পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে বরিশালে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে বরিশালে সরগরম হয়ে উঠেছে ইলিশের বাজার। বর্তমানে বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে আড়াই হাজার টাকায়। অথচ গত ফেব্রুয়ারিতে এ ইলিশ এক থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হতো। বিক্রেতাদের দাবি, ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাজারে সরবরাহ কম। তাই দাম ‘একটু’ বেশি।
জানা গেছে, স্বাদু পানির নদী ছাড়াও সমুদ্র থেকে আহরিত ইলিশ আসে বরিশালের বিভিন্ন মোকামে। তবে ভরা মৌসুম না হওয়ায় এখন ইলিশের সরবরাহ কম। যে মাছ আনা হচ্ছে, তা পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ২৫ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা মণ দরে। এসব ইলিশ স্থানীয় বিভিন্ন বাজারে বিক্রির পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। গত ১ মার্চ থেকে জাটকা সংরক্ষণে মেঘনা-তেতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটারজুড়ে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আছে। এ কারণে মাছের সরবরাহ কম।
জেলেরা জানান, বরিশাল, ভোলা ও পটুয়াখালীর বিভিন্ন নদীতে যেসব স্থানে বেশি মাছ ধরা পড়ত, সেসব স্থানে দুই মাস ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবত্ আছে। তাই অন্য স্থান থেকে ইলিশ শিকার হচ্ছে, তবে তা চাহিদার তুলনায় কম। তাই বাজার চড়া। বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডের বেসরকারি মত্স্য অবতরণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, বাজারে মাছের তুলনায় ক্রেতা কয়েক গুণ বেশি। অনেক ক্রেতাই ইলিশ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
আড়তদার রাসেল সিকদার জানান, নিষেধাজ্ঞার আগে ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রামের ইলিশ প্রতি কেজি ৬০০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন সে মাছ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকায়। এছাড়া ৬০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের মাছ ১ হাজার ১৫০ ও এক কেজি ওজনের ইলিশ আড়াই হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার আগে এসব মাছ যথাক্রমে ৭০০ ও দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছিল। বাজারে ৩০০ থেকে ৩৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ আগে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন দাম ৪৫০ টাকা।
তিনি বলেন, এখন প্রতিনিয়তই ইলিশের দাম বাড়ছে। পহেলা বৈশাখের আগে দাম আর কমবে না।
ত্বোহা কাজী নামের এক মত্স্য ব্যবসায়ী বলেন, বাজারে সরবরাহ খুবই কম। মৌসুমের সময় পোর্ট রোডের ১৪১ জন আড়তদারের প্রত্যেকের কাছে যেখানে প্রতিদিন ৫০ মণ করে ইলিশ আসত, সেখানে এখন প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন মণ মাছ আসছে।
ইলিশের দাম নিয়ে তন্ময় দাস নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, পহেলা বৈশাখের কারণেই বাজারে ইলিশের দাম চড়া। পাশাপাশি অন্য মাছের পরিমাণও কম। তাই কিনতে এসেও ফিরে যেতে হচ্ছে।
কয়েকজন আড়তদার জানান, এখন বড় আকারের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। যা পাওয়া যাচ্ছে সংরক্ষণ করে তা দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে।
তারা জানান, ইলিশের বাজারের এ অবস্থা ৩০ চৈত্র পর্যন্ত থাকবে। পহেলা বৈশাখের পর থেকে ইলিশের বাজার সহনশীল পর্যায়ে চলে আসবে। এরই মধ্যে বিভিন্ন নদীতে ইলিশ শিকার নিষেধাজ্ঞার সময়সীমাও শেষ হবে।
বরিশাল জেলা মৎস অফিসের কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস বলেন, বরিশাল, ভোলা, মেহেন্দীগঞ্জের মেঘনা ও কালাবদর নদীর বেশ কয়েকটি পয়েন্টে ইলিশ ধরা বন্ধ। অন্য নদীতেও আশান? রূপা ইলিশ ধরা পড়ছে না। এছাড়া মৎস বিভাগের অভিযানের কারণে সরবরাহ কম থাকায় বাজারে ইলিশের দাম কিছুটা বাড়তি।
(এমএ/ এসএএম/ ১১ এপ্রিল ২০১৭)