কিছু অব্যবস্থাপনাকে ফ্রেমে বাঁধার সুপারিশ

শাহিনুর ইসলাম: রাষ্ট্রের সিনিয়র সিটিজেন আব্দুর রাজ্জাক। করোনা উপসর্গ নিয়ে রোববার (০৩ এপ্রিল ‘২০) ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে এসেছিলেন শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভাইরাস পরীক্ষা করাতে।

দীর্ঘ লাইনে তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। বিকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, আজ আর কোন পরীক্ষার নমুনা গ্রহণ করা হবে না, আগামীকাল আপনারা আসুন।

এ কথা শুনে মি. রাজ্জাক অসুস্থ্য হয়ে পড়লে হাসপাতালের সামনেই তাকে শুইয়ে রাখেন স্বজনরা এবং সেখানেই মারা যান তিনি।

ঘটনার পর পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়। সেখানে তার করোনা পরীক্ষা করা হবে।

জানি, আমাদের হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা দেয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। তবে মোকাবেলা করার মতো আমাদের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু আমাদের ব্যবস্থাপনার অভাব প্রচণ্ড। (স্বাস্থ্য নিরাপত্তা একটি দেশের অর্থনীতির ওপর তা নির্ধারণ করে। সেদিকে আর না গেলাম।)

সবকিছু একটু গুছিয়ে নিলেই করোনা রোগীদের পর্যাপ্ত সেবা দেয়া সম্ভব। সেই অব্যবস্থাপনাকে ফ্রেমে বাঁধার সুপারিশ।

কিছু সুপারিশ:

দেশের অনার্স ভর্তি পরীক্ষা শেষে যে সমন্বিত ভর্তি প্রক্রিয়া দেশে চালু করা হয়েছে সেই ব্যবস্থাপনা এখানে কার্যকর করা পারে।

যেমন- রোগী তার মোবাইল ফোন থেকে নির্দিষ্ট নম্বারে ফোন করবেন এবং সেখানে নিবন্ধিত হবেন। সেখান থেকেই তাকে বলা হবে আপনি অমুক হাসপাতালে এই সময়ে যাবেন। রোগীর নিবন্ধিত নম্বর সেখান থেকেই বলা হবে।

এরপরে সেই হাসপাতালে রোগীর নাম, মোবাইল নম্বর এবং এনআইডি মিলিয়ে তার ভতি বা নমুনা পরীক্ষা নেয়া সম্ভব। তাহলে রোগীকে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হবে না।

একটি হাসপাতালের সক্ষমতা অনুযায়ী রোগীকে কন্টোল রুম থেকে (নির্দিষ্ট স্থান) নিয়ন্ত্রণ এবং সেবা দেয়া সম্ভব।

আমার সুপারিশ নিয়ে প্রশসনের ব্যক্তিরা একটু ভাবুন অথবা এই পরামর্শ বাদ দিয়ে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার দিকে মনোযোগ দিন। সাফল্য আমাদের আসবেই।

তবে আমাদের মনে রাখবে হবে, দুর্ভিক্ষে মানুষ মরে না, শুধু অব্যবস্থাপনায় মানুষ মরে।

সেই অব্যবস্থাপনাকে একটি ফ্রেমে বাঁধতে চাই। এখনি তাকে বাঁধা উচিৎ।। ঘরে থাকুন, সুস্থ্য থাকুন।।

লেখক: সাংবাদিক।

(শাহিনুর/শামীম/০৪ মে ২০২০)


Comment As:

Comment (0)