সোবার্স, পতৌদি, জয়াসুরিয়াদের পথ ধরে মুশফিক

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: পি সারা ওভালে কাল শততম টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কায় রওনা হওয়ার আগে মুশফিকুর রহিম দলের শততম টেস্টে নেতৃত্ব দিতে পারার রোমাঞ্চের কথা জানিয়ে গেছেন। মুশফিকের আগে এই রোমাঞ্চে ভেসেছেন আরও নয়জন। দেখে নিন সেই নয়জনকে, যাঁরা অধিনায়কত্ব করেছেন দেশের শততম টেস্টে-

 

 
আর্চি ম্যাকলারেন (ইংল্যান্ড)
ম্যাকলারেন ইংল্যান্ডের অধিনায়কত্ব পেয়েছিলেন ১৮৯৭ সালে। মাঝে একবার অধিনায়কের পদ হারিয়েছেন। তবে অধিনায়ক-জীবনের শেষ দিকে এসে অনন্য এক রোমাঞ্চে ভাসেন। ১৯০৯ সালের জুলাইয়ে হেডিংলিতে শততম টেস্ট খেলতে নেমেছিল ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দেন ম্যাকলারেন। উপলক্ষটা অবশ্য স্মরণীয় করে রাখতে পারেননি। ম্যাচটি অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১২৬ রানে হেরেছিল ইংলিশরা। ৩৫ টেস্টে ৫টি সেঞ্চুরি ও ৮টি ফিফটি করা ইংলিশ ব্যাটসম্যানের পরিসংখ্যানটা আহামরি মনে না হলেও ম্যাকলারেন নিশ্চয়ই স্বর্গে বসেও অনুভব করেন দেশের শততম টেস্টে অধিনায়কত্ব করার গৌরব!

সিড গ্রেগরি (অস্ট্রেলিয়া)
সিড গ্রেগরির কপাল বটে! ২২ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারের একদম শেষ দিকে অধিনায়কত্ব পান আকস্মিকভাবেই। ১৯১২ সালে খেলোয়াড়দের যে বেতন-ভাতা প্রস্তাব করা হয়েছিল সেটা অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ খেলোয়াড়েরা প্রত্যাখ্যান করেন। একই বছরের মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্ব দেওয়া হলো গ্রেগরির কাঁধে। ১৯১২ সালের ২৭ মে ওল্ড ট্রাফোর্ডে অস্ট্রেলিয়ার শততম টেস্টের অধিনায়কত্ব করেন তিনিই। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচটা অস্ট্রেলিয়া জিতেছিল ইনিংস ও ৮৮ রানে। ওই টুর্নামেন্টের পর শুধু অধিনায়কত্বেই নয়, দুই দশকের বেশি লম্বা ক্যারিয়ারেও যতি পড়ে যায় গ্রেগরির।

ডাডলি নার্স (দক্ষিণ আফ্রিকা)
১৯৪৯ সালের মার্চে পোর্ট এলিজাবেথে সিরিজ বাঁচানোর সমীকরণ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে। প্রোটিয়া অধিনায়ক নার্সের চেষ্টার কমতিও ছিল না। প্রথম ইনিংসে করলেন ৭৩, দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ৩০ রান। ম্যাচ জেতার চেষ্টায় মাত্র ১৮৭ রানে ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু নিজেদের শততম টেস্টে জিততে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা, হেরেছিল ৩ উইকেটে।

গ্যারি সোবার্স (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
গ্রেগরির সঙ্গে দারুণ মিল স্যার গ্যারি সোবার্সের। গ্রেগরির মতো তিনিও অধিনায়কত্বের অভিষেকেই পেয়েছিলেন দারুণ এক স্বাদ। ১৯৬৫ সালের ৩ মার্চ কিংস্টনে তাঁর অধিনায়ক-পর্বের শুরুর টেস্টটি যে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের শততম টেস্ট। অস্ট্রেলিয়াকে ১৭৯ রানে হারিয়ে নিজেদের শততম টেস্টটা স্মরণীয় করে রেখেছে ক্যারিবীয়রা। ব্যাটিং-বোলিংয়ে সোবার্সের অবশ্য টেস্টটা ভালো যায়নি। দুই ইনিংসে করেছিলেন ৩০ ও ২৭ রান। বোলিংয়ে নিয়েছিলেন মাত্র ২ উইকেট।

মনসুর আলী খান পতৌদি (ভারত)
১৯৬৭ সালের জুলাইয়ে এজবাস্টনে ভারত খেলে নিজেদের শততম টেস্ট। এক টেস্ট আগেই হেডিংলিতে ১৪৮ ও ৬৪ রানের দুর্দান্ত দুটি ইনিংস খেলা ভারতীয় অধিনায়ক পতৌদি জুনিয়রকে অবশ্য দলের শততম টেস্টে স্বরূপে দেখা যায়নি। প্রথম ইনিংসে শূন্য আর দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ৪৭ রান। ভারত ম্যাচটা হারে ১৩২ রানে।

বেভান কংডন (নিউজিল্যান্ড)
গ্রেগরি-সোবার্সের সঙ্গে দারুণ মিল কংডনের। যেদিন তাঁর অধিনায়ক-অধ্যায় শুরু, সেদিন দল খেলেছে শততম টেস্ট। তবে গ্রেগরি-সোবার্স যেটি পারেননি সেটিই করে দেখিয়েছিলেন কংডন। ১৯৭২ সালের মার্চে ব্রিজটাউন টেস্টে কিউই অধিনায়ক করেছিলেন সেঞ্চুরি। মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে দুই ইনিংস মিলিয়ে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। তবে ম্যাচ জিততে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ড্র করেছিল তাঁর দল।

মুশতাক মোহাম্মদ (পাকিস্তান)
১৯৭৯ সালের মার্চে এমসিজিতে পাকিস্তান খেলেছে তাদের শততম টেস্ট। মুশতাক মোহাম্মদের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়াকে ৭১ রানে হারিয়ে ম্যাচটা স্মরণীয় করে রেখেছে পাকিস্তান। ওই জয়ে ২ টেস্টের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে এগিয়েও যায় পাকিস্তান।

সনাৎ জয়াসুরিয়া (শ্রীলঙ্কা)
পি সারা ওভালে বাংলাদেশ নিজেদের শততম টেস্টে স্মরণীয় করে রাখতে পারবে কি না, সময়ই বলে দেবে। তবে শ্রীলঙ্কার শততম টেস্টের অভিজ্ঞতা মধুর নয়। ২০০০ সালের জুনে এসএসসিতে পাকিস্তানের কাছে তারা হেরেছিল ৫ উইকেটে। শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক ছিলেন জয়াসুরিয়া।

গ্রায়েম ক্রেমার (জিম্বাবুয়ে)
দেশের শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করা অধিনায়ক-৪৪ বছর রেকর্ডটা নিজের করে রেখেছিলেন কংডন। ২০১৬ সালের অক্টোবরে হারারেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাঁকে ছুঁয়ে ফেলেন ক্রেমার। তাঁর ক্যারিয়ারেরও প্রথম সেঞ্চুরি, রেকর্ড বইয়ের আরও এক জায়গায় সেদিন নাম লিখিয়ে নেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক। দেশের শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করা সপ্তম ক্রিকেটার হয়ে যান তিনি।

(আরআর/১৪ই মার্চ ২০১৭)


Comment As:

Comment (0)