Responsive image

তহবিল সংকটে ইউনাইটেড এয়ার; সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস বিএসইসি’র

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা: প্রাথমিক কার্যক্রম পরিচালনায় তহবিল সংকটে পড়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত ভ্রমন ও অবকাশ খাতের একমাত্র কোম্পানি ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের দায়িত্ব নেওয়া নতুন পরিচালনা পর্ষদ। তবে কোম্পানিটির এই তারল্য সংকট দূর করতে নতুন পর্ষদকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, দীর্ঘ পাঁচ বছর থকে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় দায় ও লোকসান বেড়েছে কোম্পানিটির। ফলে কোম্পানিটির হাতে কোনো পরিচালনা তহবিল নেই। তাই বড় পরিশোধিত মূলধনের এ কোম্পানিটি প্রাথমিক পর্যায়ের খরচ বহন ও অফিস স্টাফদের বেতনও দিতে পারছে না কোম্পানিটি। আর নতুন নিয়োগকৃত স্বতন্ত্র পরিচালকদের তহবিল যোগান দেওয়ার সামর্থ নেই। এমন পরিস্থিতিতে পূণরায় কার্যক্রম শুরু করা ইউনাইটেড এয়ারের নতুন পর্ষদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এ পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সহায়তা চেয়েছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ।

বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) বিকালে আগারগাঁওয়ে সিকিউরিটিজ কমিশন ভবনে বিএসইসির চেয়ারম্যানসহ কমিশনারদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইউনাইটেড এয়ারের নতুন পরিচালনা পর্ষদ। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনায় কোম্পানিটির নতুন পরিচালনা পর্ষদ এসব তথ্য তুলে ধরেন। এসময় চলমান সংকট দূর করতে কমিশনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে তাদেরকে আশ্বাস দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাজী ওয়াহিদ উল আলম বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা একটি সভা করেছি। আগামী সপ্তাহে কোম্পানিটির কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে আমরা আলোচনায় বসব এবং কোম্পানিটির বুকস অব অ্যাকাউন্টস দেখব। তারপর কোম্পানিটির প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে বলা যাবে। আর আমরা বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে কীভাবে কোম্পানিটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা শুরু করব। বিনিয়োগকারীদের লগ্নি করা অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের সর্বাত্নক চেষ্টা থাকবে।’

বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের নতুন স্বতন্ত্র পরিচালকরা কমিশনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এসময় তাদেরকে সিকিউরিটিজের যেসব আইন-কানুন রয়েছে সেগুলো মেনে কোম্পানিটিকে পুনরায় পূনরুজ্জিবিত করা যায় সে বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আইন মেনে যতটুকু সহযোগিতা করা সম্ভব, বিএসইসির পক্ষ থেকে সেটা করা হবে বলেও তাদেরকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের একমাত্র কোম্পানি ইউনাইটেড এয়ারওয়েজকে নতুন করে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এরই ধারাবাহিকতায় কোম্পানিটির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের বাদ দিয়ে সাতজন নতুন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তাদেরকে নিয়োগ দেওয়া হয়। নতুন পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা হলেন- কাজী ওয়াহিদ উল আলম, এম সাদিকুল ইসলাম, মাসকুদুর রহমান সরকার, এটিএম নজরুল ইসলাম, প্রফেসর ড. বদরুজ্জামান ভূইয়া, মুহাম্মদ ইউনুস ও মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ। পরবর্তীতে সৈয়দ এরশাদ আহমেদ নামে আরো একজনকে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বিএসইসি।

প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ২০১০ সালে ১ কোটি শেয়ার ছেড়ে ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করার মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। তালিকাভুক্তির পরের বছর ২০১১ সালে কোম্পানিটি ১০ টাকা ফেসভ্যালুর সঙ্গে অতিরিক্ত ৫ টাকা প্রিমিয়াম নিয়ে ২১ কোটি রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ৩১৫ কোটি টাকা পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করে। ৮২৮ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৮২ কোটি ৮০ লাখ ৯৮ হাজার ৪৮০টি। এর মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৭৬ দশমিক ২২ শতাংশ শেয়ার। প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ৬ দশমিক ৩৮ এবং উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে ৪ দশমিক ১৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। ২০১০ সাল থেকে টানা ৯ বছর শেয়ারহোল্ডারদের নগদ লভ্যাংশ দেয়নি ইউনাইটেড এয়ার।

(এসএএম/০৬ মার্চ ২০২১)

Short URL: https://biniyougbarta.com/?p=138945

সর্বশেষ খবর