Responsive image

‘টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য উৎপাদন সক্ষমতা ও শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে’

প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৭ শতাংশের প্রবৃদ্ধি টেকসই করতে হলে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে বলে মত দিয়েছে বহুজাতিক দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক।

সংস্থাটির মতে, অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতায় চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার হবে ৬.৮ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতির হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরতে গতকাল রোববার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চলতি অর্থবছরের জিডিপির এই প্রাক্কলন করা হয়। সেই সঙ্গে ৭ শতাংশের টেকসই প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে করণীয় বিষয়ে মতামতও দেওয়া হয়।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে চলতি অর্থবছরে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে বলে সাময়িক হিসাব করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সরকারি বিনিয়োগের দক্ষতা, শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ এবং উৎপাদনে সম্পদের ব্যবহার বাড়ানো গেলে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে জিডিপিতে বাড়তি ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি যুক্ত করা সম্ভব। এর মধ্যে শুধু উৎপাদনশীলতার দক্ষতা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১.৫ শতাংশ এবং শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ বাড়িয়ে ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, বর্তমানে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে স্থিতিশীলতা থাকলেও রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ে (রেমিট্যান্সে) প্রতিকূল হাওয়া বইছে। সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা থাকলেও মুদ্রার বিনিময় হার, রাজস্ব আহরণ এবং ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য ব্যবস্থাপনাকে অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের অর্থনীতির হালনাগাদ পরিস্থিতি তুলে ধরেন বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন। এ সময় আরও বক্তব্য দেন বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান।

জিডিপি প্রবৃদ্ধির টেকসই অবস্থান ধরে রাখতে বিশ্বব্যাংক শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। আর সেটি করতে হলে বাল্যবিবাহ রোধ, পেশার উন্নয়নে নারীর বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ, শ্রমবাজারে নারী-পুরুষের সমতাবিধান, কর্মপরিবেশের প্রতিবন্ধকতা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না বাড়ার পেছনে তিনটি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। সেগুলো হলো অসম পারিবারিক দায়িত্ববোধ, দক্ষ মানবসম্পদের অভাব ও নানা ক্ষেত্রে দৃশ্যমান বৈষম্য। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপের তথ্য উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংক বলছে, পারিবারিক কাজের ৭৪ শতাংশ দায়িত্ব নারী পালন করে থাকেন।

এদিকে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়াকে সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

সংস্থাটি বলছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অভিবাসন ও অ্যান্টি মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপের কারণে রেমিট্যান্স কমে গেছে। অনেক বিশ্লেষক রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে যাওয়াকে দায়ী করলেও এর সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলছে, শুধু তেলের দাম কমার কারণে রেমিট্যান্স কমলে তাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আশঙ্কাজনকভাবে প্রবাসী আয় কমার কথা নয়।
মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি ও লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংক বলছে, সামগ্রিক বিনিয়োগের সঙ্গে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি ও এলসি নিষ্পত্তির তথ্যটি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির সঙ্গে অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন সংস্থাটির কর্তাব্যক্তিরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য দিয়ে বিশ্বব্যাংক জানায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাই–জানুয়ারি সময়ে ২৬৭ কোটি মার্কিন ডলারের নতুন এলসি খোলা হয়। ওই সময়ে এলসি নিষ্পত্তি হয় প্রায় ১৯৬ কোটি ডলারের। সেখানে চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের একই সময়ে ৩০১ কোটি ডলারের নতুন এলসি খোলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আগের বছরের চেয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। এ সময়ে এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ৩২২ কোটি ডলারের, এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি প্রায় ৬৫ শতাংশ।

বিদেশে অর্থ পাচার রোধ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে জাহিদ হোসেন বলেন, বিনিয়োগের পরিবেশের দুর্বলতা কমানো এবং সুশাসনের উন্নয়ন ঘটানো গেলে অর্থ পাচার কমবে।

(এসএএম/ ১৫ মে ২০১৭)

Short URL: https://biniyougbarta.com/?p=12375

সর্বশেষ খবর