পুঁজিবাজারে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে ‘বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম’কে আরও বেগবান করুন
দেশের পুঁজিবাজারকে গতিশীল এবং এ বাজারের বিনিয়োগকারীদের শিক্ষিত ও সচেতন করে গড়ে তুলতে ‘দেশব্যাপি বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম’ হাতে নিয়েছে সরকার। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)এর নতুন ভবন উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে দেশব্যাপি ‘বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম’ এর ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই থেকে বিএসইসির নির্দেশনায় দেশের পুঁজিবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল স্টেকহোল্ডার যেমন-ডিএসই, সিএসই, ব্রোকারেজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক, এ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, আইসিএমইবি, আইসিএসবি, বিআইসিএমসহ সকলেই এই বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।
এছাড়া বিশ্ব পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাসমূহের সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনস (আইএসকো) কর্তৃক ঘোষিত প্রথমবারের মতো ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টরস উইক’ বা ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ-২০১৭ সম্প্রতি সফলভাবে পালন করা হয়েছে। গত ০২ থেকে ০৮ অক্টোবর বিশ্বব্যাপি একযোগে এই অনুষ্ঠানটি পালন করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ দেশের বিনিয়োগকারীদের পুঁজিবাজারে আকৃষ্ট করতে এবং তাদের শিক্ষিত ও সচেতন করতে এসব কর্মসূচি বিশাল জাগরন সৃষ্টি করেছে। দেশের সাধারন মানুষসহ সকল শ্রেনী-পেশার মানুষের মধ্যে এই কর্মসূচিসমূহের মাধ্যমে পুঁজিবাজার নিয়ে আলোরন সৃষ্টি হয়েছে। এখন মানুষ পুঁজিবাজার নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেছে। এ বাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে বিভাবে রাভ খুঁজে পাওয়া যাবে, কোন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে হবে, বিনিয়োগের আগে কি কি বিষয়ে ভাবতে হবে-এসবের প্রায় সব বিষয়াদিই এসব আয়োজনের মধ্যে উঠে এসেছে। তাই সংগত কারনেই এই বিনিয়োগ শিক্ষা কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ দেশের মানুষের শিক্ষার হার খুব বেশি নয়। এছাড়া পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বিষয়টি অনান্য খাতে বিনিয়োগের মতো নয়। এটি এমন একটি বাজার যেখানে বিনিয়োগের জন্য কম বেশি স্টাডি করার প্রয়োজন রয়েছে। পৃথিবীর অনান্য দেশের জাতীয় অর্থনীতে পুঁজিবাজারের অবদান অনেক হলেও আমাদের এখানে এখনো তা হয়ে উঠেনি। অথচ, এ দেশের পুঁজিবাজারের অমিত সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিনিয়োগ শিক্ষাকে পৌছে দিতে হবে। বিভিন্ন সভা সেমিনার, টকশো, রোডশো, বিজ্ঞাপনসহ নানাবিদ কর্মসূচির মাধ্যমে এ বাজারের প্রতি জনসাধারনের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। দেশের আপামোর জনগন যদি এ বাজার সম্পর্কে বুঝতে পারে, তাহলে এখানে অনেক বিনিয়োগকারী আসবে, তারা এ বাজারে বিনিয়োগ করবে। আর এটি করতে হলে একমাত্র উপায়ই হল ‘বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম’ বেগবান করা। তাই দেশের পুঁজিবাজারের উজ্জল ভবিষ্যৎ বিবেচনায় দেশব্যাপি ‘ফিনান্সিয়াল লিটারেসি প্রোগ্রাম বা ‘বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম’কে আরও বেগবান করতে হবে।
(বিনিয়োগবার্তা/ ০৯, অক্টোবর, ২০১৭)