মুনতাসির মামুন (2)

প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রবাসীর খোলা চিঠি

প্রিয় ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যার,
আপনি অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন জেনে আমরা পবাসীরা খুবই আনন্দিত। আমার মতো ক্ষুদ্র মানুষের খোলা চিটি আপনার দৃষ্টিগোচর হবে কিনা- জানি না, তবুও একটু চেষ্টা করা। 

প্রিয় স্যার আপনি বিশ্ববরেন্য ব্যক্তি। আপনার হাত ধরে আমরা মাহথিরের মালয়েশিয়ার মতো হওয়ার স্বপ্ন দেখি। আপনি অনেক অভিজ্ঞ এবং সিনিয়র সিটিজেন। দেশ-বিদেশ থেকে আপনি অনেক সম্মাননা পেয়েছেন। আপনার জীবনে চাওয়া পাওয়ার আর কিছু নাই। তাই ছাত্র-জনতার রক্ত আপনি কোনোভাবেই বৃথা যেতে দিবেন না- এটি অবশ্যই আমাদের সকলের বিশ্বাস। আওয়ামীলীগের লুটপাটকারী অংশ বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ বাংলাদেশ আপনার সাথে আছে। আমরা যারা প্রবাসে থাকি তাঁরাও সবাই আপনার সাথে আছি।

স্বাধীনতার পর হতে গত ৫৩ বছর ধরে একই খেলা দেখছি। যারাই ক্ষমতায় আসে ক্ষমতা আর ছাডতে চায় না, চিরস্থায়ী করতে চায় এবং এক পর্যায়ে স্বৈরচার ও একনায়ক হয়ে যায়। 
আমি ৪০ বছর যাবত দেশে এবং বিদেশে রাজনীতিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। বাংলাদেশ এবং কানাডায় সরকারী চাকুরীর কল্যানে আমি দুটি দেশের সরকার পদ্ধতি এবং সিষ্টেমই কাছে থেকে দেখছি।

আমাদের দেশের এই নোংরা খেলা কখনও শেষ হবে না যতক্ষন পর্যন্ত মূল জায়গায় হাত না দেই। চারটি তত্ববধায়ক সরকারের অধীনে বাংলাদেশের নির্বাচন কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। রাতে ভোট, দুই নম্বরী ভোট এবং বিরোধীবিহীন ভোট করে যেমন শেখ হাসিনা একনায়ক ও স্বৈরচারী হয়েছে তেমনি ফেয়ার ভোটের সরকারগুলো প্রথম দুটি বাদে স্বৈরচারী হয়েছে।িআর এর কারন হলো absolute power, absolute corruption. একক ক্ষমতা এবং আজীবন ক্ষমতায় থাকার স্বাদ কখনও বন্ধ হবে না যদি আমরা বর্তমান ব্যবস্থা বহাল রাখি। তাই মূল জায়গায় হাত দিতে হবে।

আর মূল জায়গাটা হলো সংবিধানের আমূল পরিবর্তন। 

Western democracy এর আলোকে এবং আমাদের নিজস্ব attitude এর কারনে আমার মনে হয়েছে নিন্মবর্নিত পরিবর্তনগুলো জরুরী:

১। কেউ দুই বারের বেশী প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না,
২।  প্রত্যেক দলের সংসদ সদস্য প্রার্থী হবে সংশ্লিষ্ট এলাকার কর্মীদের ভোটে,
৩। পারিবারিক যোগ্যতা নয় নিজের মেধা ও যোগ্যতা সকল ক্ষেত্রে নেতা নির্বাচনের মাপকাটি হবে,
৪। প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য থাকতে হবে,
৫। সকল সাংবিধানিক পদ যথা- নির্বাচন কমিশন, পিএসসি ও দুদুকের চেয়ারম্যান এবং প্রধান বিচারপতি হবে সকল বড় দলের ঐক্যমতের ভিত্তিতে, 
৬। দলীয় প্রধান নির্বাচন হবে সরাসরি কর্মীদের ভোটে,
৭। ডিসি, ইউএনও পদ বিলোপ করে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা থাকবে জেলার এবং উপজেলার সমন্বয়কারী হিসেবে,
৮। প্রদেশ সৃষ্টি করে অর্থ, প্রতিরক্ষা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় কেন্দ্রের কাছে রেখে অবশিষ্ট ক্ষমতা প্রদেশে বিকেন্দ্রীকরন করতে হবে,

উপরোক্ত সংস্কার ব্যতীত আমাদের দেশে যে জাতীয় বিভক্তি হয়েছে- তা দূর হবে না এবং স্থায়ী শান্তি আসবে না । যদিও এগুলো করতে সংসদের ২/৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগবে, তবুও যদি অধ্যাদেশ আকারে যতগুলো সংস্কার সম্ভব করে ফেলতে পারেন তাহলে পরবরতীতে কেউ আর পরিবর্তন করার দু:সাহস দেখাবে না।

উল্লেখ্য, আমরা বার বার রক্ত দিয়েছি কিন্তু প্রতিবারই রক্ত বৃথা গিয়েছে, এবার আশা করি আপনার নেতৃত্বে শত শত শহীদের রক্তের প্রতিদান পাবো।

ইতি:

প্রকৌশলী মো: মুনতাসির মামুন

পি. ইন্জি, পিএমপি 
কানাডা। 


Comment As:

Comment (0)