হতাশ করে হারলো বাংলাদেশ

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: জয় না, ড্র হোক! এমনই চাওয়া ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের। তবে সবাইকে হতাশ করে আধা বেলা বাকি থাকতেই গল টেস্ট হারলো মুশফিকবাহিনী। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯৭ রানে গুটিয়ে গেছে টাইগাররা। এতে ২৫৯ রানের বড় জয় পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। এ নিয়ে ২ ম্যাচ টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলো স্বাগতিকরা।

এ টেস্ট জিততে টাইগারদের লক্ষ্য ছিল ৪৫৭ রান। বিশাল লক্ষ্যে খেলতে নেমে চতুর্থ দিন শেষ বিকেলে সব আলো কেড়ে নেয় বাংলাদেশ। বিনা উইকেটে ৬৭ রান তুলে দিনটি শেষ করে টাইগাররা। ৫৩ রানে সৌম্য সরকার ও ১৩ রান নিয়ে তামিম ইকবাল ক্রিজে ছিলেন। এতে পঞ্চম ও শেষ দিনে মুশফিকদের জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৯০ রান। এ থেকেই টাইগার সমর্থকরা বুকে আশা বাঁধেন জয় না হোক, ড্র হতে পারে! সব সমীকরণ মিলিয়ে তা খুব একটা কঠিনও ছিল না। কিন্তু সবাইকে নিরাশ করে হেরেই গেলো বাংলাদেশ।

বলতে গেলে পঞ্চম দিনের সকালটা দুঃস্বপ্ন হয়েই দেখা দেয় বাংলাদেশ শিবিরে। আগের দিনের ৬৭ রানের সঙ্গে মাত্র ৩৭ রান যোগ করতেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে টাইগাররা। প্রথম সেশনেই সৌম্য সরকারের পর মুমিনুল হক, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে হারিয়ে ধুঁকতে থাকে তারা।

বাংলাদেশের বিপর্যয়ের শুরু হয় সকালের শুরুতেই। অসেলা গুনারত্নের করা দিনের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই দিলরুয়ান পেরেরার হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন সৌম্য সরকার (৫৩)। চতুর্থ দিন দুর্দান্তভাবে ফিফটি তুলে নিলেও এদিন কোনো রানই নিজের নামের পাশে যোগ করতে পারেননি তিনি। টি-২০ স্টাইলে খেলে মাত্র ৪৯ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় এ ইনিংস খেলেন বাংলাদেশের মারকুটে ব্যাটসম্যান।

সৌম্যর বিদায়ের পর মুমিনুল হককে সঙ্গে নিয়ে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন তামিম ইকবাল। তবে এ যাত্রায় তারা ব্যর্থ হন। দলীয় ৮০ রানে ব্যক্তিগত ৫ রান করে দিলরুয়ান পেরেরার বলে এলবিডব্লুর শিকার হয়ে ফেরেন পয়েট অব ডায়নামো খ্যাত মুমিনুল হক। এরপর দলীয় স্কোরবোর্ডে আর ৩ রান যোগ করতেই সেই পেরেরার বলে গুনারত্নের হাতে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ১৯ রান করে ফেরেন ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল।

তামিম আউট হবার পর মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে জুটি বাঁধার চেষ্টা করেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। কিন্তু এদিনও ব্যর্থ হন সাকিব। ব্যক্তিগত ৮ রান করে রঙ্গনা হেরাথের বলে লেগ স্লিপে করুনারত্নের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। হেরাথের এক বল পরেই এলবিডব্লুর শিকার হয়ে ফেরেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।এরই সঙ্গে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে মুশফিকবাহিনী। তবে তা কাটিয়ে ওঠার প্রাণান্তকর চেষ্টা চালায় মুশফিক ও লিটন। ছোট প্রতিরোধও গড়ে তোলেন তারা।

৫ উইকেটে ১৫৭ রান তুলে লাঞ্চে যায় বাংলাদেশ। ওই সময় ৩৪ রানে মুশফিক ও ৩২ রানে লিটন দাস অপরাজিত ছিলেন। এতে মনে হচ্ছিল শেষ পর্যন্ত টেস্টটি ড্র হলেও হতে পারে। তবে লাঞ্চের পর বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নামলে সেই স্বপ্ন একেবারে উবে যায়। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে ফের দুঃস্বপ্ন ভার করে বাংলাদেশ শিবিরে।

লাঞ্চ থেকে ফিরেই লক্ষণ সান্দাকানের বলে উইকেটকিপার নিরোশান ডিকভেলার হাতে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ৩৪ রানেই ফেরেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। সঙ্গী হারিয়ে বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি লিটন দাসও। ব্যক্তিগত ৩৫ করে রঙ্গনা হেরাথের বলে থারাঙ্গার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। তার আগে মুশফিকের সঙ্গে ৫৪ রানের জুটি গড়েন।

এরপর তাসের ঘরে মতো ভেঙে পড়ে মুশফিকের দল। দলীয় ১৮০ রানে হেরাথের বলে কুশল মেন্ডিসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তাসকিন আহমেদ। তিনি করেন ৫ রান। এর কিছুক্ষণ পর তারই বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন মুস্তাফিজুর রহমান। কাটার মাস্টারের ব্যাট থেকে কোনো রান আসেনি। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ব্যক্তিগত ২৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন উদীয়মান অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনিও হেরাথের শিকার। কুমারার হাতে তাকে ক্যাচ বানিয়ে ফিরতে বাধ্য করেন তিনি।

শ্রীলঙ্কার হয়ে রঙ্গনা হেরাথ নেন ৬ উইকেট। ২ উইকেট যায় দিলরুয়ান পেরেরার দখলে। আর ১টি করে উইকেট নেন অসেলা গুনারত্নে ও লক্ষণ সান্দাকান।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ কুশল মেন্ডিস।

(এমআইআর/ ১১ মার্চ ২০১৭)


Comment As:

Comment (0)