Responsive image

পুঁজিবাজারে আসছে ২২ হাজার কোটি টাকার মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অবন্টিত লভ্যাংশ, বিনিয়োগকারীদের সমন্বিত হিসেবে থাকা দাবীহিন টাকা দিয়ে গঠন করা হচ্ছে ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’।

গত সোমবার(২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১) এ ফান্ড গঠনের খসড়া প্রকাশ করে তা জনমত যাচাইয়ের জন্য ওয়েবসাইটে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

জনমত যাচাইয়ের পর তা চূড়ান্ত করবে কমিশন। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এই ফান্ড গঠন সম্ভব হবে বলে মনে করে বিএসইসি।

বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিএসইসির এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত বিধিমালার খসড়ায় বলা হয়েছে, সব অবণ্টিত লভ্যাংশ এবং ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের কাছে তিন বছরের অধিক সময় পড়ে থাকা অর্থ ও শেয়ার এ তহবিলে স্থানান্তর করা হবে। তিন বছরের হিসাব হবে লভ্যাংশ ঘোষণা বা অনুমোদনের দিন বা রেকর্ড ডেট থেকে। এক্ষেত্রে নগদ লভ্যাংশ বা অর্থ ব্যাংক হিসাবে জমা থাকায় কোনো সুদ অর্জিত হলে, তাও এ তহবিলে দিতে হবে।

খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে কোনো বিনিয়োগকারীর কতটা অবণ্টিত লভ্যাংশ বা অর্থ বা শেয়ার পড়ে আছে, তা সুনির্দিষ্ট তথ্যসহ তহবিলকে হস্তান্তর করতে হবে। তবে এ তালিকা প্রকাশের বিষয়টি বিধিমালায় নেই। প্রতিবেশী ভারতসহ অনেক দেশে সংশ্নিষ্ট কোম্পানি এবং তহবিলের পক্ষ থেকে ওয়েবসাইটে তালিকা প্রকাশ ও হালনাগাদ করা হয়।

খসড়া বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, স্থিতিশীলকরণ তহবিলটি ব্যবস্থাপনায় ১১ সদস্যের বোর্ড অব গভর্নরস থাকবেন, যার চেয়ারম্যান ছাড়াও তিনজন সদস্য মনোনীত করবে বিএসইসি। এছাড়া ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল),সিসিবিএল, (এফসিএ,এফসিএমএ ও সিএফএ), তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সংগঠন বিএপিএলসি থেকে একজন করে সদস্য থাকবে। অন্যদিকে তহবিলের প্রধানের পদ হবে চিফ অব অপারেশন। প্রথম বোর্ড গঠন করবে কমিশন।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, তহবিল থেকে বাজারের তারল্যপ্রবাহ এবং গভীরতা বাড়াতে শেয়ার কেনাবেচা বা ধার প্রদান বা ধার গ্রহণ করা হবে। শেয়ার কেনাবেচা করতে গিয়ে তহবিলের কোনো লোকসান না হয়, তার জন্য সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন করা হবে, থাকবে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও অডিট কমিটি।

কমিশন সূত্র জানায়, তহবিলে শেয়ার বা টাকা হস্তান্তরের পরও তা দাবি করতে পারবেন সংশ্নিষ্ট বিনিয়োগকারী। নিজের দাবির প্রমাণসহ সংশ্নিষ্ট কোম্পানি বা সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানি বা ব্রোকারেজ হাউস বা মার্চেন্ট ব্যাংকের আছে আবেদন করতে হবে। আবেদনের এক মাসের মধ্যে ওই বিনিয়োগকারীর শেয়ার বা টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

জানা যায়, নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমে ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোতে অবন্টিত লভ্যাংশের তথ্য চেয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডকে (সিডিবিএল)একটি চিঠি ইস্যু করে। সেখানে প্রতিষ্ঠান তিনটিকে পরবর্তী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তথ্য চেয়ে কোম্পানিগুলোকে চিঠি দিতে বলা হয়। পরবর্তীতে ডিএসই কোম্পানিগুলোকে ১০ নভেম্বরের মধ্যে তথ্য দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিষ্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) সভাপতি আজম জে চৌধুরীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও ৭ দিন সময় বাড়ায় বিএসইসি। এরপর ২০২০ সালের ১৬ নভেম্বর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) কাছে এ বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছিল।

বিএসইসির উপ-পরিচালক মো. কাউসার আলী স্বাক্ষরিত চিঠিতে ১৫ দিনের মধ্যে তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন।

জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ফান্ডের আকার হবে ২২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন কোম্পানিতে নগদ টাকা রয়েছে প্রায় এক হাজার ৬০০ কোটি। বাকিগুলো রাইট বা বোনাস শেয়ারে রয়েছে। তবে ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকে দাবিহীন টাকার পরিমাণের তথ্য বিএসইসির কাছে আসেনি। সবমিলিয়ে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে ফান্ড গঠন করে পুঁজিবাজারকে সাপোর্ট দিতে চায় বিএসইসি।

(এসএএম/২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১)

Short URL: https://biniyougbarta.com/?p=138280

সর্বশেষ খবর