’১৯) শেষে কোম্পানিটির কর পরবর্তী মুনাফা কমেছে ১ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার টাকা ও ইপিএস কমেছে ০.১৩ টাকা।

যদিও আইপিও পরবর্তী সময়ে বিগত ৯ মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৩.১২ টাকা।

আইপিও পূর্বর্তী হিসাব অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৬৬.৪২ টাকা। যদিও আইপিও পরবর্তী হিসাব অনুযায়ী ৩১ মার্চ ২০১৯ শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ৬৬.৯৫ টাকা।

ইস্যু ম্যানেজার:

রানার অটোমোবাইলসকে পুঁজিবাজারে আনতে ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড।

(এমআইআর/এসএএম/ ২১ মে ২০১৯)

Short URL: https://biniyougbarta.com/?p=83933

সর্বশেষ খবর