বাংলাদেশের টেরিটাওয়াল ও বেডসিট শিল্প বাঁচান

মোঃ সাইফুল ইসলাম: বাংলাদেশের টেরিটাওয়াল ও বেড সিট উৎপাদন সেক্টর প্রায় ধ্বংসের মুখে। চলমান পরিস্থিতিতে এই খাতের প্রায় ৬০ শতাংশ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ঋনের দায়ে জর্জরিত প্রায় প্রতিটি কারখানা। এই খাতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ পাকিস্তান। পাকিস্তানের সাথে পণ্য মূল্যে কোনভাবেই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে না বাংলাদেশের এই শিল্প।

যেখান বাংলাদেশের রপ্তানি আয় প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৮৪.৬৪ টাকা সেখানে আজকের রেট অনুযায়ী, পাকিস্তানে রপ্তানি আয় প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ১৫৬ পাকিস্তানি রুপি।পাকিস্তানের উৎপাদনকারিরা মার্কিন ডলারের বিপরীতে যে আয় করছেন, সে অনুসারে তারা বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় ২৫ শতাংশ কম মূল্যে ক্রেতাদের সেবা দিচ্ছেন। আর এ কারনে বিদেশি ক্রেতারা প্রায় সবাই বাংলাদেশ থেকে তাদের সকল অর্ডার পাকিস্তানে নিয়ে গেছেন। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাত বিশেষত টেরিটাওয়াল, বেড সিট, পর্দা, টেবিল লিলেন ও কিচেন টাওয়াল উৎপাদনকারিরা তাদের ব্যবসা গুটিয়ে ফেলছেন এবং ঋণখেলাপি হয়ে যাচ্ছেন। এহেন পরিস্থিতিতে বেকার হয়ে পড়ছেন এই খাতে জড়িত লক্ষ লক্ষ শ্রমিক-কর্মী।

যদিও এই মূহুর্তে বাংলাদেশে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন আমদানি খাতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে, এতে জীবন যাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন হবে। তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে এই খাতকে বাঁচিয়ে রাখতে মাননীয় শিল্পমন্ত্রী, বানিজ্যমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং সর্বোপরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন এই খাত রক্ষা করুন। এলক্ষ্যে প্রয়োজনে প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।

আমি মনে করি, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাময়িক সময়ের জন্য এই খাতে ১৫ শতাংশ বিশেষ প্রণোদনা ঘোষনা করা হলে উৎপাদন ও রপ্তানিকারকগন বিক্রয় মূল্য পুন:নির্ধারণ করে বিদেশী ক্রেতাদের আবার এই দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। পরবর্তীতে যখন মার্কিন ডলারের মূল্য মান বাংলাদেশ ও পাকিস্তান প্রায় কাছাকাছি আসবে, তখন এই বিশেষ প্রণোদনা তুলে নিলেও এই খাত আবার প্রান ফিরে পাবে এবং ঋণে জর্জরিত প্রতিষ্ঠানগুলো আবার ঋণ পরিশোধে সামর্থ্যবান হবে। বাংলাদেশের এই খাতের পণ্যের মান বিদেশীদের খুবই পছন্দ; শুধু মূল্য মানের বড় পার্থক্যের কারনে বিদেশী ক্রেতারা আমাদের দেশ থেকে আমদানি বন্ধ করে দিয়েছেন। তাই বিষয়টিতে নজর দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী মহলের প্রতি জোরালো অনুরোধ জানাচ্ছি।

লেখক: মোঃ সাইফুল ইসলাম, সাংবাদিক ও তরুন উদ্যোক্তা।

(এমএসআই/ এসএএম/ ২৪ অক্টোবর ২০১৯)


Comment As:

Comment (0)