বাজেট বিশ্লেষন
নতুন অর্থবছর শুরু হলেও বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে ভাবনা
ড: মিহির কুমার রায় : বিগত ৩০ই জুন রোববার সংসদের অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী জাতীয় সংসদে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের সাত লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাসের প্রস্তাব করলে সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। এর আগে বাজেটে মন্ত্রণালয় ও বিভাগুলোর ব্যয় সম্পর্কিত ৫৯টি দাবির ওপর ভোট গ্রহণ করা হয়। এসব মঞ্জুরি দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে বিরোধী দলের ছয় জন সংসদ সদস্য মোট ২৫১টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এসব দাবির বিপরীতে যে ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো আসে তার মধ্যে তিনটির ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগগুলো হলো— আইন ও বিচার বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় খাত। আলোচনার পর তা কণ্ঠ ভোটে নিষ্পত্তি করা হয়। বাজেটটি প্রস্তাবের পর এর ওপর প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা, অর্থমন্ত্রীসহ ২৩৬ জন সংসদ সদস্য সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন। রোববার পাস হওয়া এ বাজেট ১ জুলাই থেকে কার্যকর হচ্ছে৷ এখানে উল্লেখ্য এ বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।
সংসদের বাজেট অধিবেশন:
গত ১১ জুন থেকে সংসদে বাজেট অধিবেশনে আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র এমপিরা যা ৩০শে জুন পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। বড় কোনো সংশোধনী ছাড়াই জাতীয় সংসদে অর্থ বিল উত্থাপন হয়েছে এবং পাসও হয়েছে। এবারের বাজেটে উত্থাপিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল: এক-১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়ার বিষয়টি। এ নিয়ে সংসদের ভেতরে-বাইরে নানা মহলে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হলেও এটি বহাল রয়েছে; দ্বিতীয়ত: বাজেটে ব্যক্তির সর্বোচ্চ কর হার ৩০ শতাংশ প্রস্তাব করা হলেও সংসদ তা গ্রহণ করেনি। এর পরিবর্তে সর্বোচ্চ কর বিদ্যমান ২৫ শতাংশই বহাল থাকছে; তৃতীয়ত: বাজেট প্রস্তাব পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের ওপর ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স বসানোর কথা বলেছিলেন অর্থমন্ত্রী। এতে বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন আপত্তি থাকলেও তা আমলে নেয়া হয় নাই। সংশোধনী বাজেটে আগের মতোই ৫০ লাখ টাকা লাভের ওপর কর আরোপের সিদ্ধান্ত অব্যাহত থাকছে। এর ফলে পতনের মধ্যে থাকা বাজার আরো খারাপের দিকে যাবে মন্তব্য করে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ এ কর বাতিলের দাবিতে বিবৃতিও দিয়েছে। যদিও এনবিআর এ কর প্রত্যাহার করবেনা বলে জানা গেছে; চতুর্থত: নতুন অর্থ বিলে আয়কর ও কাস্টমস সংক্রান্ত সামান্য কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে দেশী-বিদেশী উদ্যোক্তাদের চাপে বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাই-টেক পার্কগুলোর কর অবকাশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অর্থাৎ এসব অঞ্চল ও পার্কের কর অবকাশ সুবিধা আগের মতোই বহাল থাকছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক অঞ্চলে স্থাপিত শিল্পের মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি শুল্ক ও আগের মতো শূন্য শতাংশ রাখা হয়েছে; পঞ্চমত: প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ বা উন্নয়নের জন্য ডেভেলপারদের আমদানি করা যন্ত্রপাতির শুল্কমুক্ত সুবিধা বাতিল করে ১ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। শিল্প স্থাপনের মূলধনি যন্ত্রপাতিতেও ১ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। এছাড়াও বিনিয়োগকারীদের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল করা হয়; ষষ্ঠত: সংসদ সদস্যদের গাড়ি আমদানিতে শুল্ক আরোপের প্রস্তাবটি শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়: অষ্টমত: কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া নিতে রিটার্ন জমার স্লিপ প্রদর্শনের শর্তে পরিবর্তন আসছে। সেক্ষেত্রে পৌর এলাকা বা গ্রামাঞ্চলে এ স্লিপ প্রদর্শনের প্রয়োজন পড়বে না। তবে সিটি করপোরেশন এলাকায় তা প্রদর্শন করতে হবে। সর্বশেষে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতারা বলেন, ‘এটি একটা গতানুগতিক বাজেট। উচিত ছিল উন্নয়ন ব্যয় কমিয়ে রাখা, পরিচালন ব্যয় আরো কমানো। ঋণ যাতে কম নিতে হয়, সেই ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। প্রত্যক্ষ করের দিকে নজর দেয়া উচিত ছিল। আমাদের দেশে যারা আয় করে, তারা ট্যাক্স দেয় না। ঋণ খেলাপ যদি বন্ধ করা না যায়, তাহলে আমাদের অর্থনীতি হুমকিতে পড়বে। আমাদের বর্তমান সমস্যাগুলো অর্থনৈতিক কারণে তৈরি হয়নি। এটা হয়েছে জবাবদিহিতার অভাবে এবং সুশাসন না থাকায়। দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রসার ঘটেছে, যা টেনে ধরার কোনো উপায় রাখা হয়নি।’
বাজেট বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ কি হতে পারে:
সংসদে বিরোধী দলের সদস্যরা প্রস্তাবিত বাজেটকে গতানুগতিক হিসেবেই দেখছেন। তাদের ভাষ্যমতে, অর্থনীতির চলমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় এতে কোনো নতুনত্ব আনা হয়নি। তবে প্রস্তাবিত বাজেট পাসের মাধ্যমে সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘সবসময়ই আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের বিষয়টি আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাজেট পরিকল্পনায় থাকে। তিনি ধাপে ধাপে ওই লক্ষ্যটায় যাওয়ার চেষ্টা করেন। সব সময়ই বাজেট করার আগেই উনি এটা খেয়াল রাখেন। উনি জনগণকে যে ওয়াদা করেছেন সেটা প্রতিফলন থাকবে বলে আমি মনে করি। যে বাজেট প্রস্তাবটা এসেছে তার অধিকাংশই পাস হয়েছে।’ এখন নিরপেক্ষ বিশ্লেষকদের মতামতটা ভিন্ন যেমন; ১. বাংলাদেশের মতো একদিকে সীমিত সম্পদ, অন্যদিকে দ্রুত উন্নতির আকাঙ্খা পোষণকারী একটি দেশের বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সব সময়ই চ্যালেঞ্জিং। তবে এবার এমন কিছু চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে, যেগুলো অন্তত দেখা যায়নি। সম্প্রতি খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশেরও ওপরে উঠে গেছে। এ হারে মূল্যস্ফীতি থাকলে বিশেষত প্রান্তিক শ্রেণির মানুষের কষ্ট বেড়ে যায়। দারিদ্র্য সীমার নিচে অবস্থানরত মানুষের সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়। তখন সরকারকে বাধ্য হয়ে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বেশি বরাদ্দ দিতে হয়। ফলে অন্যান্য প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক খাতে বরাদ্দ কমে যায়; ২. ইতোমধ্যে রিজার্ভ উদ্বেগজনক পরিমাণে কমে গেছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিদেশি বিনিয়োগ আসে না। কারণ তখন বিনিয়োগকারীরা ভেবে নেয়, এ দেশ থেকে বিনিয়োগের ফল হিসেবে প্রাপ্য মুনাফা তারা নিতে পারবে না; ৩. মুদ্রা বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ একটা সময় পর্যন্ত বেশ সাফল্য দেখালেও সাম্প্রতিক সময়ে তা দেখা যাচ্ছে না। বিশেষত অর্থনীতিতে যে হারে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, সেই হারে দারিদ্র্য কমছে না। শহর-গ্রামের উদ্বেগজনক ব্যবধানের পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রামের তুলনায় বরিশাল ও খুলনার মতো এলাকার পিছিয়ে থাকা বা আঞ্চলিক বৈষম্যও চিন্তার বিষয়; ৪. এ পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে। তবে একটি আমদানি নির্ভর দেশে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি দিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক কমানো যেত। তাতে বিভিন্ন আমদানি পণ্যের দাম কমানোর সম্ভাবনা ছিল। আমাদের আমদানীকৃত পণ্যের বেশিরভাগ হলো কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য ও শিল্পের যন্ত্রপাতি; শুল্ক হ্রাসের সুবিধা নিয়ে এগুলোর আমদানি বাড়লে দেশে উৎপাদন বাড়ত। এতে সরবরাহ বেড়ে পণ্য মূল্য কমে যেত। তবে ব্যষ্টিক অর্থনীতি ব্যবস্থাপনায় সব সময়ই কিছু ট্রেড অফ থাকে। এ ক্ষেত্রে ট্রেড অফ হলো এক্সচেঞ্জ রেট বা বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ওপর বেশি আমদানির নেতিবাচক প্রভাব। এমনিতেই আমাদের বিনিময় হার বেশ কিছুদিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী। অর্থাৎ টাকার দাম নিম্নমুখী। বেশি আমদানি হলে টাকার মান আরও কমে যায়। এর ফলে পণ্য মূল্য বেড়ে যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের ফলস্বরূপ ইতোমধ্যে ডলার এক লাফে ১১৭ টাকায় উঠেছে। ফলে সরকারকে আমদানিতে শুল্ক হার হ্রাসের পাশাপাশি ট্রেড অফ মোকাবিলারও সমন্বিত কার্যক্রম নিতে হবে; ৫. এখনও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সরকারের প্রায় নিয়মিত সভা হয়। নিছক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সভা করে, তাদের পরামর্শ দিয়ে বা তাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়ে তো এ সমস্যার সমাধান হবে না। পণ্যের দাম বৃদ্ধির পেছনে যারা কারসাজি করে, তাদের বিরদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ না নিলে কোনো কাজ হবে না। এখন তো মাঝে মাঝেই দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নানা কর্তৃপক্ষের অভিযান দেখি। কিন্তু অভিযানের নামে বাস্তবে কী ঘটে, কেউ জানে না; ৬. মূল্যস্ফীতি কমাতে গিয়ে ব্যাংক ঋণে সুদের হার বৃদ্ধি নিয়ে ব্যবসায়ী সমাজ উদ্বিগ্ন। এর পরে উৎপাদন ও কর্মসংন্থান ক্ষতিগ্রস্থ হবে। বিষয়টি এরকম যে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি দিয়ে আমদানি নির্ভর দেশে মূল্যস্ফীতি কমানো যায় না।
আমাদের এখানে পুঁজিবাজার ঠিকমতো কাজ না করায় শিল্পে পুঁজি সরবরাহ করতে পারছে না। শিল্প বা ব্যবসায়ের পুঁজি আসে প্রধানত ব্যাংক ঋণ থেকে। ফলে সুদের হার বৃদ্ধি তহবিল ব্যয় বাড়িয়ে দেয়।, ইতোমধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বেশ কমে গেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়ছে উৎপাদন ও কর্মসংন্থানের ওপর। কর্মসংন্থান কম হলে দারিদ্র্য সীমার নিচের লোক বেড়ে যাবে। সাধারণ মানুষের জন্য জীবন ধারণ কঠিন হয়ে পড়বে; ৭. দেশের ব্যাংক খাতের অবস্থা করুণ – এটা তো বলাই যায়। খেলাপি ঋণ বেড়েই চলেছে এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান নিয়েও প্রশ্ন আছে। কারণ, পুনঃতপশিলীকৃত ঋণ, আদালতে আটকে থাকা ঋণ এবং অবলোপনকৃত ঋণকে খেলাপি ঋণের হিসাবে আনা হয় না। এর ফলে ব্যাংকগুলো তাদের মধ্যবর্তী দায়িত্ব পালন করতে পারছে না; আমানত সংগ্রহের উপরেও এর প্রভাব পড়ে। সুশাসনের অভাব, যোগসাজশের ভিত্তিতে ঋণ দান ইত্যাদি বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছুদিন ধরে চেষ্টা করছে, তবে সাফল্য আসছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশ কিছু পদক্ষেপ, বিশেষত ব্যাংক একীভূতকরণ কর্মসূচি তো ইতোমধ্যে বেশ সমালোচনার মধ্যে পড়েছে। বিশ্বের বহু দেশে ব্যাংক একীভূতকরণ হয়েছে। সেসব অভিজ্ঞতা আমাদের বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। তাছাড়া যেসব ব্যাংক পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত, তাদের একীভূতকরণে সংশ্লিষ্ট সংন্থা শুধু নয়, সাধারণ শেয়ার হোল্ডারদেরও মত নেওয়া উচিত।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমানতকারীরা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে তাদের টাকা ফেরত নিতে চাইলে কোনো বাধা দেওয়া যাবে না; ৮. এবার বাজেটের অর্থায়ন নিয়েও আলোচনা আছে। একদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর লক্ষ্যমাত্রার ধারে কাছেও যেতে পারছে না; আবার পাইপলাইনে থাকা বিদেশি অর্থেরও ব্যবহার প্রত্যাশিত মাত্রায় ঘটছে না। আমাদের জিডিপি ও রাজস্বের অনুপাত বিশ্বে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। এনবিআরকে তো রাজস্ব বাড়াতেই হবে। রাজস্ব না বাড়ায় সম্প্রতি দেখা গেছে, সরকার ব্যাংক খাত থেকে বেশি ঋণ নিয়েছে। এ কারণে বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্থ হয়। অনেকদিন ধরেই আমরা এ কথা বলে আসছি, করের হার না বাড়িয়ে এখানে করের আওতা বাড়ানো দরকার। গ্রামাঞ্চলে বহু দোকান আছে, যারা নির্দিষ্ট পরিমাণ মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট দিতে পারে। তাদের অনেকে আয়করের আওতায়ও আসতে পারে। যারা ট্যাক্স শনাক্তকরণ নম্বর থাকা সত্ত্বেও রিটার্ন দাখিল করেন না, তাদের শনাক্ত করা জরুরি; ৯. এডিপি নিয়ে একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি চলছে বহু বছর ধরে। দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথম সাত-আট মাসে বড়জোর ৪০ শতাংশ বাস্তবায়িত হলো, বাকিটা স্বল্প সময়ে তাড়াহুড়োর মাধ্যমে কাজ করে ৮০-৮৫ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়। এটা করতে গিয়ে কাজের মান খারাপ হয়। কখনও কাজ না করেই বিল তুলে নেওয়া হয়। এখানে ভালো কাজের জন্য পুরস্কার; ব্যর্থতার জন্য শাস্তির ব্যবস্থা থাকলে এডিপি বাস্তবায়নের প্রচলিত ধারায় পরিবর্তন সম্ভব; ১০. এডিপিতে বিদেশি অর্থায়নের সহজ উৎস ব্যবহারে সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতার কথাও বেশ আলোচিত। এতে বর্তমানে পাইপলাইনে থাকা বিদেশি অর্থের পরিমাণ এ উৎস থেকে আসা গত ১০ বছরের মোট অর্থের সমান হয়ে গেছে। তাই বহুপক্ষীয় উৎস থেকে আসা ঋণ ব্যবহারে মনোযোগ বেশি দেওয়া উচিত। কারণ এ ধরনের ঋণে শর্ত কিছু থাকলেও সুদের হার ও পরিশোধের সময় দ্বিপক্ষীয় উৎসের চেয়ে আমাদের দেশের জন্য অনেক ভালো। তাই সরকার সার্বিক বিষয়গুলো বিবেচনায় নেবে এই প্রত্যাশা রইল।
*লেখক: অধ্যাপক (অর্থনীতি), সাবেক পরিচালক, বার্ড (কুমিল্লা), সাবেক ডিন (ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ) ও সিন্ডিকেট সদস্য, সিটি ইউনিভার্সিটি, ঢাকা ও এলকপ মনোনীত দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষন টিমের সদস্য।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই/এসএএম//