Responsive image

হুজুর এবার ফেঁসেছে!

মুহাম্মদ জাভেদ হাকিম:  ‘ওয়াও! হেড লাইনটাতো বেশ চমৎকার। একেবারে সময়োপযোগী। হাতে যতো কাজই থাক না কেন, সব ছেড়ে মন দিয়ে পড়তেই হবে। এই হুজুর আর কাঠমোল্লাদের কারণেই দেশে যত্তসব অশান্তি। নিত্যনতুন ফতুয়া নিয়ে কিছুদিন পরপরই হাজির হয়। আর ওমনি ধর্মান্ধরা তা গোগ্রাসে গিলে খায়। সবগুলো মাথামোটার দল। মাদ্রাসায় ডালের পানি আর পঁচা চালের ভাত খেয়ে খেয়ে আজ মহাজ্ঞানী সেজেছে। সরকারের নমনীয়তায় এরা সাংগঠনিক শক্তি বাড়িয়ে, মৌলবাদী দুর্গন্ধ দেশর গন্ডি ছাড়িয়ে এখন বহিঃবিশ্বেও ছড়িয়ে দিচ্ছে।’

‘এদেরকে অতিদ্রুত লাগাম টেনে না ধরলে, সরকারের সঙ্গে সঙ্গে দেশবাসীকেও চরম মূল্য দিতে হবে। কত্তবড় স্পর্ধা রাত গভীরে লাইভে এসে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকা সরকারকে হঠানোর আওয়াজ তুলে। নাহ এভাবে চুপ থাকলে, আবারো রাজাকারের বাচ্চারা দেশটাকে পাকিস্তান বানাবে।’

পাঠক উপরোল্লিখিত লেখার ভাষাগুলো ইদানিং বেশ জোরেশোরেই একশ্রেণীর সুশীল সমাজে ভেসে বেড়ায়।

আর এইসব উদ্ভট ধারণাগুলোও তাদের মনে বদ্ধমূল হবার পেছনে কাজ করে থাকে ওলামায়ে ছুঁ। আর আমার ক্ষুদ্রতা হতে যতটুকুন বুঝি-এর জন্য দায়ি কওমি আলেমগণ। এরা সেভাবে নিজেদের মাঝে ঐক্য গড়ে তুলতে পারেনি। তাদের ছোটছোট ব্যাপারগুলো বড় আকারে মত পার্থক্যর সৃষ্টি করে। এতে করে দ্বীনের লেবাসে থাকা বে-দ্বীনের গোষ্ঠী, সাধারণ মানুষের কাছে তা রঙচঙাভাবে তুলে ধরে। এতে সাধারণ মানুষের মনে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়। যেরকমটা কয়েক বছর আগেও মর্ডারেট মুসলিমসহ অন্যান্য ধর্মালম্বীরা গভীরভাবে বিশ্বাস করত, মাদ্রাসা মানেই জঙ্গি আস্তানা। খোদায়ী মদদে এরকম ভাবনাটা বলা যায় অনেকটাই নিরসন হতে পেরেছে।

ইসলাম সম্পর্কিত কোন প্রতিবাদ কিংবা জোরালো আন্দোলনে মানুষ নিজ অর্থায়নেই স্বতস্ফূর্তভাবেই অংশগ্রহণ করে। কওমি অঙ্গনের নেতাদের আহবানে সাড়া দিয়ে সাধারণ মুসুল্লিরা শাহাদাৎ বরন করতে পর্যন্ত দ্বিধা করে না। যা মডার্ন মুসলিমদের নিকট উগ্রতা ও জঙ্গিবাদ হিসেই পরিচিত। ধর্মীয় নেতাদের ডাকে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় জান কোরবান করা মানুষগুলোর রক্ত শুকানোর আগেই – অনেক সময় নেতাদেরকে কৌশলী হতে যেয়ে, সরকারের প্রলোভনপ্রাপ্ত হয়ে কওমি জননী উপাধি দিতেও কার্পণ্য করে না। যা বেশ আমজনতার নিকট প্রশ্নবিদ্ধ হয়। হ্যাঁ – রক্তের বদলেই বৃহৎ কিছু আদায় হয়। তবে সনদের মত ঠুনকো কোন কিছুর প্রাপ্তিতে শহীদের রক্ত এড়িয়ে না চললেও পারা যেতো। এক সনদ হেফাজতকে পিছিয়ে দিয়েছে বহুবছর। অবশ্য এটা আমার একান্ত মতবাদ। সনদের পিছু না ছুটলে আজ হয়তো আল্লামা মামুনুল হককে এরকমভাবে হেনস্তা হতে হত না। নিরপেক্ষ সঠিক তদন্তে সত্য ঘটনা বের হবার আগেই যারা কাউকে দোষী সাজাতে পছন্দ করেন, তারা এখন বেশ রসালোভাবেই চাউর করেছেন- হুজুর এবার ফেঁসেছে। কঠিন মূহুর্তে  নিজেদের মাঝে অনৈক্য হলে, একসময় মিথ্যাচার ডালপালা ছড়িয়ে আস্থাশীলদের মাঝেও প্রশ্ন সৃষ্টি করে। এটাই রুঢ় বাস্তবতা। তাই বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে ভাল বক্তা আর দক্ষ নেতৃত্ব দুটো ভিন্ন বিষয়। বিচক্ষণ নেতা হতে হলে অবশ্যই পরিবেশ, পরিস্থিতির ব্যাপারটা ছিক্সসেন্স দিয়ে বিবেচনা রাখা চাই সর্বাগ্রে। এই দেশের আবেগপরায়ণ জনতা কাউকে হিরো বানাতে সময় নেয় অনেক। কিন্তু জিরো বানাতে লাগে এক মূহুর্ত।

ওদিকে হেফাজতের হরতাল চলাকালীন মধুপুরের বয়স্ক হুজুরের মত আরো অনেক আল্লাহর ওলিকে ন্যাক্কারজনক হামলার শিকার হয়তো হতে হত না। আন্দোলনের আগে নেতাদের দেয়া হুংকার আর নির্যাতিত হবার পরের বক্তব্যর সুর থাকে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকদের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতি সরকারের সহানুভূতিশীল আচরণ থাকবে এটাই মূখ্য। তাতে জনতা নিগৃহীত হয়ে উগ্র হবার সুযোগ পাবে না। গুলি করে পাখির মত আদম সন্তানদের লাশ ফেলেও ক্ষমতাসীনদের কলঙ্কিত ইতিহাস রচনা করার প্রয়োজন পড়বে না। আর শিশু হুজুর হিসেবে পরিচিত বক্তা সাহেব, উনি হয়তো নিজ ভিত্তি শক্ত করার আগেই একটু বেশিই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন। মাত্রাতিরিক্ত আবেগ প্রমাণিত সাপেক্ষে প্রচলিত আইনে বিচার হোক। কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্র দ্বারা একজন আলেমের চরিত্রহনন, সরকারের জন্য তা হতে পারে বুমেরাং। এরচাইতে আর খুব বেশি কিছু লিখব না। যেহেতু দ্বীন শিক্ষায় আমার তেমন দখল নেই। ভুল কিছু লিখে থাকলে কওমি শিক্ষায় শিক্ষিতদের নিকট আবেদন রইল, মেহেরবানি করে শুধরিয়ে দিবেন।

পরিশেষে সরকার, হেফাজত ও মডার্ন মুসলিমদের উদ্দশ্যে বলতে চাই- দেশ ও জনগণের স্বার্থে অতিত ইতিহাসের দিকে মনোনিবেশ করা আজ প্রত্যেকেরই বড় প্রয়োজন। ক্ষমতায় কেউ চিরদিন থাকতে পারে না। সাধারণ মানুষের সেন্টিমেন্ট পুঁজি করে আন্দোলন করার পর সনদ নামক মোহ প্রাপ্তিতে উচ্ছ্বসিত হলে চলবে না। আর ঠিকমতো সুরা ফাতিহা পড়তে না জানা মানুষগুলো, দু-চারটা হাদিসের বই পড়েই দয়া করে আলেমদেরকে নিয়ে ট্রল বন্ধ করুন। তা না হলে নড়বড়ে ঈমানটাই নির্বাসিত হবার জন্য হবে যথেষ্ট। তখন শুধু পরিবার হতে রাখা নিজ নামটাই থাকবে মুসলিমের।

(জেএইচ/এসএএম/০৮ এপ্রিল ২০২১)

Short URL: https://biniyougbarta.com/?p=141719

সর্বশেষ খবর