Responsive image

লকডাউনে বিবর্ণ পহেলা বৈশাখ ও জীবিকায়ন 

ড: মিহির কুমার রায়: বাংলাদেশ সরকার ১৪ই এপ্রিল, ২০২১(১লা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ) খেকে সারাদেশে আপাতত এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষনা করেছে। করোনা মহামারীর সংক্রামন বর্তমানে ২৫% এর উপরে রয়েছে- যা জাতির জন্য এক মহাবিপদ সংকেত। এরইমধ্যে আক্রান্ত হয়েছে ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৫ শত ৯৩ জন এবং মৃত্যুবরন করেছে ৯ হাজার ৫ শত এর অধিক মানুষ। যা জনমনে এক আতঙ্কের প্রতিক  হিসাবে আভির্ভুত। বর্তমানে চলছে মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান এবং আশা করা হয়েছিল  এবারকার ১লা বৈশাখ পাবে এক নতুন মর্যাদা। কিন্তু কোভিড-১৯  তা আর হতে দিচ্ছে না, একুশের বই মেলা মুখ থোবড়ে পড়েছে, আর রেখে যাচ্ছে এক ইতিহাস যার সাক্ষী এবারকার বাংলা নববর্ষ। যা আমাদের জীবন থেকে কখনও মুছে যাবে না।

পহেলা বৈশাখ আমাদের একমাত্র উৎসব, যা বাঙালি পরিচয়কে গুরুত্ববহ করে তোলে সবচেয়ে বেশি। তাই দিনটি একইসঙ্গে পালিত হয় শহর ও গ্রামে, সমান মর্যাদায়, আয়োজন করা হয় বিশেষ ধরনের অনুষ্ঠান আর মেলা। কবে থেকে পহেলা বৈশাখ উৎসব প্রথম শুরু হয়-এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ভারতবর্ষে মোগল আমলে বাদশারা হিজরী পঞ্জিকা অনুসারে কৃষি পণ্যের খাজনা আদায় করা হত। কিন্তু হিজরি সন চাঁদের উপর নির্ভরশীল হওযায তা কৃষি ফলনের সাথে মিলত না যার ফলে অসময়ে কৃষকদেরকে খাজনা পরিশোধ করতে বাধ্য করতে হত। খাজনা আদায়ে সুষ্ঠুতা প্রণযনের লক্ষ্যে মুঘল সম্রাট আকবর বাংলা সনের প্রবর্তন করেনযা মূলত: প্রাচীন বর্ষপঞ্জিতে সংস্কার আনার আদেশ দেন। সম্রাটের আদেশ মতে রাজকীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফতেহউল্লাহ সিরাজি সৌর সন এবং আরবি হিজরী সনের উপর ভিত্তি করে নতুন বাংলা সনের নিযম বিনির্মাণ করেন।

১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই মার্চর্ থেকে বাংলা সন গণনা শুরু হয়, তবে এই পদ্ধতি কার্যকর হয় ৫ই নভেম্বর, ১৫৫৬ সন থেকে, যখন আকবর সিংহাসন আরোহণ করেন। প্রথমে এই সনের নাম ছিল ফসলি সন, পরে “বঙ্গাব্দ” বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিত হয। আকবরের সমযকাল থেকেই পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন শুরু হয। তখন প্রত্যেককে বাংলা চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে সকল খাজনা, মাশুল ও শুল্ক পরিশোধ করতে বাধ্য থাকত। এর পর দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে ভূমির মালিকরা নিজ নিজ অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে মিষ্টান্ন দ্বারা আপ্যাযন করতেন। এ উপলক্ষে বিভিন্ন উৎসবের অযোজন করা হত। এই উৎসবটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয যার রূপ পরিবর্তন হযে বর্তমানে এই পর্যায়ে এসেছে। তখনকার সময এই দিনের প্রধান ঘটনা ছিল একটি হালখাতা তৈরি করা। হালখাতা বলতে একটি নতুন হিসাব বই বোঝানো হযেছে। প্রকৃতপক্ষে হালখাতা হল বাংলা সনের প্রথম দিনে দোকান-পাটের হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে হালনাগাদ করার প্রক্রিযা। গ্রাম, শহর বা বাণিজ্যিক এলাকা, সকল স্থানেই পুরনো বছরের হিসাব বই বন্ধ করে নতুন হিসাবের বই খোলা হয়।

গবেষকগণ বলছেন, পহেলা বৈশাখের উৎসব প্রথম শুরু হয় ঠাকুর পরিবারের উদ্যোগে এবং সেখান থেকেই পর্যায়ক্রমে এ উৎসব ছড়িয়ে পড়ে সবখানে। তবে কোনো কোনো গবেষক মনে করেন, ওই একই সময়ে অন্যান্য জমিদারও আনুষ্ঠানিকভাবেই পহেলা বৈশাখ উৎসব পালন করতেন। বছরের শেষদিন চৈত্রসংক্রান্তি আর নতুন বছরের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ, এ দু’দিন উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানের প্রচলন হয় ইংরেজ আমলের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথা চালু হওয়ার পর থেকে। বছরের শেষ মাস চৈত্রের শেষদিন ব্যবসায়ী সম্প্রদায় বকেয়া আদায় করার পর চালু করে নতুন খাতা আর নতুন বছরের প্রথম মাসের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ উৎসব হয় জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতায়। সেখানে থাকত কবিয়ালদের গান, নানা উৎসব আয়োজন-তাদের লক্ষ্য ছিল খাজনা আদায়। আর দিনটাও বেছে নেয়া হয় নতুন বছরের প্রথম মাস বৈশাখের প্রথম দিনকেই, কারণ তখন ঘরে ঘরে ওঠে নতুন ফসল, কৃষকের চোখে-মুখে থাকে আনন্দের ছটা। পহেলা বৈশাখ উৎসবের শুরুটা ছিল এভাবেই।

ঈশা খাঁর সোনারগাঁওযে ব্যতিক্রমী এক মেলা বসে যার নাম বউমেলা, এটি স্থানীয ভাবে বটতলার মেলা নামেও পরিচিত। জয়রামপুর গ্রামের মানুষের ধারণা, প্রায ১০০ বছর ধরে পহেলা বৈশাখে শুরু হওযা এই মেলা পাঁচ দিনব্যাপী চলে, প্রাচীন একটি বটবৃক্ষের নিচে এই মেলা বসে, যদিও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সিদ্ধেশ্বরী দেবীর পুজোর জন্য এখানে সমবেত হয, বিশেষ করে কুমারী, নববধূ, এমনকি জননীরা পর্যন্ত তাদের মনস্কামনা পূরণের আশায এই মেলা এসে পূজা-অর্চনা করেন, সন্দেশ-মিষ্টি-ধান দূর্বার সঙ্গে মৌসুমি ফলমূল নিবেদন করে ভক্তরা, পাঁঠাবলির রেওযাজও পুরনো, বদলে যাচ্ছে পুরনো অর্চনার পালা, এখন কপোত-কপোতি উড়িযে শান্তির বার্তা পেতে চায ভক্তরা দেবীর কাছ থেকে। এ ছাড়া সোনারগাঁ থানার পেরাব গ্রামের পাশে আরেকটি মেলার আয়োজন করা হয। যার নাম ঘোডামেলা। লোকমুখে প্রচলিত যামিনী সাধক নামের এক ব্যক্তি ঘোডায করে এসে নববর্ষের এই দিনে সবাইকে প্রসাদ দিতেন এবং তিনি মারা যাওযার পরই  এই স্থানেই তার স্মৃতিস্তম্ভ বানানো হয। প্রতিবছর পহেলা বৈশাখে স্মৃতিস্তম্ভে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একটি করে মাটির ঘোডা রাখে এবং এখানে মেলার আয়োজন করা হয। এ কারণে লোকমুখে প্রচলিত মেলাটির নাম ঘোডামেলা। এ মেলার অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে নৌকায খিচুড়ি রান্না করে রাখা হয এবং আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবাই কলাপাতায আনন্দের সঙ্গে তা ভোজন করে। সকাল থেকেই এ স্থানে লোকজনের আগমন ঘটতে থাকে -শিশু-কিশোররা সকাল থেকেই উদগ্রীব হয়ে থাকে মেলায আসার জন্য। মেলায নাগরদোলা, পুতুল নাচ ও সার্কাসের আযোজন করা হয। নতুন মাত্রাযয় যোগ হয কীর্তন। মধ্যরাত পর্যন্ত চলত।

আধুনিক নববর্ষ উদযাপনের খবর প্রথম পাওযা যায ১৯১৭ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশদের বিজয় কামনা করে এবং সে বছর পহেলা বৈশাখে হোম কীর্তন ও পূঁজার ব্যবস্থা করা হয। এরপর ১৯৩৮ সালেও অনুরূপ কর্মকান্ডের উল্লেখ পাওযা যায। ভারতের অঙ্গরাজ্যগুলোতে যে বাংলা দিনপঞ্জি ব্যবহার করা হয়েছে তা সংস্কৃত গ্রন্থ সূর্য সিদ্ধান্ত-এর উপর ভিত্তি করে লেখা। এখানে মাসগুলোর ঐতিহাসিক সংস্কৃত নামগুলো রাখা হয়েছে, যার প্রথম মাসের নাম হল বৈশাখ। তাদের দিনপঞ্জিটি হিন্দু দিনপঞ্জি ব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত এবং বিভিন্ন বাঙ্গালি হিন্দু উৎসবের দিন নির্ধারণে সেটি ব্যবহৃত হয। পশ্চিমবঙ্গ ও অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের বাঙ্গালিদের জন্য প্রতি বছর ১৪ ও ১৫ এপ্রিলে এই উৎসব হযে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে ১৯৬৬ সালে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর নেতৃত্বে গঠিত হওযা ১৯৬৬ সালের একটি কমিটিতে পুরনো বাংলা দিনপঞ্জিকে সংশোধিত করা হয। এখানে প্রথম পাঁচ মাসকে ৩১ দিন, আর বাকি মাসগুলোকে ৩০ দিন বানানো হয। প্রতি অধিবর্ষে ফাল্গুন মাসে ৩১ দিন ধার্য করা হয। ১৯৮৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে এই দিনপঞ্জি গ্রহণ করা হয, এরপর, জাতীয দিনপঞ্জির সূচনা ও প্রতি বছর নববর্ষ ১৪ এপ্রিলেই হযে থাকে, ১৪২৬ বঙ্গাব্দে দ্বিতীযবারের মত সংশোধনী আনা হয গ্রেগরীয বর্ষপঞ্জির সঙ্গে বাংলা বর্ষপঞ্জির বিশেষ দিনগুলোর সমন্বয আনতে বাংলা একাডেমি এই পরিবর্তন আনো নতুন বর্ষপঞ্জি অনুযাযী বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ, শ্রাবণ, ভাদ্র ও আশ্বিন—এই ছয মাস ৩১ দিনে হবে, ফাল্গুন মাস ছাডা অন্য পাঁচ মাস ৩০ দিনে পালন করা হবে। ফাল্গুন মাস হবে ২৯ দিনের, কেবল অধিবর্ষের বছর ফাল্গুন মাস ৩০ দিনের হবে।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর ঢাকাকে কেন্দ্র করে যে মুসলিম বাঙালি মধ্যবিত্তের উদ্ভব ঘটে এবং প্রকৃত অর্থে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকেই শুরু হয় সমাজের এ অংশের মধ্যে আত্মপরিচয় সম্পর্কে নতুন জিজ্ঞাসা, সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞানের সন্ধান। ঠিক সে সময়ই, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারের আমলে পহেলা বৈশাখ সরকারি ছুটি ঘোষণার ঘটনাটি বাঙালি জাতীয়বাদকে সামনে নিয়ে আসে। ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি তখন এ সমতল ভূমির অগ্রসর মানুষের কাছে ভাষাগত প্রশ্নে ‘বাঙালি’পরিচয়টিও হয়ে ওঠে অত্যন্ত পরিষ্কার। সরকারি ছুটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে পহেলা বৈশাখ দিনটি জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে তৈরি করে দেয় অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকশিত হওয়ার সুযোগ। পহেলা বৈশাখের উৎসবকে অর্থময় করার ক্ষেত্রে ছায়ানটের ভূমিকা এবং তাদের উদ্যোগেই ১৯৬৭ সালে রমনা বটমূলে প্রথম অনুষ্ঠিত হয় সঙ্গীতায়োজন এবং পরবর্তী সময়ে এ সঙ্গীতায়োজনকে ঘিরে রমনাপার্কে বৈশাখী মেলার আয়োজন সর্বস্তরের বাঙালির শেকড় সন্ধানের চেষ্টা সফল হয়া। এরপর প্রতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ছাত্র-শিক্ষকদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রা স্থান পায়, যার প্রচলন ১৯৮৯ সাল থেকে প্রথম শুরু। আর সর্বশেষ অর্জন স্বাধীন বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে পহেলা বৈশাখকে জাতীয় উৎসবের মর্যাদায় অভিষিক্ত করা। বর্ষপুঞ্জির প্রথম সংস্কার হয় ১৯৫২ সালে ভারতের বিশিষ্ট জ্যোতির্পদার্থবিদ ড. মেঘনাদ সাহার হাত দিয়ে এবং ১৯৫৭ সালে ভারত সরকার তার এ সংস্কারের সুপারিশ গ্রহণ করেন, সেই সুপারিশকেই সামনে রেখে ১৯৬২-৬৩ সালে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে বাংলা বর্ষপুঞ্জি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদই প্রথম সরকারি নথিতে স্বাক্ষরসহ বাংলাসন চালুর নির্দেশ দেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর সেই একই কার্যধারা চালু থাকে। এরপর অনেক পথঘাট পার হয়ে ১৯৮৭ সালে এসে জেনারেল এরশাদ সরকারি সব কাজকর্মে ইংরেজি সাল-তারিখের পাশাপাশি বাংলা তারিখ লেখার নির্দেশ দেন।

উপরের আলোচন্ থেকে এটাই প্রতিয়মান হয় যে, বাঙ্গালীর জীবনে বাংলা নববর্ষের একটি সোনালী পটভূমি রয়েছে, যা ইতিহাস স্বীকৃত। কিন্তু সময় সময় কিছু কিছু গঠনা আমাদের সার্বিক আয়োজনকে ম্লান করে দেয়। যা গত বছরও ঘটেছে এবছরও একি কায়দায় ঘটতে যাচ্ছে। যার সাথে জড়িয়ে আছে মানুষের জীবন জীবিকা/আয় রোজগারের প্রশ্ন যেমন কোটি টাকার ফুলের বানিজ্য, বৈশাখী পোশাখের বানিজ্য, গ্রামীন/শহুরে মেলার বানিজ্য মৃতশিল্পি কামার কুমারদের বানিজ্য, নাট্যকর্মী, যাত্রা শিল্পি, পালাকারদের আয় রোজগারের পথসহ আরও কতকিছু রয়েছে এই তালিকায়। নতুন বছরের উৎসবের সঙ্গে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কৃষ্টি ও সংস্কৃতির নিবিড যোগাযোগ। গ্রামে মানুষ ভোরে ঘুম থেকে ওঠে, নতুন জামা-কাপড পরে এবং আত্মীযস্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের বাড়ি বেডাতে যায। বাডিঘর পরিষ্কার করা হয এবং মোটামুটি সুন্দর করে সাজানো হয, বিশেষ খাবারের ব্যবস্থাও থাকে। কযকেটি গ্রামের মিলিত এলাকায, কোন খোলা মাঠে আয়োজন করা হয বৈশাখী মেলার। মেলায় থাকে নানারকম কুটির শিল্পজাত সামগ্রীর বিপণন, থাকে নানারকম পিঠা পুলির আয়োজন। অনেক স্থানে ইলিশ মাছ দিযে পান্তা ভাত খাওযার ব্যবস্থা থাকে এবং এই দিনের একটি পুরনো সংস্কৃতি হলো গ্রামীণ ক্রীডা প্রতিযোগিতার আয়োজন। যেমন: নৌকাবাইচ, লাঠি খেলা কিংবা কুস্তি ইত্যাদি। কিন্তু লগড্উানে বিবর্ণ নববর্ষ ও ক্ষতিগ্রস্থ জীবন-জীবিকা।

এখন সরকারের সামনে কি উপায় আছে-যা বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। যেমন- এক: প্রথমে বেঁচে থাকা। এই সংক্রামক ব্যাধির হাত থেকে বিধি-বিধান মেনে যার আর কোন প্রকার বিকল্প নেই। জনগন যদি যত্নশীল না হয়, তাহলে সরকার আইন প্রয়োগে বাধ্য হবে যা এখন পর্যন্ত ধৈর্য্য ধরে দেখা হচ্ছে; দ্বিতীয়, সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ এখ পর্যন্ত রোগাক্রান্তদের সাধ্যমত সেবাদিয়ে যাচ্ছে সীমাবদ্ধতার মাঝেও। কিন্তু সংক্রামক যে হারে বাড়ছে তাএখনই নিয়ন্ত্রনে না আনতে পাড়লে মৃত্যু ঝুকি বাড়বে বলে প্রতিয়মান হয়। যার ফলে লকডাউনই একমাত্র পথ সামনে রয়েছে সরকারের কাছে। তবে তা যদি দীর্ঘায়িত হয় তবে জীবিকায়ন হুমকির মধ্যে পড়বে নিশ্চয়; তৃতীয়: এখন সংস্কৃতি বড় না জীবন বড় তা অবশ্যি মূল্যায়নের সময় এসেছে এবং বেঁচে থাকতে হলে দুটিরই প্রয়োজন। তবে স্থান, কালভেদে তা জনগন ও সরকারকেই নির্ধারন করতে হবে। আসুন আমরা সবাই মিলে এই জাতীয় দুর্যোগের মোকাবেলা করি এবং জীবন বঁচাই। পহেলা বৈশাখ প্রতিবছরই আসবে; হয়ত অন্য এক আমেজ নিয়ে হয়ত এর মধ্যে সব স্বাভাবিক হয়ে উঠবে জীবন ও জীবিকার বাহনগুলো সৃষ্ঠিকর্তা সকলের সহায়ক হউন- এই কামনাই রই্ল।

লেখক: গবেষক ও সিন্ডিকেট সদস্য, সিটি ইউনিভার্সিটি, ঢাকা।

(এসএএম/১৪ এপ্রিল ২০২১)

Short URL: https://biniyougbarta.com/?p=142272

সর্বশেষ খবর