আস্থা ফেরাতে পারলে শেয়ারবাজারেই বিনিয়োগ করবে মানুষ
আলি জামান: শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করলে সামান্য অংকের কর পরিশোধ করে কালো টাকা বৈধ করা যাবে। বাজেটে এমনটিই বলা হয়েছে। শেয়ারবাজারের পাশাপাশি ব্যাংকে আমানত করলেও এই সুযোগ মিলবে। প্রশ্ন হলো-একজন সাধারন মানুষ এই দুই বিকল্পের মধ্যে কোনটা বেছে নেবে?
ব্যাংকগুলো আমানতের বিপরীতে এখন সামান্য-নামমাত্র হারে সুদ দিচ্ছে। আগামীতে এটা আরো কমে যাবে। এর বিপরীতে বর্তমানের হিসাবে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে লাভ বেশী। ধরুন, কেউ যদি বর্তমান দামে- লংকা বাংলা ফিন্যান্স, ইসলামী ফিন্যান্স বা এক্সিম ব্যাংকের শেয়ার কিনে ডিভিডেন্ড খায়, তবে কি সে বেশী লাভবান হবে না? ডিভিডেন্ড খাওয়ার পরেও তার শেয়ারের দাম এমনই থাকবে। আর বাজারের অবস্থার উন্নতি হলে ক্যাপিটাল গেইনও পাবে।
এ বছরের বাজেটে আরো দুইটা ভাল প্রস্তাব রয়েছে।
১) কর্পোরেট করহার কমানো হয়েছে। এর মানে-কোম্পানীগুলোর আয় থেকে ডিভিডেন্ড প্রদানের সক্ষমতা বাড়বে।
২) ইপিএস এর মিনিমাম ৫০% ডিভিডেন্ড প্রদান করতে হবে। আগে এটা ছিল ৩০%। অর্থাৎ একজন বিনিয়োগকারী শেয়ারে বিনিয়োগ করলে-আগের চেয়ে বেশী হারে ডিভিডেন্ড পাবে।
কিন্তু আমাদের শেয়ারবাজারে আস্থার ঘাটতি আছে, আছে ভয়। কি জানি-আমার বিনিয়োগটা দুষ্টচক্রের কারসাজিতে হারিয়ে যায় কি না- একজন সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীর মনে সেই অজানা আশংকা কাজ করবে।
এই আশংকা আর আস্থার ঘাটতিটাই দূর করতে হবে সর্বাগ্রে। আর সেই দায়িত্বটা বর্তায় সরকার আর নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থার উপর। আস্থা ফেরত আনতে পারলে, মানুষ সাহস করে এখানে বিনিয়োগ করবে।
ব্যাংকে আমানতের চেয়ে শেয়ারবাজারে লাভ বেশি। শেয়ারবাজারের দায়িত্বে থাকা মহারথিরা যদি এখানে স্বচ্ছতা আনতে পারেন, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারেন-তবেই, শেয়ারবাজারে আসবে এই কথিত কালোটাকা তথা অপ্রদর্শিত আয়।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কমিশন যদি দুষ্টচক্রের প্রভাব বর্জিত হয়ে কাজ করে মানুষের হারিয়ে যাওয়া আস্থা ফেরত দিতে পারে, তবে শেয়ারবাজারেই মানুষ বিনিয়োগ করবে, অন্যত্র নয়।
লেখক: সভাপতি, এসএমই ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ।
(এজেড/এসএএম/১১ জুন ২০২০)