মিহির কুমার রায়       

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব

ড: মিহির কুমার রায়: চীনের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে দ্বিপাক্ষিক রাষ্ট্রীয় সফরে বিগত ৮ জুলাই সোমবার চীন সফরে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ১০ই  জুন বুধবার পর্যন্ত তিনি বেইজিংয়ে অবস্থান করেন। চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেন। বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের জন্য নানাধরনের অনুদান ও অর্থ ঋণের মাধ্যমে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। এর আগে মঙ্গলবার একই স্থানে বাংলাদেশ আয়োজন করেছিল একটি ব্যবসায়িক সম্মেলন। এই সম্মেলনে বাংলাদেশের ১০টি  কোম্পানির প্রতিনিধির সঙ্গে চীনের বিভিন্ন কোম্পানির ১৬টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই হয়। উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ১০ জুলাই,  সকালে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে ২১টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এরই মধ্যে সম্পাদিত ৭টি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ঘোষণা করা হয়। ১০  তারিখ অপরাহ্নে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করার বৈঠক অনুষ্ঠিত  হয়। শি জিন পিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অনুদান, সুদমুক্ত ঋণ, রেয়াতি ঋণ ও বাণিজ্যিক ঋণে ৪টি ক্ষেত্রে সহায়তার কথা উল্লেখ করা হয়।  এই ৪টি প্যাকেজের আওতায় চীন বাংলাদেশকে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ প্রদানে সম্মত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার লিখিত  বক্তব্যে এসব সমঝোতা স্মারক চুক্তি এবং সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন। চীনা ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে আয়োজিত বিজনেস সামিটে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি চীনা ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।  মঙ্গলবার একই ভেন্যুতে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) প্রেসিডেন্ট সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির একটি বিশেষ প্রতিনিধি দলও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। দেশের বিভিন্ন খাতে কীভাবে চীনা বিনিয়োগ এবং ঋণ  ভবিষ্যতে নেয়া হবে, তা নিরূপণের জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিনিধি দল শিগগিরই বাংলাদেশ সফরে আসবেন। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ  প্রতিনিধি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে যাচাই-বাছাই করে বাংলাদেশ চীনা সহায়তা নেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন স্বয়ং শি জিন পিংও। 

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের মধ্যে দিয়ে সামনের দিনে বাংলাদেশ এবং চায়নার ট্রেডিং এবং বিনিয়োগ পরিস্থিতির একটা অভূতপূর্ব উন্নয়ন হবে, দু’দেশের যে বাণিজ্য ভারসাম্য আছে সেটা অনেকটা গ্রহণযোগ্য জায়গায় চলে আসবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের যে অগ্রগতি হচ্ছে  সেটা অব্যাহত রাখতে চীনা বিনিয়োগকারীরা যেন বাংলাদেশে আসে এবং আগামীতে তারা যাতে আরো বড় মাত্রায় বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে, সেটিই এবারের বিজনেস সামিটের প্রধান উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই)। বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই) ২০০৩ সাল থেকে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সেতুবন্ধন  তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে। বাণিজ্য সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন গাজী গোলাম মর্তুজা পাপ্পা।  সাত শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বর্তমানে বিসিসিসিআইয়ের সদস্য, যার মধ্যে প্রায় ৫০০ প্রতিষ্ঠান চীনের। বাংলাদেশে চীনের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ বাড়ানোসহ দুই দেশের মধ্যে  ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার ও বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিসিসিসিআই কাজ করছে। বাংলাদেশ চায়না  চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, এবার বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিটের অন্যতম সহ-আয়োজক এবং বাংলাদেশের তরফ থেকে  প্রায় এক হাজার চাইনিজ বিনিয়োগকারী এবং যারা ব্যবসায়ী আছেন, যারা বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা করছেন বা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সাথে  ব্যবসা করতে চান এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সাথে নতুন কি ধরনের এভিনিউ খোলা যায় সেই ব্যাপারে একাডেমিক রিসার্চগুলো তারা করতে চান। এরকম সকল স্টেক হোল্ডারদেরকে এবার এই ইনভেস্টমেন্ট সামিটে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার গত দুই দশক ধরেই  এই ভূমিকা পালন করে আসছে এবং ২০০৩ এ বাংলাদেশের সাথে চীনের ব্যবসা দেড় বিলিয়ন ডলারেরও কম ছিল। গত দুই  দশক ধরে বাংলাদেশের সাথে চীনের যে প্রাইভেট সেক্টরে ব্যবসার যে প্রসার হয়েছে তার পেছনে বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স  অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ একটা অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। সামনের দিনেও এই কার্যক্রমগুলো আরও বৃদ্ধি পাবে। আমাদের নতুন নতুন ডিল হচ্ছে যেখানে বিনিয়োগকারীদের ডেডিকেটেড সার্ভিস দেয়ার জন্য ডেডিকেটেড টেবিল হচ্ছে, ডেডিকেটেড সেক্রেটারি হচ্ছে।  আমাদের ট্রেড স্পিউট যতরকম আছে সেগুলোকে মিটগেট করার জন্য আমাদের আলাদা একটা লিগ্যাল প্যানেল হয়েছে। দেশের নতুন যারা বিনিয়োগকারী আসবেন তাদেরকে সব ধরনের লিগ্যাল এসিস্টেন্স দেওয়া হবে সেই লিগ্যাল প্যানেল থেকে এবং সেটা সম্পূর্ণ  বিনামূল্যে। চায়নাতে বিভিন্ন রকম এক্সিবিশন হয় যেগুলো দ্বারা বাংলাদেশে যারা ব্যবসায়ী আছেন তারা বহুমাত্রিকভাবে উপকৃত হতে পারবেন। চাইনিজদের কাছ থেকে আশ্বাস পাওয়া গেছে যে বাংলাদেশের জন্য একটা স্পেশাল ডিস্কাউন্ট বা প্রিভিলেজ থাকবে সামনের দিনগুলোতে  যেন বাংলাদেশিরা এখানে এক্সিবিউটর হিসেবে আসতে পারেন এবং বেশিমাত্রায় ভিজিটর হিসেবে আসতে পারেন। বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব  কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যত মেম্বার আছেন তারা যেন সহজে ভিসা পেতে পারে সে ব্যাপারেও চায়না দূতাবাসের তরফ থেকে আশ্বাস  দেওয়া হয়েছে এবং উভয় দেশের মধ্যে যোগাযোগগুলো যেন আরও বেশি মাত্রায় হয়। এছাড়াও যেসব চীনা বিনিয়োগকারীরা আছেন তাদের যে  বড় বড় ডিলেগেশন্সগুলো সামনের দিনে আসবে, তাদের সাথে আমরা যেন সমন্বয় সাধন করতে পারি সেজন্য উভয় দেশ কাজ করছে। আমরা আশা করছি এ বছরের শেষ নাগাদ হয়তোবা আমরা প্রথম চাইনিজ ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ট্রেড সামিটের একটা ভার্সন বাংলাদেশেও দেখতে পাবো। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরের দুই সপ্তাহের মধ্যেই চীন সফর করে এসেছেন। এ সফর এই অঞ্চলের রাজনীতি, উন্নয়ন ও  নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীন সফর ব্যাপক তাৎপর্য বহন করে। এ দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে বিরাজ করছে ‘কৌশলগত অংশীদারত্বের’ সম্পর্ক, যা ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের বাংলাদেশ সফরের মাধ্যমে সূচিত হয়েছিল। এ সফরের মাধ্যমে  বাংলাদেশ কী পেয়েছে- পায়নি এসব প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির হিসাব নিকাশ চলছে। তবে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কে যে কোনো সফরে দুই পক্ষেরই অর্জনের  জায়গা থাকে। 

বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে এ সফরের বিশেষ অর্জন হিসাবে কয়েকটি বিষয় উঠে আসে; যেমন - বাংলাদেশ ও চীন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, সাতটি প্রকল্প ঘোষণাপত্র স্বাক্ষর ও বাংলাদেশ ও চীন একটি যৌথ ঘোষণা স্বাক্ষর করে, যা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ২৭ দফা সংবলিত এ যৌথ ঘোষণাটি দু’দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ একটি রূপরেখা বলা যেতে পারে। তাছাড়াও চীন বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছে এবং বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট এবং আর্থিক খাতে বিরাজমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য চীন অর্থনৈতিক সহায়তা করতে প্রস্তুত। এক্ষেত্রে চীন কয়েকভাবে সহায়তা করতে পারে; যেমন - অনুদান, সুদমুক্ত ঋণ, স্বল্প সুদে ঋণ এবং বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ঋণ। ঘোষণা এসেছে,চীন বাংলাদেশকে এক বিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তা দেবে, চীনের  বেসরকারি খাত থেকে বিনিয়োগের জন্য সফররত বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ১৬টি সমঝোতা স্মারক  স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ বিষয়গুলোকে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে দৃশ্যমান অর্জন হিসাবে বিবেচনা করা যায়।

যৌথ  ঘোষণাপত্র এবং সমঝোতা স্মারকগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ ও চীন অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক, কূটনৈতিক ও কৌশলগত  স্বার্থগুলো বিবেচনা করেই সম্পর্কের গভীরতা ও পরিধি বৃদ্ধিতে মনোযোগ দিয়েছে। এ সফরে বাংলাদেশ ও চীন দ্বিপাক্ষিক একটি ভবিষ্যৎমুখী ভাবনা উপস্থাপন করেছে, যার প্রতিফলন ঘটেছে যৌথ ঘোষণার মধ্যে। এ যৌথ ঘোষণার ভেতরে সমঝোতা স্মারক কিংবা  ঘোষণাপত্রের বিষয়গুলো যেমন আছে, পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও চীন আরও কোন কোন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে এবং তাদের সম্পর্ককে কিভাবে শক্তিশালী করবে সেই ইঙ্গিতও দৃশ্যমান। সার্বিকভাবে যৌথ ঘোষণার আলোকে এবং অন্যান্য অগ্রগতির পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি বিষয় সামনে অবতারণা করা যায় দুই দেশ মৌলিক স্বার্থগুলোর ব্যাপারে পরস্পর সহযোগিতা করবে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও স্থিতিশীলতা, উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, এক্ষেত্রে ২০৪১-এর মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশের যে স্বপ্ন সেটি পূরণ করা,  বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং নিজস্ব উন্নয়ন মডেল অনুসরণ করাকে চীন দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে। চীনের সঙ্গে যে কোনো  দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের জায়গা থেকে ‘ঋণের ফাঁদে’র ঝুঁকির কথা বলা হয়। বাংলাদেশ বরাবরই দাবি করে আসছে, চীনের সঙ্গে  বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রকৃতি যে ধরনের, সেখানে ‘ঋণের ফাঁদে’র কোনো সুযোগ নেই। কারণ বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে ঋণের সম্পর্ক রয়েছে। সব দাতা দেশ বা সংস্থা থেকেই ঋণ গ্রহণ করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন শর্ত থাকে। বাংলাদেশ এ ব্যাপারে অত্যন্ত সজাগ, দাতা কোনো দেশের ঋণ নিয়ে যেন কঠিন কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে না হয়। বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে  সম্পর্কের বিষয়টিকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহযোগিতার দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন সফরকালে সে দেশের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের কথা বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের কথা বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশগ্রহণ বৃদ্ধির কথা বলেছেন, বাংলাদেশের সুনীল অর্থনীতি ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের কথা বলেছেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ একই  ধরনের প্রত্যাশা ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, রাশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও করে থাকে। বাংলাদেশের ভারসাম্য বজায় রাখার যে  কূটনীতি, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখার যে কূটনীতি, সেই কূটনীতির আলোকেই এ সফরটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে এ সফর নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি কিংবা বিভ্রান্তির অবকাশ নেই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতবারই রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশে গিয়েছেন দেশে ফিরে ততবারই তিনি গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলন করার বিষয়টিকে রেওয়াজে পরিণত করেছেন। শুধু সরকারি সফরই নয়, অন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ কোনো সংস্থায় অংশগ্রহণ শেষেও তাকে দেশে এসে সংবাদ সম্মেলন করতে দেখা গেছে। শুধু বিভিন্ন মিডিয়ার সিনিয়র সাংবাদিকরাই এ সম্মেলনের বিষয়ে আগ্রহী থাকেন, তা নয়। দেশের রাজনীতি সচেতন যে কেউই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের প্রতি বিশেষ আগ্রহ প্রদর্শন করে থাকেন। এবারও চীন সফরের  শেষে গণভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের রাজনীতি সচেতন যে কেউই এই সংবাদ সম্মেলনের প্রতি বিশেষ আগ্রহ  প্রদর্শন করে থাকেন। এর প্রধান কারণ হচ্ছে সংবাদ সম্মেলনে তিনি কেবল একটি লিখিত পত্র পাঠের পর সবাইকে বিদায় নেয়া কিংবা চা পানের আমন্ত্রণ জানান না বরং দেশের সমসাময়িক নানা ঘটনার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক প্রশ্নের উত্তর দিতে মোটেও কুণ্ঠা বোধ করেন না। বরং তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠের চাইতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তার এই বলার মধ্যে কোনোরকম রাখ-ঢাক তিনি করেন না। যা তার কাছে সত্য বা অপ্রিয় হলেও তিনি বলে যান। এবারও তাই হয়েছে। সর্বশেষে বলা যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কূটনীতি ও পররাষ্ট্রনীতির মূল চেতনার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন এ চীন সফরের মাধ্যমে। ভারতের ক্ষেত্রেও তিনি সেটি দেখাতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো বৃহৎ শক্তির শীর্ষ বৈঠক নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি কিংবা কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ নেই।

লেখক: গবেষক ও অর্থনীতিবিদ।

বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই/এসএএম//


Comment As:

Comment (0)