চাল আমদানি

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠি

বছরে ২৫ হাজার টন সুগন্ধি চাল রফতানি করবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: বছরে মোট ২৫ হাজার টন সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমতি প্রদানের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। ছয় মাসের মধ্যে এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে রফতানিকারকদের সময়সীমা বেঁধে দেয়ার কথাও বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সুগন্ধি চালের সর্বনিম্ন রফতানিমূল্য প্রতি কেজি ১ দশমিক ৬ মার্কিন ডলার নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রফতানি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব (রফতানি) মো. আবদুর রহিম খান বলেন, ‘চাল রফতানির বিষয়টি অনুমোদনের কাজ এখনো প্রক্রিয়াধীন। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেয়া দরেই ২৫ হাজার টন চাল রফতানির অনুমোদন দেয়া হবে।’

গত ২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভার কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্ত ৬(খ) অনুযায়ী, সুগন্ধি চালের দেশীয় উৎপাদন, সরবরাহ ও চাহিদাকে বিবেচনা করে নন-বাসমতী চালের দেশীয় মূল্যের ২-৩ গুণ বেশি রফতানি মূল্যে যৌক্তিক পরিমাণ সুগন্ধি চাল রফতানির বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় এ সুপারিশ করেছে। এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সে লক্ষ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক সুগন্ধি চালের রফতানি মূল্য ও রফতানির পরিমাণ নির্ধারণে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে দেয়া চিঠিতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (এফপিএমইউ) মাহবুবুর রহমান জানান, সুগন্ধি চালের চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এর সঠিক চাহিদা ও ভোগ নিরূপণ করা জরুরি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক এবিএম রকিবুল হাসান জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমন, আউশ ও বোরো—এ তিন মৌসুমে সুগন্ধি চাল উৎপন্ন হয়েছে মোট ১৫ লাখ ৮০ হাজার ৮৪০ টন। ওই অর্থবছরে ৩ হাজার ২৫ দশমিক ৯২ টন সুগন্ধি চাল রফতানি হয়েছিল। মানভেদে খোলা সুগন্ধি চালের বর্তমান বাজারদর ৯০-১২০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ১৫০-১৬৫ টাকা।

চিঠিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব এসএইচএম মাগফুরুল হাসান আব্বাসী জানান, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩৩ হাজার ৪০০ টন এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৫ হাজার ৬০০ টন সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সুগন্ধি চাল রফতানির বিষয়ে বিভিন্ন রফতানিকারকদের ১৩৬টি আবেদন বর্তমানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়েছে।

চিঠিতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের উপপ্রধান মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে সুগন্ধি চালের চাহিদা রয়েছে। দেশে উৎপাদিত সুগন্ধি চালের প্রধান ক্রেতা প্রবাসী বাংলাদেশীরা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে রফতানীকৃত সুগন্ধি চালের গড় মূল্য ১ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলারের মতো ছিল।’ তিনি রফতানির সময়সীমা ন্যূনতম ছয় মাস করার বিষয়েও অভিমত দেন।

সভায় বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক মো. ইকতাদুল হক এবং বাংলাদেশ চাল রফতানিকারক সমিতির সভাপতি মোহা. ইসহাকুল হোসাইন সুইট বছরে ৫০ হাজার টন সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমতি দেয়ার জন্য প্রস্তাব করেন। তারা উভয়েই চালের রফতানি মূল্য প্রতি কেজি ১ দশমিক ৩০ মার্কিন ডলার নির্ধারণের পরামর্শও দেন।

বাজার স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে খাদ্য মন্ত্রণালয় ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি সুগন্ধিসহ সব ধরনের চাল রফতানি বন্ধ করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করে। সেই প্রেক্ষাপটে তখন সুগন্ধি চাল রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এফপিএমসি সভায়ও দেশের সার্বিক খাদ্য পরিস্থিতি বিবেচনায় রফতানি কার্যক্রম বন্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়।

বিনিয়োগবার্তা/এসএএম//


Comment As:

Comment (0)