অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামালকে লেখা একজন বিনিয়োগকারীর খোলা চিঠি
অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামালকে খোলা চিঠি লিখেছেন দেশের পুঁজিবাজারের একজন বিনিয়োগকারী। সম্প্রতি ইনভেস্টর ডেভেলপমেন্ট ক্লাব নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে আপলোড দেওয়া বিনিয়োগকারী মো: মাহবুবুল আলম সিদ্দিকীর লেখা খোলা চিঠিটি বিনিয়োগবার্তা’র পাঠকদের উদ্দেশে হুবুহু তুলে ধরা হলো:
মাননীয় অর্থমন্ত্রী মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ
মাননীয় মন্ত্রী
আপনি বিদেশ থেকে দেশে ফিরেই ছুটির দিনে নাজুক পরিস্থিতির স্বীকার পুঁজিবাজার নিয়ে মিটিং করবেন এমন খবরে পুঁজি হারানো অসহায় মানুষগুলো আশার আলো দেখার জন্য অধির অপেক্ষায় আপনার মিটিং এর কাল গুনছিল। তাদের প্রত্যাশার মিটিংটা আপনি করলেন, বাজার নিয়ে মুখও খুললেন কিন্তু বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশার সাথে আপনার বক্তব্য ছিল ঠিক উল্টো। সবাইকে হতাশ করে কি যে সব উল্টাপাল্টা বললেন আর পরদিন থেকেই বাজারের দখল চলে গেল কারসাজিকারীদের হাতে। তারা আপনার স্বাভাবিক বাজারের সংগাকে সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করে, অসহায় মানুষগুলোর বুকের উপর স্টীম রোলার তুলে দিল।
মাননীয় মন্ত্রী
মন্ত্রীপরিষদ গঠনের আগেই যখন জানতে পারলাম আপনি অর্থ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে আসছেন, আমরা স্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম যে আপনার যথাযথ যোগ্যতা দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতিতে নতুন কিছু যোগ করবেন। সেই সাথে দীর্ঘদিনের অবহেলিত পুঁজিবাজার প্রাণ ফিরে পাবে। আমরা ভুলে যেতে চেয়েছিলাম ২০১০ সালের মহাপতনের সময় সূচক যখন ১০৫০০ থেকে কমে ৫৫০০ তে, মানুষের কান্না আর আহাজারিতে বাংলার আকাশ-বাতাশ স্তব্ধ, পুঁজিহারা দিশেহারা মানুষ ২/৪ জন আত্নহত্যাও করে পৃথিবী থেকে বিদায় নিল; ঠিক তখন জন-মানুষের নেতা হয়ে আপনিই বলছিলেন বাজার এখনও অতিমূল্যায়িত, সূচক ২৩০০ হলে স্বাভাবিক। তারপর দিন থেকেও বাজারে পতনের বন্যা বয়ে গিয়েছিল। আপনি আবারও ২০১৯ সালে তেমন বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করলেন- “বাজার কত নামতে পারে আমি দেখতে চাই”। দুষ্ট লোকগুলো এবারও সুযোগ নিল- বাজারকে ঠেলে দিল পতনের ধারায়। আর এই পতন চলাকালেই জরুরী মিটিংয়ে আপনি মন্তব্য করলেন বাজার স্বাভাবিক আছে।
মাননীয় মন্ত্রী
আপনি ছেলেবেলায় টিউশনি করে পড়ালেখা করেছেন, অনেক মেধাবী ছাত্র ছিলেন, অভাব আর দারিদ্রের সাথে অনেক যুদ্ধও করেছেন। তাই পুঁজিহারানো অসহায় মানুষগুলোর কষ্টের কথা আপনারতো অন্তত বোঝার কথা। আপনি দয়া করে কালো চশমা খুলে ভিক্টিম মানুষগুলোর দিকে সাদা চোখে তাকান; ওদের কস্টটা অনুভব করতে চেষ্ঠা করেন। এতবার ভেবে দেখেন-এই অসহায় মানুষগুলো কিভাবে শোষনের স্বীকার হচ্ছে, প্রতারক সিন্ডিকেট চক্র কিভাবে বাজারকে নিয়ন্রন করছে। পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্বশীল পদে থেকে কিভাবে দূর্নীতিকে প্রতিষ্ঠা করে বাজারকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। পূরো প্রক্রিয়াটাই অনিয়মতান্ত্রিকভাবে এগুচ্ছে, এটা জাতির জন্য কি ম্যাসেজ দিচ্ছে? দেশের জনগন অনেক সচেতন, কোন কথার কি অর্থ, কোন কাজের কি ফল- সবাই বুঝতে পারে।
মাননীয় মন্রী
পুঁজিবাজার বনাম আওয়ামীলীগ সরকার-এই বিষয়ে সবার মাঝে প্রতিষ্ঠিত সত্য হল-এখানে আওয়ামীলীগ লোটপাট করে। বাজারে যত কারসাজি- এর দায় আওয়ামীলীগের। ছাত্র জীবনে জাতির জনকের আদর্শ আর শেখ হাসিনার প্রতি অগাধ শ্রদ্ধাবোধ থেকে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি; সেটা এখনও করছি। শেখ হাসিনার আদর্শকে এখনও লালন করি, সন্মান করি। তাই শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে বিশোধগার শুনলে এখনও গায়ে আগুন জ্বলে। দয়া করে পুঁজিবাজারে আওয়ামী সরকারের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে একযুগে কাজ করুন। মনটা শুধু স্থির করুন, ভাল কিছু করতে চাইলে অসৎ মানুষগুলোকে, কারসাজির মূল হোতাদের, রক্ষক হয়ে যারা ভক্ষকের ভূমিকায় আবির্ভূত হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিন, আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করুন; কোন প্রকার তদবির ছাড়াই বাজার ভাল হয়ে যাবে।
মাননীয় মন্ত্রী
পুঁজিবাজারের ক্রান্তিকালে সবার প্রত্যাশিত আপনার মিটিং আপনার মন্তব্য যখন গণমানুষের প্রত্যাশার বিরুদ্ধে যায়, বাজারে ইতিবাচক প্রভাব না পরে বাজার পতনে রূপ নেয়; তখন সবাই ধরেই নেয়- আপনার বক্তব্যগুলোও কারসাজিরই অংশ; যা খুবই দুঃখজনক। এমন ঘটনায় খুবই ব্যাথিত এবং মর্মাহত হই।
মাননীয় মন্ত্রী
আপনার কাছে লাখ কোটি মানুষের যে প্রত্যাশা সেটাকে বাস্তবে রূপ দিন। মানুষের ভালবসায় নিজেকে উদ্ভাসিত করুন, ভাল কাজে নিজেকে উৎসর্গ করুন। মানুষের মৃত্যুর কোন গ্যারান্টি নাই, কে-কদিন বাচবে আমরা কেউ জানিনা। যারা প্রচুর অর্থবিত্তের মালিক হয়, প্রাচুর্য অর্জন করে, তারা কেউই মৃত্যুর সময়ে কবরে কিছুই নেয়ার সুযোগ পায়না। তবে লাখো কোটি মানুষের ভালবাসা অর্জনকারী মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়া মানুষের ,জনমানুষের প্রকৃত নেতার মৃত্যুর পর লাখ মানুষের ঢল নামে তাকে এক নজর শেষ দেখা আর শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। আর সেইসকল মানুষ মৃত্যুর পরও যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকে মানুষের ভালবাসায়।
মাননীয় মন্ত্রী
আপনি চাইলে পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফেরানো বাজারকে স্বাভাবিক করতে সময় লাগবে সর্বোচ্চ ৭ দিন। আল্লাহ আপনাকে মানুষের কল্যানে কাজ করার তৌফিক দান করুন।
আপনার মত সকল মন্ত্রী মহোদয়দের একাগ্রচিত্তে দেশ এবং মানব সেবায় মনোযোগ, দায়িত্বশীলতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের সোনারবাংলা বিনির্মানে স্তম্ভ হিসেবে কাজ করবে।
মাননীয় মন্ত্রী
অসহায় মানুষদের দুঃখ দুর্দশা লাঘবে সময়োপযোগী সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের পাশে দাড়াবেন, আমাদের সকল সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নিবেন। আপনার জন্য অগ্রীম শুভেচ্ছা, আমাদের জন্য স্বনিয়ন্ত্রিত একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার পুনর্গঠনে, দায়িত্বশীল একজন অভিভাবক হিসেবে আপনাকে দেখতে চাই।
একটি সুন্দর পরিচ্ছন্ন বিনিয়োগ উপযোগী পুঁজিবাজার বিনির্মানের জন্য দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহনে আপনাকে স্বাগতম।
ধন্যবাদ।
মো: মাহবুবুল আলম সিদ্দিকী, পুঁজিবাজারের একজন সাধারণ বিনিয়োগকারী।