Responsive image

হাওরের কৃষকদের সুখ-দুঃখ

মুহাম্মদ জাভেদ হাকিম: বিধাতার দুনিয়ায় তার উত্তম সৃষ্টি মানুষের রয়েছে নানাবিধ কর্মজীবন। কেউ জম্মগতভাবেই বিশাল ধনী। আবার কারওবা দিনমজুরি দিয়েই যায় জীবন। আহারে জীবন। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে সবচাইতে বেশি পরিশ্রমী ও ত্যাগী মনে হয় তাদেরকে-যারা রয়েছেন কৃষক এবং কৃষিকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। মাঠে কাজ করা কৃষকদেরকে সামনা সামনি না দেখলে বুঝা যাবে না তাদের যাপিতজীবন কতটা কষ্টকর। ক্ষেত নিড়ানি, বীজবপণ থেকে শুরু করে একেবারে ফসল বাজারজাত করা পর্যন্ত অক্লান্ত দৈহিক ও মানসিক পরিশ্রম করেই চলেছে তারা। তাই এই চলমান লকডাউনে কৃষকের সুখ-দুঃখের গল্প শুনতে ছুটে গিয়েছিলাম কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের বিস্তৃর্ণ হাওরের বুকে কাজ করা ধান চাষিদের সান্নিধ্যে।

প্রথমেই নয়াগাঁও এলাকার যে ধানক্ষেতে নামি, সেখানে দেখি প্রখর রোদে পাকা ধান কেটে তা মাথায় তুলে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে রাখছেন। কৃষকদের কাজের ফাঁকেফাঁকে চলমান লকডাউনে তারা কী ধরণের সমস্যার সমুক্ষিণ হচ্ছেন, তা প্রত্যেকের মুখ থেকে আলাদা আলাদাভাবে শুনি। সেইসঙ্গে এবার কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়েছে কিনা- তাও জানার চেষ্টা করি। আলাপচারিতার একপর্যায় কৃষকদের নানান সুখদুঃখের গল্প জমে উঠে।

 

 

আগেই বলে রাখি, কৃষকদের পেশা তুলে ধরতে গিয়ে আমি কিন্তু অন্যন্য পেশাজীবিদের খাঁটো করছি না। কারণ, যার যার অবস্থান থেকে সে-ই সংশ্লিষ্ট কাজে পরিশ্রমী। তবে কৃষকদের ব্যাপারটা সম্পূর্ণই ভিন্ন। বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। অথচ, কৃষকরা আজও অবহেলিত। তাদের ন্যায্য প্রাপ্ত অনেক সুযোগ সুবিধা হতেই নিগৃহীত, বঞ্চিত। তাদের উৎপাদিত ধান ছিলো রাতা ও হিরা। স্থানীয়ভাবে রাতা ধান হতে ছাঁটাই করা চাউলকে ‘জামাইমুখি’ চালও বলে থাকে। এটা মূলত পোলার চাউল। ‘হিরা’ হল মোটা ভাতের চাউল। ফসলের মাঠে কাজ করা অধিকাংশ কৃষকেরই কড়া অভিযোগ ছিলো লকডাউনের ব্যাপারে।

তাদের ভাষ্য মতে, লকডাউন তাদের বিশাল আর্থিক ক্ষতি করেছে। কারো কারো ফসলে চিটাও হয়েছে। সেই সাথে ধান কাটার মাত্র দুইদিন আগে বয়ে যাওয়া প্রবল বাতাসেও পাকা ধানের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফলন হয়েছিলো প্রচুর। কিন্তু শেষ মূহুর্তের প্রাকৃতিক দুর্যোগ তা অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। সবমিলিয়ে এবার তারা আশানুরূপ ফসল ও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারবে না বলছে তারা। এসব শুনে সত্যিই সামনে থেকে দেখা যে কারোরই মন খারাপ হয়ে যাবে।

এরপর ছুঁটে যাই অষ্টগ্রামের পথে। যেতে যেতে আসনপুর গ্রামে গিয়ে বাইক ব্রেক। কথা হয় কৃষকদের সঙ্গে। তারা ২৯ ও ৫৮ জাতের ধান তুলেছে। তাদের ফসলও বেশ ভাল হয়েছে। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে আন্দাজ করা যায়, আসনপুরের ধান চাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবে।

(চলবে…..)

(জেএইচ/এসএএম/২১ এপ্রিল ২০২১)

 

Short URL: https://biniyougbarta.com/?p=142677

সর্বশেষ খবর