সরকার

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৪টি অগ্রাধিকারমূলক কাজের তালিকা প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম তার ১৪টি অগ্রাধিকারমূলক কাজের তালিকা প্রকাশ করেছেন, যা তিনি ৬ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে তার ভেরিফাইড ফেসবুক প্রোফাইলে শেয়ার করেছেন। তালিকাটি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে, এবং এতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

১. শহীদ এবং আহতদের সহায়তা: মাহফুজ আলম জুলাই মাসে ঘটে যাওয়া অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া এবং আহতদের জন্য তালিকা প্রস্তুত এবং তাদের চিকিৎসা, অর্থসহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা।

২. গণহত্যার বিচার: জুলাই মাসের গণহত্যার ঘটনা নিয়ে বিচার প্রক্রিয়া চালানো, যথাযথ মামলা ও সুষ্ঠু তদন্ত কার্যক্রম গ্রহণ করা।

৩. গুম, খুন ও অর্থনৈতিক দুর্নীতি: গত ১৬ বছরে ঘটে যাওয়া গুম, খুন ও অর্থনৈতিক দুর্নীতির বিচার এবং লুট করা অর্থ ফেরত আনা।

৪. জনগণের নিরাপত্তা: জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখা।

৫. রাষ্ট্রীয় সংস্কার: জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তবসম্মত সংস্কার করা।

৬. জনগণের জন্য উন্নয়ন: শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, তথ্য প্রযুক্তি, আবাসন ও অন্যান্য জনগুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে সুষ্ঠু সংস্কার এবং উন্নয়ন।

৭. তরুণদের জন্য সমতা: তরুণ প্রজন্মের জন্য চাকরি, উদ্যোগ এবং অর্থনৈতিক সমতার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা বৃদ্ধি করা।

৮. জনগণের জন্য অর্থনৈতিক কর্মসূচি: উন্নয়ন অর্থনীতির পরিবর্তে জনগণের, প্রাণ, প্রকৃতি এবং পরিবেশের জন্য উপকারী অর্থনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করা।

৯. সরকারের স্বচ্ছতা ও জনগণের সেবা: সরকারের সকল কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের সেবা নিশ্চিত করা।

১০. রাজনৈতিক ঐক্য: অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা বিলোপ এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করা।

১১. জাতীয় স্বার্থ: জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় বড় কর্পোরেশন এবং বিদেশী স্বার্থের বাইরে জনগণের স্বার্থ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ করা।

১২. জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা: জাতীয় নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য বজায় রাখা।

১৩. সংস্কারের জন্য জনগণের সমর্থন: সংস্কারের পক্ষে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা।

১৪. রাজনৈতিক শিক্ষা: সারা দেশের মানুষ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও দায়িত্বশীল করে তোলা, যাতে তারা তাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে অবগত থাকে।

এই তালিকা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আনার জন্য অগ্রাধিকারযুক্ত পদক্ষেপগুলো চিহ্নিত করেছে, যা দেশের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়তা করবে।

বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//


Comment As:

Comment (0)