মিহির স্যার

প্রসঙ্গ ভর্তুকি

আইএমএফ ও অর্থনীতির সংস্কার

ড: মিহির কুমার রায়: আইএমএফের পরামর্শে ১৯৮৯ সাল থেকে মুক্তবাজার অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সুদ হার বাজারের ওপর ছেড়ে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ব্যাংক ঋণের সুদ হারের সর্বোচ্চ সীমা ৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত তা আর ধরে রাখতে পারেনি। এর পর আইএমএফ  বেশ কিছু বিষয়ে নির্দিষ্ট শর্ত দিয়ে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি আইএমএফের নির্বাহী বোর্ডের সভায় বাংলাদেশের জন্য ৪৭০  কোটি ডলারের ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সাত কিস্তিতে ৪২ মাসে এ ঋণ পাবে বাংলাদেশ। ঋণের গড় সুদের হার ২  দশমিক ২ শতাংশ। ২০২৬ সাল পর্যন্ত এ ঋণ কর্মসূচি চলাকালীন বাংলাদেশকে বিভিন্ন ধরনের শর্ত পরিপালন ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে আইএমএফের কাছ থেকে ঋণের প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার এবং গত বছরের ডিসেম্বরে দ্বিতীয় কিস্তির ৬৮ কোটি ৯৮ লাখ ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ গত সোমবার (২৪ জুন) আইএমএফের পর্ষদে তৃতীয় কিস্তি বাবদ ১১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার ছাড়ের বিষয়টি অনুমোদন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ঋণ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের জন্য ২২৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার ছাড় করেছে আইএমএফ। ঋণ অবমুক্তির আগে যে সকল শর্ত অরোপ করে থাকে তার মধ্যে অন্যতম হলো আর্থিক খাতের স্থায়িত্ব, ব্যাংক খাতের সংস্কার, তারল্য ব্যবস্থাপনা, ডলারের বাজারভিত্তিক লেনদেন, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন, ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ গণনা পদ্ধতি, সুদের হার ও মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন প্রভৃতি। এখন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পক্ষ থেকে ভর্তুকি পরিশোধের পরিবর্তে বন্ড ইস্যু না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে যা বাংলাদেশের জন্য ঋণের তৃতীয় কিস্তি অনুমোদনের পর সংস্থাটির প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্থিক বিচক্ষণতার সুরক্ষায় নতুন করে বকেয়া এড়ানোর পাশাপাশি এরইমধ্যে পুঞ্জীভূত হওয়া বকেয়া পরিশোধ করা গুরুত্বপূর্ণ। স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদক (আইপিপি) ও সার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে বাড়তি ভর্তুকির দাবির কারণে ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে জিডিপির ১ শতাংশ পরিমাণ বকেয়া জমেছে। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ আইএমএফের কাছে নতুন করে বকেয়া পুঞ্জীভূত হওয়া এড়ানোর পাশাপাশি জমে থাকা বকেয়া আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে বাজেট থেকে পরিশোধ করার পরিকল্পনা করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিদ্যুৎ ও সার কোম্পানিগুলোর পাওনা পরিশোধে ভর্তুকির পরিবর্তে বিদ্যমান বাজার দরের চেয়ে কম সুদে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বিশেষ বন্ড ইস্যু বন্ধ করার কথাও বলেছে আইএমএফ। সংস্থাটির তথ্যানুসারে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ সরকার ২৬ হাজার ২০০ কোটি টাকার বিশেষ বন্ড ইস্যু করেছে। প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে চলেছে। আন্তর্জাতিক পণ্য এবং খাদ্যের ক্রমাগত উচ্চ মূল্য এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা সামষ্টিক অর্থনৈতিক দুর্বলতাকে ত্বরান্বিত করছে। উদ্বৃত্ত থেকে ঘাটতিতে পড়ে যাওয়া আর্থিক হিসাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং বিনিময় হারের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। যা সংস্কারের গতিকে পুনরুজ্জীবিত করার তাগিদ জানাচ্ছে। প্রতিবেদনের সারাংশে উপস্থাপিত সুপারিশে কঠোর মুদ্রানীতির সমর্থনে সামাজিক ও উন্নয়ন ব্যয়ের সুরক্ষার পাশাপাশি গৃহীত নীতিগুলোর জন্য রাজস্বভিত্তিক সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বাহ্যিক ও মূল্যস্ফীতিজনিত চাপ তীব্র হলে গ্রহণ করা নীতিগুলোকে আরো কঠোর করতে প্রস্তুত থাকার সুপারিশও প্রতিবেদনে দিয়েছে আইএমএফ। মুদ্রা ও বিনিময়হার নীতি প্রসঙ্গে সুপারিশে বলা হয়েছে, বাড়ন্ত মূল্যস্ফীতির জন্য মুদ্রানীতি কঠোর করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত ক্রলিং পেগের কার্যকারিতাকে অগ্রাধিকার দেয়া। আর্থিক খাতের নীতি প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংক খাতের নন-পারফর্মিং ঋণ হ্রাস, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি বাস্তবায়ন, করপোরেট সুশাসন বৃদ্ধি এবং নীতি সংস্থার ত্বরান্বিত করা হওয়া উচিত এখনকার অগ্রাধিকার। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ব্যবস্থা উন্নয়নে দেশীয় পুঁজিবাজারের বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সুপারিশে বলা হয়েছে।

আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির আওতায় গত বছরের ডিসেম্বর সময়ে বাংলাদেশকে যেসব লক্ষ্যমাত্রা ও সংস্কার করতে বলেছিল আইএমএফ সেগুলোর মধ্যে একটি বাদে বাকি সবকটিই পূরণ হয়েছে। শুধু নিট রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশ। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ১৭ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারের নিট রিজার্ভ সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এ সময়ে ১৬ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলারের নিট রিজার্ভ সংরক্ষণ করতে পেরেছে বাংলাদেশ। এ বছরের মার্চ শেষে ১৯ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলারের নিট রিজার্ভ সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত আইএমএফের লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে নিট রিজার্ভ সংরক্ষণ করতে পারেনি। বাংলাদেশের অনুরোধে আইএমএফ এ বছরের জুন শেষে রিজার্ভ সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা ২০ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার থেকে কমিয়ে ১৪ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলারে নামিয়ে এনেছে। সংস্থাটির তথ্যানুসারে এ বছরের এপ্রিল শেষে বাংলাদেশের নিট রিজার্ভ ছিল ১২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে, এ বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ১৪ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ও ডিসেম্বর শেষে ১৫ দশমিক ৩২ বিলিয়ন এবং আগামী বছরের মার্চ শেষে ১৬ দশমিক ৭০ বিলিয়ন এবং জুন শেষে ১৯ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারের নিট রিজার্ভ সংরক্ষণ করতে হবে।

নগদ অর্থের সংকটের কারণে বিদ্যুৎ ও সার খাতে ভর্তুকি বাবদ বিপুল অংকের অর্থ বকেয়া হয়ে পড়ে সরকারের। এ ভর্তুকি পরিশোধে আলোচ্য দুই খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর পাওনা পরিশোধে অর্থায়নকারী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অনুকূলে বিশেষ বন্ড ইস্যু করে সরকার যেখানেই আইএমএফের আপত্তি। আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নয়া বাজেটে কৃষি ভর্তুকির পরিমাণ ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ২৬১ কোটি টাকা, যা গত বছরের মূল বাজেট থেকে ২৭২ কোটি টাকা কম। চলতি বাজেটে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ফসল খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ১৭ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা। এর সঙ্গে ৮ হাজার ১১১ কোটি টাকা যোগ করে সংশোধিত বাজেটে তা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৫ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেট থেকে তা ৮ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা কম। আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম ও কৃষিযন্ত্রের দাম বাড়ার কারণে উৎপাদন খরচ বাড়বে। সেক্ষেত্রে ভর্তুকি হ্রাস সঠিক নয়। তাতে বাধাগ্রস্থ হবে কৃষির উৎপাদন। খাদ্য নিরাপত্তা ব্যাহত হবে। বন, জার্মানি থেকে প্রকাশিত গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস ২০২৪ বাংলাদেশকে বিশ্বের প্রথম সারির খাদ্য নিরাপত্তাহীন ১০টি দেশের মধ্যে অষ্টম স্থানে রেখেছে। বিবিএসের তথ্যানুসারে দেশের প্রায় ২২ শতাংশ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘কৃষিজাত পণ্য আমদানি বিকল্প তৈরির মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ এখনও কৃষিপ্রধান দেশ এবং কৃষিই আমাদের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত। ফলে কৃষি খাতের উন্নয়নে প্রধান উপকরণগুলো বিশেষ করে সার, বীজ, কীটনাশক ইত্যাদি আমদানিতে শূন্য শুল্ক হার অব্যাহত থাকবে।’ মূলত আমদানিকৃত সার, কীটনাশক ও কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন ভর্তুকি মূল্যে কৃষকের কাছে সরবরাহ করতেই এই ভর্তুকি খাত থেকে খরচ হয়েছে। অর্থাৎ, মুখে যতই মিঠে বাত থাকুক বাস্তবে চলতি বছরের তুলনায় কৃষি খাতের ভর্তুকি বাবদ কম বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, দিনের পর দিন বাজেটে কৃষি খাতের হিস্যা কমছে। এক যুগ ধরে জাতীয় বাজেটের আকার দ্রুত বাড়ছে, সে তুলনায় কৃষি খাতে বাজেট বাড়ছে না। আওয়ামী লীগ সরকারের দেওয়া ২০১১-১২ অর্থবছরের মোট বাজেটে কৃষি বাজেটের হিস্যা ছিল ১০ দশমিক ৬৫ শতাংশ। আর এই ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে ৫ দশমিক ৯০ শতাংশে। একইভাবে কৃষি ভর্তুকির হিস্যা নেমে এসেছে ৬ দশমিক ৪ থেকে ২ দশমিক ৩ শতাংশে। এটার দায় কি আইএমএফের ওপরে চাপানো হবে? আইএমএফ অর্থ ছাড় করার শর্ত হিসেবে বাজেট ভর্তুকি কমানোর চাপ দিলে শুধু কৃষি খাতের কথা মনে হয়? বাজেটে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য মোট ভর্তুকি বরাদ্দ ১ লাখ ৮ হাজার ২৪০ কোটি টাকা, এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাত পাবে ৪০ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৩৭ শতাংশ। উল্লেখ্য দাতা সংস্থাগুলোর বারংবার চাপ সত্ত্বেও গত দুই অর্থবছরেই বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি ছিল ৪০ হাজার কোটি টাকা। গত বছর সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক সমীক্ষায় দেখা যায়, ভর্তুকির বেশিরভাগ অর্থ বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ মেটাতে ব্যয় করা হয়। এই খাতের বিশেষজ্ঞরা গত কয়েক বছর ধরেই বলছেন, বিদ্যুৎ খাতের ক্যাপাসিটি চার্জ ও আমদানি শুল্কের ছাড় নিয়ে রয়েছে ভীষণ অস্বচ্ছতা ও স্বজনপ্রীতি এবং এই খাতের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন যাতে না তোলা যায় সেজন্য দায়মুক্তি আইন করে জবাবদিহিতা বন্ধ রাখা হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে সরকার বেশ কয়েকবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরও বাজেটে এই বড় অঙ্কের ভর্তুকি রাখায় এর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাহলে কৃষি খাতের ভর্তুকি দিতে এত কার্পণ্য কেন? এই ভর্তুকির অর্থ তো তবু শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনীতিতেই থাকছে, সরাসরি কৃষি উপকরণের দাম কমাতে সাহায্য করছে। জ্বালানি খাতের ভর্তুকি বাদ দিয়ে অথবা কমিয়ে একই পরিমাণ বরাদ্দ দিলে কৃষি খাতে যা যা করার জন্য বাজেট বরাদ্দ রাখা যেত।

বাংলাদেশের কৃষি খাতের প্রায় পুরোটাই সার-বীজ-কীটনাশক নির্ভর উচ্চ ফলনশীল কৃষির অংশ। কৃষি উৎপাদনের এসব প্রাথমিক উপাদানের বাজারও দেশি-বিদেশি কোম্পানির সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত, কৃষক সেখানে নিতান্তই বলির পাঠা মাত্র। অথচ এই ক্ষেত্রে সুবিবেচনা প্রসূত বাজেট বরাদ্দ বিরাট ভূমিকা পালন করতে পারে। কৃষি কার্ড দিয়ে সরাসরি ভর্তুকি খুবই দক্ষভাবে দেওয়া সম্ভব, ব্যাংক এশিয়া এবং ইউএসএইড সম্মিলিতভাবে গত কয়েক বছর আগে এ কার্ড নামক একটি প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষক ও সার-বীজ-কীটনাশক বিক্রেতাদের নিয়ে বেশ বড় আকারে পাইলটিং করে প্রমাণ দেখিয়েছিল যে, এ দেশের কৃষক ও গ্রামের সার বীজ কীটনাশক ডিলাররা স্মার্ট কার্ড ও মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে ক্যাশবিহীন ও ঘুসবিহীন দক্ষ লেনদেন করতে কতোটা দক্ষ ও আগ্রহী। সরকারি প্রণোদনা ও নীতি সহায়তা পেলেই ব্যাংকগুলোই হতে পারে এই খাতের ভর্তুকি বা ঋণ সহায়তার অর্থের সংস্থান ও মার্কেট প্লেয়ার। এই খাতে বাজেট ঘোষণার ক্ষেত্রে কোনো বরাদ্দ ছাড়াও শুধু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নির্দেশনা ও নীতি সহায়তা থাকলেই চলতো। কিন্তু কৃষি সংস্লিষ্ঠরা বলছেন কৃষি বাজেটে অনেক কিছুর উল্লেখ নেই যেমন: সেচ কাজে ডিজেল ব্যবহারের ওপর আলাদাভাবে কোন বরাদ্দ রাখা হয়নি, কৃষি গবেষনা খাতে তেমন কোন বরাদ্ধ পরিলক্ষিত হয়নি, বাজেটে আমদানি নির্ভর নীতিকে প্রাধান্য দেয়ায় কৃষি খাতের ভর্তুকির টাকা সার আমদানিতে চলে যাবে বিধায় গবেষনা বাজেট ছাড়া কিভাবে গবেষনা হবে? দেশের ৪৫ শতাংশ কৃষিজীবি মানুষের জন্য বরাদ্দ মাত্র মোট বাজেটের ৩.৪ শতাংশ যা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপ্রতুল। অর্থনীতিবিদরা মনে করছে, বাংলাদেশের মত অর্থনীতিতে টার্গেট গ্রুপ ঠিক করে ভর্তুকি দিতে হবে সরকারকে যার জন্য কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। কৃষি ক্ষেত্রে উৎপাদিত পন্যের ন্যায্য দাম কৃষককে নিশ্চিত করতে পারলে এ খাতে ভর্তুকি দেয়ার প্রয়োজন হবে না। দেশে বর্তমানে ভর্তুকি প্রদান করা হয় পন্যের মাধ্যমে যা অনায়াসে নগদে প্রদান করার ব্যবস্থা করা যায় ১০ টাকা মূল্যের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে। আবার কৃষি শক্তি হিসাবে যন্ত্রের ব্যবহার বর্তমানে গ্রামে খুবি জনপ্রিয় কিন্তু অর্থায়নের স্বল্পতার কারনে তা ক্রয় করা সম্ভব হয়ে উঠে না বিধায় ভর্তুকি সুবিধা কৃষকের জন্য সহায়ক হতে পারে। বর্তমানে ঔষদের মূল্য বেশী হওয়ায় কীট ও বালাইনাশকে ভর্তুকি দেয়া যেতে পারে। আবার দেশীয় বীজের প্রতি কৃষকের অনেক আগ্রহ থাকায় এক্ষেএে লোন সহায়তা বাড়ানোর প্রস্তাব করছি। বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবন দেশ এবং যে কোন দুর্যোগের অব্যবহিত পরে কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচি শুরু করার জন্য কৃষি দুর্যোগ মোকাবেলা তহবিল গঠন করা হয়েছে কৃষি নীতিতে যার বাজেট বরাদ্ধ এবার থেকে শুরু হওয়ার প্রস্তাব করছি। ক্ষতিগ্রস্থ হাওর অঞ্চলের জন্য আলাদা বাজেট হওয়া সময়ের দাবি।

লেখক: কৃষি অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও জৈষ্ঠ সহসভাপতি, বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতি, ঢাকা।

বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//


Comment As:

Comment (0)