কোম্পানির ক্যাটাগরি নির্ধারণ করুন ক্যাশ ডিভিডেন্ডের ভিত্তিতে
পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত কোম্পানিগুলো হিসাব বছর শেষে একের পর বোনাস শেয়ার ইস্যু করছে। আর এরফলে স্টক এক্সচেঞ্জের ক্যাটাগরি পরিবর্তন হচ্ছে। পরিচালকরাও বোনাস শেয়ার বিক্রি করে মোটা অঙ্কের মুনাফা নিচ্ছে। কিন্তু সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কি পাচ্ছে? যে বোনাস শেয়ার পাচ্ছে এতে থিউরিটিক্যাল অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে যেই লাউ সেই কদুই থাকছে। বোনাস শেয়ারটা কি আদৌ কোনো ডিভিডেন্ড? মূল ডিভিডেন্ড বলে যা বোঝানো হয় সেটাই হচ্ছে ক্যাশ ডিভিডেন্ড। বোনার শেয়ার ইস্যু করলে কোম্পানির ক্যাশ ফ্লোতে এর কোনো প্রভাব নেই। মাইনরিটি শেয়ারহোল্ডারদের কপালে কাগজ ছাড়া আর কিছুই মেলে না।
তাই স্টক এক্সচেঞ্জের ক্যাটাগরি নির্ধারণে ক্যাশ ডিভিডেন্ডকে প্রাধান্য দেয়া উচিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অর্থাৎ ক্যাশ ডিভিডেন্ডের ওপর ভিত্তি করেই কোম্পানির ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা উচিত। কিছু কোম্পানি নিজেদের তৈরি করা বিপুল পরিমাণ ব্যাংক ঋণের দায় ঘোচাতে বা ব্যবসা বাড়াতে বাজার থেকে টাকা নিচ্ছে। অথচ এসব কোম্পানিতে নগদ টাকা বিনিয়োগ করেও বিনিয়োগকারীদের স্টক ডিভিডেন্ডের নামে কাগজ ছাড়া কিছুই মেলেনি। কোম্পানিগুলো যদি ব্যাংক থেকে ঋণ নিতো তাহলে বছর শেষে সুদের টাকা পুরো হিসেব কষেই দিতে হতো।
কিন্তু পুঁজিবাজারকে তারা টাকার খনি মনে করে যা ইচ্ছে তাই করে যাচ্ছে। এখানে তাদেরকে নগদ টাকা পরিশোধের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। একেতো শুধুই স্টক ডিভিডেন্ড তারওপর পরিচালকদের সেই বোনাস শেয়ার বিক্রি- মনে হচ্ছে পুরো লুটতরাজের কারখানা এই শেয়ারবাজার। এগুলোর ভবিষ্যত কি?
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একটি কোম্পানি যখন কোনো ধরণের এক্সপানশন ছাড়াই শুধু স্টক ডিভিডেন্ড দিতে থাকে তখন সেগুলোতে বিনিয়োগ না করাই ভাল। তারওপর যদি পরিচালকদের বোনাস বিক্রির ঘোষণা থাকে তাইলে তো আর কথাই নেই। এক পর্যায়ে এমন এক পরিস্থিতিতে এসে পৌছায় শুধুমাত্র কাগজ ধরিয়ে দেয়া ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। কারণ কোম্পানির পেইড আপ আর ব্যবসার সাথে কোন ধরণের সংগতি থাকে না।
এখনো এ সংক্রান্ত কোনো আইন হয়নি যে, লো-পেইড আপের কোম্পানি ছাড়া কোনো কোম্পানি শুধুমাত্র স্টক ডিভিডেন্ড দিতে পারবে না। বছরের বছর পর স্টক ডিভিডেন্ড দিয়ে বিনিয়োগকারীদের পোর্টফলিওতে শেয়ার যোগ করবে আর নিজেরা বসে বসে ঘি খাবে তা হতে পারে না। বর্তমান পুঁজিবাজারে কোম্পানিগুলো অনেক জবাবদিহিতার আওতায় এসেছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। এখন বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এই বিষয়টিও যদি নিয়ন্ত্রক সংস্থা সদয় বিবেচনা করে তাহলে এই বাজারে আরও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
(বিনিয়োগবার্তা/ ২০ ডিসেম্বর ২০১৭)