Responsive image

বোরো ধানে ফলন বিপর্যয়, হিটশক ও খাদ্য নিরাপত্তা

ড: মিহির কুমার রায়: বাংলাদেশের কৃষি বরববরই প্রকৃতিনির্ভর। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষি নানা অভিঘাত মোকাবেলা করে এগোচ্ছে; যার মধ্যে রয়েছে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও ঠাণ্ডা হাওয়া প্রভৃতি। কিন্ত  অতি সম্প্রতি এ তালিকায় যোগ হয়েছে উচ্চ তাপপ্রবাহ বা হিট শক; যা গত ৪ এপ্রিল হাওরাঞ্চলে প্রবাহিত  হওয়ায় বোরোধান ফলনে কিছুটা অভিঘাত সৃষ্ঠি করেছে। যার প্রধানতম কারন দীর্ঘদিনের বৃষ্টিহীন প্রকৃতি। এ হিট শকে নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকা এবং গোপালগঞ্জ, নড়াইল, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, ময়মনসিংহসহ দেশের৩ ৬টি জেলার বেশকিছু অঞ্চলে বোরো ধানের পাশাপাশি ভুট্টা, সবজি, চীনাবাদাম, সূর্যমুখী ও কলার ফলন নষ্ট হওয়ায় সবমিলিয়ে টাকার অংকে মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩৪ কোটি টাকার। যার মধ্যে বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে ৩২৮ কোটি টাকার, ভুট্টার ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪ কোটি টাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৩.১০ লাখ।

কৃষি বিভাগের হিসাব মতে, হিট শকে ৪৮ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান আক্রান্ত হয়েছে্। এর মধ্যে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ আবাদের পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে- যার পরিমান ১০ থেকে ১২ হাজার হেক্টর জমির ধান। বাকি জমিগুলোর ধান বিভিন্ন মাত্রায় (১০-৮০ শতাংশ পর্যন্ত) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশব্যাপী বয়ে যাওয়া গরম বাতাস তথা হিটশকে বোরো উৎপাদন এক লাখ টন কমে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বছর বোরো মৌসুমে ধানের ফুলফোটা পর্যায়ে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা সহনীয় পর্যায়ে ছিল, ফলে বোরো ধানের চিটা সমস্যা ততটা প্রকটভাবে দেখা যায়নি। কিন্তু চলতি বোরো মৌসুমে তেমন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় তাপমাত্রা দিন দিন বেড়েই চলছিল। সংগত কারণে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কমে যাচ্ছিল। করোনাকালে নতুন এ সংকট সকলকে খাদ্য নিরাপত্তার ব্যাপারে ভাবিয়ে তুলছে।

প্রধানমন্ত্রী এবার হিটশক তথা গরম বাতাসে যে সকল কৃষকের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের প্রণোদনা দেয়ার নির্দেশ দেন। আউশ চাষের সময় এই প্রণোদনা দেয়া হবে। এক্ষেত্রে প্রণোদনা হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বীনামূল্যে বীজ, সারসহ অন্য উপকরণ দেয়া হবে। দেশজুড়ে হিটশকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার জন্য সরকার ইতোমধ্যে ৪২ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ও সহায়তা কর্মসূচীসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে দেশের কৃষকরা এমন বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে না হয় সেজন্য উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীল এবং রোগ ও পোকামাকড় প্রতিরোধক উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনের বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

এ ব্যাপারে ধান গবেষকদের মতামত হলো- গত বছর বোরো মৌসুমে ধানের ফুলফোটা পর্যায়ে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা সহনীয় পর্যায়ে ছিল। ফলে বোরো ধানের চিটা সমস্যা ততটা প্রকটভাবে দেখা যায়নি। কিন্তু চলতি বোরো মৌসুমে তেমন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় তাপমাত্রা দিন দিন বেড়েই চলছিল বিধায় সঙ্গত কারণে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কমে যাচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিহীন কাল-বৈশাখীর সঙ্গে তীব্র তাপদাহ বয়ে যাওয়ার ফলে যে জমির ধান ফুলফোটা পর্যায়ে ছিল, সে সব এলাকায় ধানের শীষ শুকিয়ে যায়। বৃষ্টিহীন তীব্র তাপদাহে বাতাসের তাপমাত্রা প্রায় ৩৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস ছিল। ফলশ্রুতিতে, সেগুলোর পরাগরেণু শুকিয়ে ধান চিটা হয়ে যায়। আবহাওয়াবীদগন বলছেন, হাওড় এলাকায় পানি থাকলে এবং সূর্যের তাপ থাকলে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। জলীয়বাষ্প বেশি থাকলে এবং বাতাসের গতি না থাকলে আমরা হয়তো ৩৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ডে থাকে, কিন্তু তাপমাত্রার অনুভব ৪০ ডিগ্রী সেলিসয়াসের বেশিও হতে পারে। বাতাসে যদি জলীয়বাষ্পের পরিমাণ ৭০ শতাংশের বেশি থাকে এবং বাতাসের গতি ঘণ্টায় পাঁচ কিলোমিটারের কম থাকে, তখন যে তাপমাত্রা পরিমাপ করি না কেন, এর চেয়ে অনুভব তাপমাত্রা অনেক বেশি হয়- যা হাওর এলাকায় হয়েছে, যা ফসলের জন্য ক্ষতিকর। এই ক্ষতি থেকে ধানকে রক্ষার একমাত্র উপায় হচ্ছে ধানের জীবনকালের ওপর ভিত্তি করে বপন ও রোপণ সময় এমনভাবে সমন্বয় করা যাতে ধানের ফুলফোটার সময় কাল-বৈশাখীর এমন তীব্র তাপদাহ এড়িয়ে যাওয়া যায়।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট হিটশক থেকে বোরো ধান রক্ষার জন্য ৪ দফা করণীয় পালনের পরামর্শ দিয়েছে।

এগুলো হলো:

১: এ সময় বোরো ধানের যে সকল জাত ফুল ফোটা পর্যায়ে আছে বা এখন ফুল ফুটছে বা সামনে ফুল ফুটবে সে সকল জমিতে পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখতে হবে এবং ধানের শীষে দানা শক্ত না হওয়া পর্যন্ত জমিতে অবশ্যই ২-৩ ইঞ্চি দাঁড়ানো পানি রাখতে হবে;

২. ঝড়ের কারণে ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতাপোড়া (বিএলবি) বা ব্যাকটেরিয়াজনিত লালচে রেখা (বিএলএস) রোগের আক্রমণ হতে পারে। আক্রান্ত যে সকল জমিতে ধান ফুল আসা পর্যায়ে রয়েছে সে সকল জমিতে ৬০ গ্রাম এমওপি, ৬০ গ্রাম থিওভিট ও ২০ গ্রাম দস্তা সার ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে বিকেলে স্প্রে করতে হবে। তবে ধান থোড় অবস্থায় থাকলে বিঘা প্রতি অতিরিক্ত ৫ কেজি পটাশ সার উপরি প্রয়োগ করলে ভাল ফল পাওয়া যাবে;

৩. বোরো ধানের এ পর্যায়ে নেক ব্লাস্ট বা শীষ ব্লাস্ট রোগের ব্যাপক আক্রমণ হতে পারে। শীষ ব্লাস্ট রোগ হওয়ার পরে দমন করার সুযোগ থাকে না। তাই ধানের জমিতে রোগ হোক বা না হোক, থোঁড় ফেটে শীষ বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একবার এবং এর ৫-৭ দিন পর আরেকবার বিঘাপ্রতি (৩৩ শতাংশ) ৫৪ গ্রাম ট্রুপার ৭৫ডব্লিউপি বা দিফা ৭৫ডব্লিউপি বা জিল ৭৫ডব্লিউপি অথবা ৩৩ গ্রাম নাটিভো ৭৫ডব্লিউজি, অথবা ট্রাইসাইক্লাজল বা স্ট্রবিন গ্রুপের অনুমোদিত ছত্রাকনাশক অনুমোদিত মাত্রায় ৬৭ লিটার পানিতে ভালভাবে মিশিয়ে শেষ বিকেলে স্প্রে করতে হবে এবং

৪. এ সময় জমিতে বাদামি গাছ ফড়িংয়ের আক্রমণ হতে পারে। আক্রমণপ্রবণ এলাকায় কীটনাশক যেমন মিপসিন ৭৫ ডব্লিউপি, প্লিনাম ৫০ ডব্লিউজি, একাতারা ২৫ ডব্লিউডি, এডমায়ার ২০এসএল, সানমেক্টিন ১.৮ ইসি, এসাটাফ ৭৫এসপি, প্লাটিনাম ২০ এসপি অথবা অনুমোদিত কীটনাশকের বোতলে বা প্যাকেটে উল্লিখিত মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে। কীটনাশক অবশ্যই গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করতে হবে। এক্ষেত্রে ডাবল নজেল বিশিষ্ট স্প্রেয়ার ব্যবহার করা উত্তম।

গত বছর বন্যায় আউশ ও আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবছর বোরোতে তা পুষিয়ে নেয়ার নির্দেশনা  অনুযায়ী কৃষি মন্ত্রণায় এবছর বোরো আবাদের লক্ষ্য মাত্রা ৫০ হাজার হেক্টর বাড়িয়ে নির্ধারণ করেযার ফলে  বাস্তবে ১ লাখ ২৯ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ বৃদ্ধি ফলে এবছর মোট বোরো আবাদ দাঁড়ায় ৪৮ লাখ ৮৩ হাজার ৭৬০ হেক্টরে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে হাইব্রিড আবাদ বাড়ানো হয় প্রায় ২ লাখ হেক্টর। সরকার বলছে, গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩ লাখ হেক্টর জমিতে হাইব্রিডের আবাদ বেড়েছে। গড়ে হেক্টর প্রতি ১ টন করে বেশি ফলন হলেও কমপক্ষে ৩ লাখ টন উৎপাদন বাড়বে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসাবে, গত বোরো মৌসুমে চালের উৎপাদন হয়েছে ২ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার টন। এ বছর বোরোতে ২ কোটি ৫ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

চলতি বোরো মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে মোট ১৭ লাখ টন ধান ও চাল কিনবে সরকার। এর মধ্যে মিলারদের কাছ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে ১০ লাখ টন সিদ্ধ চাল, ৩৯ টাকা কেজি দরে দেড় লাখ টন আতপ চাল এবং কৃষকদের কাছ থেকে ২৭ টাকা কেজি দরে সাড়ে ৬ লাখ টন ধান কেনা হবে। গত বছর বোরো মৌসুমে ২৬ টাকা কেজি দরে ধান, ৩৬ টাকা কেজি দরে সিদ্ধ চাল ও ৩৫ টাকা কেজি দরে আতপ চাল কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। তবে বাজারে চালের দাম বেশি থাকায় গত বোরো ও আমন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান-চাল কিনতে পারেনি সরকার।

কৃষি ক্যালেন্ডার অনুসারে, এপ্রিল-মে মাসেই বোরো ধান কাটার সময় এবং বন্যা শীলাবৃষ্টির ঝুকিতে কৃষকরা দিন কাটায়। কিন্তু এ বছরটি ব্যতিক্রম বিশেষত অনাবৃষ্ঠির কারনে বোরো ধানসহ সকল কৃষি উৎপাদনের উপর এর প্রভাব লক্ষ্যনীয়। অন্যান্য বছরের মত এবার কৃষি শ্রমিকের ঘাটতির সম্ভাবনায় কৃষকদের ধান কেটে দিতে দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে সরকারপ্রধান আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে যেসব কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাদের আর্থিক সহায়তা দেয়ার ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি এবং আমরা সে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী করোনাভাইরাস সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন, সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে, মাস্ক পরতে হবে। গার্গল করা, ভাপ নেয়া, যেখানে বেশি জনসমাগম সেখানে না যাওয়া, দূরত্ব বজায় রেখে চলা এবং আমরা যে স্বাস্থ্য সুরক্ষার নির্দেশনাগুলো দিয়েছি, অবশ্যই সে নির্দেশনা মেনে নিজেকে ও অন্যকে সুরক্ষিত করুন।

উপরের আলোচনা থেকে এটাই প্রতিয়মান হয় যে, বর্তমান বছরটি আবহাওয়ার দিক থেকে মোটেও ফসলের জন্য অনুকুল বছর নয়। যদিও সরকার সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য তৈরী রয়েছে, যা গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে।

এখন করনীয় হলো:

১. বোরো ফসল কাটার সময় কৃষি শ্রমিকের ঘাটতি মেটাতে গত বছরের মত সরকারী খরচে দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে শ্রমিক হাওর এলাকায় প্রেরন করবে মৌসুমী শ্রমিক হিসাবে। এরইমধ্যে খবর হয়েছে, সিলেট চা বাগানের শ্রমিকরা সেই অঞ্চলে কৃষি শ্রমিক হিসাবে ধান কাটায় অংশ নিয়েছে এবং যুবলীগ ও কৃষকলীগের সদস্যরা বিক্রমপুর এলাকায় ধান কাটায় কৃষকদের সহযোগিতায় নামছে, যা প্রসংশনীয় উদ্যোগ;

২. ধান কাটা ও মারাইয়ের যন্ত্র গতবারের ন্যায় এবারও সরকার প্রস্তুত রেখেছে এবং আগ্রহী উদ্যোগক্তাদের ক্রেডিটসহ প্রশিক্ষনেরও ব্যবস্থা করছে, যা একটি মহতি উদ্যোগ;

৩. কৃষকদের জন্য একটি সুখবর হলো কৃষকের ঋণ গ্রহণ সহজ করতে কৃষি ও পল্লী ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। যার ফলে এখন থেকে ৮ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন কৃষকরা। এর আগে ২০১৭ সালের ২২ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক কৃষি ও পল্লী ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ১০ থেকে কমিয়ে ৯ শতাংশে নির্ধারণ করেছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। কৃষির উন্নয়নের সঙ্গে দেশের বিপুল জনসংখ্যার খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। তাই সরকার খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, দারিদ্র বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কৃষি উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ২০২০ সাল থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় দেশের স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিঘ্নিত হচ্ছে। এর ফলে অন্যান্য খাতের মতো কৃষি খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে কৃষি খাতে স্বল্প সুদে ঋণ সরবরাহ নিশ্চিত করে কৃষকদের স্বাভাবিক উৎপাদনশীল কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনাসহ কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ খাতে ঋণ/বিনিয়োগের সুদ/মুনাফা হার হ্রাস করা প্রয়োজন। তাই কৃষি ও পল্লী ঋণের সুদের হার পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।

সর্বশেষ বলা যায়, করোনাকালে বাতাসে নতুন উচ্চ তাপমাত্রায় বা হিট শক কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে, যা দেশের কৃষিতে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। শিলাবৃষ্টি ও গরম বাতাস—দুই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চাল উৎপাদন কম হলে বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে চালের দাম কয়েক মাস ধরেই উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। সরবরাহ পরিস্থিতি বাড়াতে এরই মধ্যে সরকারিভাবে চাল আমদানি করা হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে প্রায় ১০ লাখ টন চাল আমদানির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এছাড়া বেসরকারিভাবে চাল আমদানিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। আমরা আশা করছি, সব বাধা দূরিভুত হবে এবং মুজিববর্ষে স্বধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে আমরা আমাদের পূর্বের রেকর্ড ধরে রাখতে সক্ষম হবো ধান-চাল উৎপাদনে সেটাই হউক আমাদের অঙ্গীকার।

লেখক: অধ্যাপক ও সিন্ডিকেট সদস্য, সিটি ইউনিভার্সিটি, ঢাকা।

(এসএএম/২৫ এপ্রিল ২০২১)

Short URL: https://biniyougbarta.com/?p=143030

সর্বশেষ খবর