নিলক্ষায় ফের আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের টেটা ও বন্দুক যুদ্ধ॥ আহত ২০
নরসিংদী প্রতিনিধি, বিনিয়োগবার্তা: আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিবাদমান দুই আওয়ামীলীগ নেতার দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ৬ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০, দুটি বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ ও ২০টি বাড়ী ভাংচুর ও লুটপাট হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে নরসিংদীর রায়পুরার দুর্গম চরাঞ্চল নিলক্ষা ইউনিয়নের গোপিনাথপুর ও দড়িগাঁও গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুর ইসলাম এই ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। আহতরা পুলিশী গ্রেফতার এড়াতে আহতরা ভৈরব, নবীনগরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাদের স্বজনরা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিগত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী তাজুল ইসলাম নৌকা মার্কা নিয়ে বিজয়ী হন এবং রায়পুরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হক সরকার বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হন। এরপর থেকে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্রে করে তাজুল ইসলাম গ্রুপ বনাম হক সরকার গ্রুপ কমবেশী ১০/১২টি টেটা ও বন্দুক যুদ্ধ হয়। এতে ঐ ইউনিয়নের নয়টি তাজা প্রাণহানী, পাঁচশতাধিক ব্যক্তি আহত, অর্ধশতাধিক বাড়ীতে অগ্নি সংযোগ ও দুই শতাধিক বাড়ীঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকার কারণে এ সহিংসতা আর এগোতে পারেনি।
দীর্ঘ সাত মাস পর পূনরায় বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টার দিকে উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে রায়পুরা সার্কেলের এএসপি বেলাব হোসেনের নেতৃত্বে নরসিংদী পুলিশ লাইন ও রায়পুরা থানার একশত পয়ত্রিশ জন পুলিশ সদস্য নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করেছে এবং সাময়িকভাবে আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রনে এনেছে। এ খবর লেখা পর্যন্ত উভয় গ্রুপ মুখোমুখী অবস্থানে রয়েছে। যে কোন সময় আবরও শুরু হতে পারে এ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। ঘটতে পারে আরো অসংখ্য প্রাণহানীর ঘটনা।
নরসিংদীর অভিজ্ঞ মহল মনে করেন, রাজনৈতিক কারণে রায়পুরার চরাঞ্চল নিলক্ষা ও বাঁশগাড়ী ইউনিয়নে এই বন্দুক ও টেটাযুদ্ধকে জিয়িয়ে রাখা হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের কিছু অসৎ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ফায়দা হাসিল হচ্ছে অপরদিকে পয়সা কামচ্ছেন রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাহারুল ইসলাম সরকার। তিনি দু’পক্ষ থেকেই টাকা নিচ্ছেন এবং দু’পক্ষকেই সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করছেন। যে কারণে পুলিশের স্বদিচ্ছা থাকলেও এ সংঘর্ষকে সমূলে উপড়ে ফেলতে চাচ্ছেনা। এ কারণে স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও প্রশাসন সম্পর্কে মানুষের মনে খারাপ ধারনা জন্ম নিচ্ছে।
(এসএইচআর/এসএএম/ ২৫ মে ২০১৭)