বিশাল বাজেটেও নতুন কিছু নেই, কীভাবে অর্থনীতিতে অবদান রাখবে পুঁজিবাজার

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে পুঁজিবাজারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিষয়টি সর্বজনস্বীকৃত। বিশ্বের অন্যান্য দেশের অর্থনীতিতে পুঁজিবাজারের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। সে তুলনায় আমাদের পুঁজিবাজার অনেক পিছিয়ে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে অর্থনীতিতে পুঁজিবাজারের সম্পৃক্ততা ও অবদান বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নেয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য তেমন নতুন কিছুই নেই। পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বাজেটের আগে বেশকিছু প্রস্তাবনা দেয়া হলেও এবারের বাজেটে সেগুলোর কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।

গত ০১ জুন জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য প্রায় সাড়ে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট পেশকালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত পুঁজিবাজারের এরই মধ্যে যেসব সংস্কার কার্যক্রম করা হয়েছে, সেগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন। এর বাইরে পুঁজিবাজার নিয়ে তিনি তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু বলেননি।

এবারের বাজেটে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) আয়কে করমুক্ত রাখা হয়েছে।

তাছাড়া করপোরেট করের হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এর ফলে তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে আগের মতোই ৪০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। আর অতালিকাভুক্ত ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ হার ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ।

আগের মতোই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে ২৫ শতাংশ এবং অতালিকাভুক্ত কোম্পানিকে ৩৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। একইভাবে তালিকাভুক্ত মোবাইল ফোন কোম্পানির করহার ৪০ শতাংশ এবং অতালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে ৪৫ শতাংশ করহার নির্ধারণ করা হয়েছে। মার্চেন্ট ব্যাংকের ক্ষেত্রে আগের মতোই সাড়ে ৩৭ শতাংশ করহার বহাল রাখা হয়েছে।

সব ধরনের অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডকে কর অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানত ও সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে মূসক অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। একইভাবে জীবন বীমা ও অগ্নি বীমা পলিসিকে মূসক অব্যাহতির আওতায় আনা হয়েছে।

এছাড়া স্টক এক্সচেঞ্জ ও সিকিউরিটিজ-সংক্রান্ত কার্যক্রমকেও মূসক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

এদিকে বাজেটে পুঁজিবাজার নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো ঘোষণা না থাকায় হতাশার মধ্যে রয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, স্টক এক্সচেঞ্জকে পাঁচ বছরের জন্য সম্পূর্ণ কর অবকাশ সুবিধা প্রদান, ব্যক্তিশ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের করমুক্ত লভ্যাংশের সীমা ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা নির্ধারণ এবং লভ্যাংশের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দ্বৈত করের বৈষম্য থেকে মুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় ছিল, যেগুলো বাস্তবায়ন করা হলে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ত।

দেশের অর্থনীতিতে পুঁজিবাজারের অবদান বাড়ানো নিয়ে এরইমধ্যে নানা ধরনের আলাপ আলোচনা উঠে এসেছে। বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন কর্তাব্যক্তিরাও বিষয়টিতে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছেন। কিন্তু প্রস্তাবিতি বাজেটে এর কোনো প্রতিফলন দেখাতে পারেনি সরকার।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এতো বড় বাজেটেও যদি পুঁজিবাজারের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সেক্টর কোনো ধরনের সুযোগ সুবিধা না পায়, তাহলে কীভাবে দেশের পুঁজিবাজার জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখবে, কীভাবেইবা এই বাজার আরও বিস্তৃত হবে-তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে বিষয়গুলো নিয়ে এখনো দরকষাকষির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে এ বাজারের জন্য কিছু সুযোগ-সুবিধা বের করে আনতে পারাই হবে পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক।

(বিনিয়োগবার্তা/ ১০ জুন ২০১৭)


Comment As:

Comment (0)