উত্তর কোরিয়াই রিজার্ভ চুরিতে জড়িত; ক্যাসপারস্কির দাবি
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় উত্তর কোরিয়া জড়িত রয়েছে বলে এবার দাবি করেছে রাশিয়াভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি। সোমবার ক্যাসপারস্কি ল্যাব দাবি করেছে, তাদের কাছে প্রমাণ আছে গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে নিউউয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব থেকে ৮১ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার একদল গবেষক জড়িত রয়েছে।
কিছুদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, চীনা মধ্যসত্ত্বভোগীদের সহায়তায় উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিপুল অংকের অর্থ লোপাট করেছে।
এফবিআইর তদন্ত কর্মকর্তারাদের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস বলেছে, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা উত্তর কোরিয়া যদি ডিজিটাল চুরির আশ্রয় নেয় তবে তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
কর্মকর্তাদের দাবি, হ্যাকাররা একই কোড ব্যবহার করে বাংলাদেশ ব্যাংক, ভিয়েতনামের ব্যাংক, ২০১৪ সালে সনিতে হামলা এবং ২০১৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় সাইবার হামলার ঘটনা ঘটায়।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক খবরে বলা হয়েছে, রাশিয়াভিত্তিক এই সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি অজ্ঞাত পরিচয়ে অনলাইনে অর্থ হাতানোর ঘটনাগুলোর ওপরে ৫৮ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনই বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা সম্পর্কে নতুন এই তথ্য উঠে এসেছে।
ক্যাসপারস্কির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ল্যাজারাসের হ্যাকাররা শুরুতেই উত্তর কোরিয়ার একটি আইপি অ্যাড্রেস থেকে ইউরোপের একটি সার্ভারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করে। যে সার্ভার ল্যাজারাসের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
ক্যাসপারস্কির গবেষক ভিটালি কামলুক রয়টার্সকে বলেন, শুরুতেই তারা উত্তর কোরিয়া ও ল্যাজারাসের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়টির প্রমাণ পান। ২০০৯ সাল থেকেই এই হ্যাকিং গ্রুপটি সক্রিয় রয়েছে বলে তাদের কাছে প্রমাণাদিও রয়েছে।
তিনি বলেন, এর পেছনে পিয়ংইয়ংয়ের হাত রয়েছে তা তিনি বলছেন না। তবে এই সাইবার হামলার সঙ্গে জড়িতরা উত্তর কোরিয়া থেকে আসা বা উত্তর কোরিয়ার কেউ অন্যদের সঙ্গে নিয়ে এটা করেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি করে হ্যাকাররা। চুরি যাওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলারের কিছু অর্থ ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের কয়েকটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেন হ্যাকাররা।
এ নিয়ে দীর্ঘ তদন্তের পর ম্যানিলার ব্লু রিবন কমিটি জানায়, ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের জুপিটার স্ট্রিটের শাখা থেকে ওই ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার ব্যাংকটির চারটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। পরে এই অর্থ ক্যাসিনোতে ব্যবহার করা হয়।
(ইউএম/ ৪ এপ্রিল ২০১৭)